একটি বাসযাত্রায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্পর্কে যা জানা গেলো

২২৩৯পঠিত ...১৬:২২, মে ০৩, ২০১৮

বাসে ওঠা মাত্র লোকটা নাটকীয় গলায় বললো, ‘এই বাসে পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, বিডিআর, সেনাবাহিনীর লোকজন কে কে আছেন?’

আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। লোকটার কথা শুনে নড়ে চড়ে বসলাম। হোক না সুপারিশপ্রাপ্ত, সবকিছু ঠিক থাকলে পুলিশের উর্দি গায়ে চাপাতে খুব বেশি সময় আমার লাগবে না। কিন্তু লোকটা আমাদের খুঁজছে কেন?

আমি ভালো করে লোকটার দিকে তাকালাম। মাঝবয়সী পেটানো শরীরের মানুষ। মুখে পেল্লায় গোঁফ। যত্নের সাথে কলপ করা চুল। পরনে লাল চেক শার্ট, কালো ফুল প্যান্ট, পায়ে বেল্টের স্যান্ডেল। লোকটার কপালে চকচক করছে ঘাম।

এখন বৈশাখ মাস। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু দিনের বেলা সূর্যের প্রখর তাপ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। অঙ্গারের মতো জেদ নিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে প্রকৃতি। ঢাকা শহরে খুব বেশি গাছপালা নেই। আচ্ছে ইট-কংক্রিটের স্তুপ। সৌর তাপ সেখানে জমা হচ্ছে আর গরমে হাঁসফাঁস করছে স্তুপবাসী মানুষ।

লোকটা এবারে গলার স্বর বাড়িয়ে বললো, ‘কী? কেউ নাই পুলিশ-মিলিটারি?’

কন্ডাক্টর এতোক্ষণ ভাড়া তুলছিল, সে থমকে গেল। এমনকি মাথা গরম ড্রাইভার যে আরেক ড্রাইভারকে ‘রোহিঙ্গার ঘরের রোহিঙ্গা’ বলে গাল দিয়ে বাস চালাচ্ছিল সেও ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো।

লোকটা বললো, ‘পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, বিডিআর, সেনাবাহিনীর কেউ যদি থাকেন তাইলে আমার স্যালুট।’

অলংকরণ: সালমান সাকিব শাহরিয়ার

যাত্রীদের উৎসাহে ভাটা পড়লো। ড্রাইভার পিচিক করে থুতু ফেলে অন্য ড্রাইভারদের গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলো। যাত্রীরা ব্যস্ত হয়ে পড়লো নিজ নিজ কাজে। এই ব্যাডার কতা হুইনা কাম নাই।

লোকটা মোটেই ভড়কাল না। চোয়ালে দৃঢ়তা ফুটিয়ে বললো, ‘খালি স্যালুট না। আমার একটা চ্যালেঞ্জ আছে। পুলিশ-মিলিটারিগো চ্যালেঞ্জ করতাছি।’

বাসভর্তি মানুষ এবারে থমকে গেল। ঝড়ের আগে যেমন হয়, তেমন গুমোট হয়ে গেল বাসের পরিবেশ। যাত্রীদের মনোযোগ পেয়ে লোকটার দৃঢ় গলায় বললো, ‘তাগো অনেক ক্ষমতা। ঠিক না বেঠিক?’

যাত্রীরা বললো, ‘ঠিক।’

‘বাংলাদেশে তারাই বস। ঠিক না বেঠিক?’

যাত্রীরা আরো তীব্র গলায় বললো, ‘ঠিক।’

‘চাইলে আমগোরে জেলে দিতে পারেন। ঠিক না বেঠিক?’

যাত্রীরা এবারে চিৎকার করে বললো, ‘ঠিক।’

লোকটা মেঘের গর্জনের মতো গম্ভীর গলায় বললো, ‘ঠিক না।’

যাত্রীরা একে-অপরের মুখ চাওয়া-চাউয়ি করতে লাগলো। ড্রাইভার-কন্ডাক্টর স্ট্যাচুর মতো আটকে গেল। সবাই কান খাড়া করে অপেক্ষা করছে এরপর কী বলবে লোকটা।

‘আপনাগো চ্যালেঞ্জ কইরা কইতাছি যে বাংলাদেশে আপনাদের চেয়ে বড় শক্তি আছে।’

এবার আর কেউ কোনো কথা বললো না। চাতক পাখির মতো হাঁ করে লোকটার কথা শুনতে লাগলো। আমার ভয় হচ্ছিল বাস না আবার অ্যাক্সিডেন্ট করে।

লোকটা কিছুক্ষণ সময় নিলো। তারপর মুচকি হাসি হেসে ঝুলি থেকে বের করলো একগাদা ট্যাবলেট। যাত্রীদের বিস্ময়ে বিমূঢ় করে দিয়ে বললো, ‘এই হচ্ছে শ্রীপুরের ট্যাবলেট। সবুজটা সকালে আর লালটা রাইতে ঠাণ্ডা পানি দিয়া খাইবেন। সকল ব্যথা-ব্যাদনা-গেস্টিক-টাইফয়েড-জণ্ডিস-পলিপ-মূত্ররোগ সাইরা যাবে। বাংলাদেশে এর চাইতে বড় কোনো শক্তি নাই।’

লেখা: নিয়াজ মেহেদী

২২৩৯পঠিত ...১৬:২২, মে ০৩, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top