একালের সুখী মানুষের গল্প

১৩৬৯ পঠিত ... ১৯:৫৩, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। অনেক অনেক দূরে ছিল এক রাজ্য, নাম ‘অসুখপুর’। সেই রাজ্যের কোথাও কোনো সুখ ছিল না।

সুখ থাকুক না থাকুক, রাজ্য থাকলে রাজাও থাকবে, তাই তো নিয়ম! সেই রাজ্যেও ছিলেন এক রাজা। কিন্তু তিনি দিনে দিনে বৃদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। হুট করে একদিন বৃদ্ধ রাজা অজানা এক অসুখে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। দূর-দূরান্ত থেকে হাকিম আসে, বদ্যি আসে, কবিরাজ আসে, কেউই রাজার চিকিৎসা তো দূরের কথা, কী অসুখ তাই ধরতে পারে না।

অলংকরণ: রেহনুমা প্রসূন

রাজার মন্ত্রী-উজিররা রাজাকে একটু ভালো ফিল করাতে তাকে ইউটিউবে নানান মজার ভিডিও দেখালেন, নেটফ্লিক্সে মুভি দেখালেন, জি বাংলায় মীরাক্কেল দেখালেন, তবুও রাজার অবস্থার কোনো উন্নতি হলো না। রাজা দিন দিন নাম না জানা সেই অসুখে আরো বিষন্ন হয়ে উঠতে লাগলেন।

এভাবেই চলছিল রাজার অসুখের দিন। এরপর একদিন, হঠাৎ রাজার মহলে হাজির হলেন এক জ্ঞানী মানুষ। তিনি রাজার শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে রাজাকে দেখলেন। রাজা তখন এফএম রেডিও শোনার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তাতেও ভালো ফিল না করায় রাগ করে ছুড়ে হেডফোন ছুড়ে মারলেন! জ্ঞানী মানুষটি এই দৃশ্য দেখে মন্ত্রীকে বললেন, তিনি রাজাকে সুস্থ করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন। একজন সুখী মানুষের ডিশের লাইনের ক্যাবল ব্যবহার করে টিভি দেখলেই রাজা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

উজির আর মন্ত্রী মিলে বেরোলেন সুখী মানুষের খোঁজে। গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার কিছুই বাদ গেলো না। কত মানুষ রাজ্যে, অথচ কী অদ্ভুত, কোথাও কোনো সুখী মানুষ নেই!

পুরো রাজ্যে একটাও সুখী মানুষ খুঁজে না পেয়ে উজির আর মন্ত্রী যখন হতাশ হয়ে ফিরছেন, ঠিক তখনই তারা দেখলেন, রাজপ্রাসাদের সামনেই এক ফলের দোকানে বসে এক লোক মনের সুখে একটু পরপর মিচমিচ করে হাসছে আর বাতাবি লেবু খাচ্ছে। উজির আর মন্ত্রী পরস্পরের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এই তো পাওয়া গেছে সুখী মানুষ!'

উজির লোকটিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি সুখী মানুষ?'

প্রশ্ন শুনে লোকটার সুখ যেন আরো বেড়ে গেলো! সে মুখে আরো কিছু বাতাবি লেবু গুজে দিয়ে চিবোতে চিবোতে বললো, ‘হ রে ভাই। ম্যালা সুখ!’

মন্ত্রী ব্যাপারটা ভ্যারিফাই করতে জিজ্ঞেস করলেন, 'গোটা রাজ্যে একটা মানুষও সুখী না, অথচ তুমি তো দিব্যি সুখে আছো। কীভাবে তোমার মনে এত সুখ?'

লোকটি এবার সুখের চোটে বিস্মিত হয়ে বললো, ‘দেশে কি সুখে না থাকার মতো কিছু ঘটে নাকি? কী সব গুজব কইতাছেন এইগুলা! সারা দেশে শুধু সুখ আর সুখ! যেইদিকে তাকাই, খালি উন্নয়ন আর উন্নয়ন। এইসব দেইখা কি সুখে না থাকার কোনো উপায় আছে কন?’

উজিরের চোখ কপালে উঠলো! সে উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘কে দিয়েছে তোমাকে এত সুখের খবর? কে দিয়েছে?’

লোকটি ফিকফিক করে প্রশান্তিময় এক হাসি হেসে বললো, ‘কেন? বিটিভি! আমি নিয়মিত বিটিভি দেখি। ক্যান, আপনেরা দেখেন না?’

মন্ত্রী আর উজির বুঝলেন, তারা তাদের সুখী মানুষ পেয়ে গেছেন। মন্ত্রী লোকটিকে রাজার অসুখের কথা জানিয়ে তার ডিশের লাইনের ক্যাবলটি চাইলেন। লোকটি অবাক হয়ে বললো, ‘এডি কী কন? আমার বাসায় তো ডিশের লাইনই নাই! ওয়াইফাই ইন্টাররেন্ট কিচ্ছু নাই। আমি খালি বিটিভি দেখি। ডিশের ক্যাবল না থাকলে দিমু কই থেইকা?’

মন্ত্রী আর উজির পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলেন। সুখী মানুষটি তখনো হাসছে। হাসতে হাসতে সে বললো, ‘স্যারেরা, যাই। বিটিভির রাইত ১০টার খবরটা মিস দেওন যাইব না!’

১৩৬৯ পঠিত ... ১৯:৫৩, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top