যে কারণে বাংলাদেশের মুরগিরা শিয়ালকে আক্রমণ করতে পারে না

৪৯৬ পঠিত ... ২০:১৫, মার্চ ১৪, ২০১৯

ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি কৃষি শিক্ষা স্কুলের খামারে মুরগির আক্রমণে মারা পড়েছে একটি বাচ্চা শেয়াল। একটু অবাক করার মতো হলেও এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের ব্রিটানি প্রদেশের ওই খামারটির একটি বড় খাঁচায় একসঙ্গে তিন হাজার মুরগি রাখা ছিল। শেয়ালটি সেখানে ঢুকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয় হ্যাচ দরজাটি বন্ধ হয়ে যায়। স্কুলের খামার বিভাগের প্রধান প্যাসকলে দানিয়েল জানান, 'ওটা ছিল একটা দলবদ্ধ আক্রমণ এবং মুরগিগুলো শেয়ালটাকে ঠোঁকর দিয়েই মেরে ফেলেছিল।' খবর: ঢাকা ট্রিবিউন।

মুরগিরা সংঘবদ্ধ হয়ে শিয়ালকে আক্রমণ করেছে, এমন ঘটনা ফ্রান্সে ঘটলেও বাংলাদেশে ঘটে না কেন? এই দেশে শিয়ালের অভাব আছে বটে, কিন্তু মুরগির তো অভাব নেই! ধরুন, বাংলাদেশের কিছু মুরগি শিয়ালকে সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণের পরিকল্পনা করলো। এরপর যা ঘটবে-

১# এক বিপ্লবী মুরগি চিকবুকে (মুরগিদের ফেসবুক) স্ট্যাটাস দেবে, 'শিয়ালের অন্যায় অত্যাচার আমরা অনেক সহ্য করেছি, আর না। মুরগি ভাইবোনে, চলুন এক হই। হাজারো মুরগির কক কক গর্জনে শিয়ালের বুক কাঁপিয়ে দিই।

২# বিপ্লবী মুরগির এই স্ট্যাটাসে প্রচুর লাইক পড়বে, হবে অসংখ্য শেয়ার। মুরগিরা 'শিয়ালের আস্তানা এই এলাকায় থাকবে না', 'পাশে আছি ভাই', 'ভাই স্যালুট' এসব লিখে কমেন্ট করবে। বিপ্লবী মুরগি রাতারাতি চিকবুক সেলিব্রেটি হয়ে যাবে, এক রাতেই তার ফলোয়ার হয়ে যাবে লাখখানেক। আরও ফলোয়ারের আশায় সে প্রতি ঘন্টায় চারবার করে শিয়ালের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।

৩# তুমুল উৎসাহে খোলা হবে চিকবুক ইভেন্ট- 'বাংলার মুরগি, বাংলার মোরগ শিয়ালের বিরুদ্ধে এক হও'। দলে দলে মুরগিরা ইভেন্টে গোইং দেবে। শ্লোগানময় পোস্টে ভরে যাবে ইভেন্টের দেয়াল। ইভেন্টে শিয়ালের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশান ঘোষণাপূর্বক 'ককর ক চত্বর'-এ মুরগিবন্ধনের ডাক দেয়া হবে। নির্ধারিত দিনে মুরগিবন্ধনে উপস্থিত হবে মোটে তিনটা মুরগি।

৪# এই সময় মুরগিদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলবে, সমাজের গন্যমান্য মুরগিরা, মানে চৌধুরী বাড়ির মুরগি, তালুকদার বাড়ির মুরগি, খান সাহেবের নাতির মুরগি, এরা সবাই চুপ কেন? এখন কোথায় তাদের বিবেক? এইসব বাড়ি থেকে তো কোনো মুরগি শিয়াল নিয়ে যায় না? তবে কি তাদের সঙ্গে শিয়ালের গোপন আঁতাত রয়েছে? শিয়ালের বিরুদ্ধে এক হলে এইসব মুরগিবেশী শিয়ালের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে হবে।

৫# এমন পরিস্থিতিতে আরেকদল মুরগি বলবে- 'শুধু কি শিয়ালই আমাদের শত্রু? নেকড়েরাও আমাদের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কেন আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো না? শিয়ালের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলে নেকড়ের বিরুদ্ধেও আন্দোলনে নামতে হবে।' অতঃপর 'বাংলার মুরগি, বাংলার মোরগ নেকড়ের বিরুদ্ধে এক হও' নামে খোলা হতো আরও একটি ইভেন্ট। এই ইভেন্টেও নগদে হাজার হাজার মুরগি গোইং দেয়া শুরু করতো...

৬# এই পর্যায়ে আরেকদল মুরগির উদ্ভব হতো। তারা শিয়াল এবং নেকড়ে, দুই পার্টির বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দলকেই হিটখোর দাবি করে বলতো, 'মুরগিদের তো আরও সমস্যা আছে। সেসব নিয়ে আপনারা কবে কথা বলবেন? এক কেএফসির কারণে যত মুরগি মারা যায়, গত একশ বছরে পৃথিবীর সব শিয়াল মিলেও এতগুলো মুরগি মারেনি। কেএফসি মানুষ চালায় বলে আপনাদের এই পক্ষপাত? যতসব হিপোক্রেট!'

৭# নেকড়ে এবং শিয়ালের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া মুরগিদের দুই দল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিতে থাকত। শিয়ালওয়ালারা যদি টিএসসিতে জমায়েত হয়, নেকড়েওয়ালারা একইদিনে জমায়েত হতো নীলক্ষেতে। এক সময় দুই দলের বিরুদ্ধে মতবিরোধের জের ধরে নিজেদের মধ্যেই চলতো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া...

৮# এতসব চলতে চলতে দেখা গেলো হুট করে মুরগিদের জনপ্রিয় পোর্টাল রেডিওমুরগি টুয়েন্টিফোরে খবর এসেছে, 'লাল রঙের ডিম অধিক পুষ্টিকর'। শিয়াল-নেকড়ে সব ভুলে সেই নিউজ নিয়েই শুরু হয়ে যেত নতুন আলোচনা। লাল ডিম দেয়া মুরগিরা আনন্দ প্রকাশ করতো, সাদা ডিম দেয়া মুরগিরা প্রতিবাদে খুলতো নতুন ইভেন্ট...

৪৯৬ পঠিত ... ২০:১৫, মার্চ ১৪, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top