হুজুরের কাছে যাহা মেসি, তাহাই মুসা

১৬৯১পঠিত ...১৫:২৭, জুন ৩০, ২০১৮

ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে গো হারা হেরে লিওনেল মেসি দিশেহারা হয়ে পড়ে। শুধু আর্জেন্টাইন ভক্তরা নয়; সারা বিশ্বের ভক্তরা সেই ইংলণ্ড থেকে শ্রীখণ্ড কান্নার রোল পড়ে গেছে। সবাই মেসির দিকে তাকিয়ে। মেসি তার স্ত্রীকে ফোন করে, কী একটা তাবিজ এনে দিলে ভ্যাটিক্যান থেকে; আমি আগেই বলেছিলাম, তোমার আত্মীয় এই পোপ কোন কাজেরই না।

মেসির স্ত্রী ফোন রেখে ফুঁস ফুঁস করে কাঁদে। কাহাতক নিজের আত্মীয়- স্বজনের দুর্নাম শোনা যায়। এই পোপ যিনি অন্যধর্মের মানুষের পা নিজ হাতে ধুয়ে দিয়েছেন, শরণার্থীদের বুকে আগলে ধরেছেন; 'বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী উভয়েরই নিজ নিজ মত নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে'; এমন পরমতসহিষ্ণু ও সভ্য চিন্তার পক্ষে অভিমত রেখেছেন; তার তাবিজে কোন দোষ নেই। দোষ মেসির খেলায়। পেনাল্টি মিস করে যে; তার তাবিজ থাকলেই কী; আর না থাকলেই কী!

মেসি তার এক পরিচিত সাংবাদিক রামা প্যানতোরোত্তোকে অনুরোধ করে একটা তাবিজ জোগাড় করে দেবার জন্য।

মেসিকে অবাক করে দিয়ে রামা বলে, তাবিজ তো আমার কাছে একটা আছে। মা দিয়েছে। বাবা জাহাজের নাবিক হওয়ায় দেশে দেশে ঘুরেছে। নানা দেশ থেকে সৌভাগ্যের চিহ্ন এনে দিয়েছে।

মেসি জিজ্ঞেস করে, একটু খোঁজ নিয়ে দেখো এই তাবিজ কোন দেশের। সেটার সাকসেস রেট কেমন!

রামা মেসির সঙ্গে কথা বলে হোটেল রুমে ফিরে প্রথমে একটু রাশিয়ার খুশি জল পরিসেবা করে। এরপর মাকে জিজ্ঞেস করে ফোন করে, 'মা এ তাবিজ কোথাকার, যেটা আমাকে দিয়েছো!'

মা ধমক দেয়, তোর দাদু রামপায়ী ছিলো বলে তোর নাম রেখেছে রামা; তাই বলে তুই সারাক্ষণ খুশীজল পান করে বুঁদ থাকবি; এ কেমন কথা। কাল ফোন করিস। তোর বাবাকে জিজ্ঞেস করে রাখবো; তোকে দেয়া সৌভাগ্যের চিহ্ন কোন দেশ থেকে আনা।

মেসির মনে হয়, নিশ্চয়ই রামার তাবিজে জাদু আছে। নইলে এমন কাকতাল কী করে সম্ভব! তাবিজের ব্যাপারে সে শুধু রামার সঙ্গেই কথা বলেছে; আর তার কাছেই তাবিজ আছে।

রামা মায়ের কাছ থেকে তাবিজটা কোন দেশের তা জানার পর একটু গুগল করেই পুলকিত হয়। দেশটার পুরোটাই তো একটা তাবিজ; মানে সৌভাগ্যের প্রতীক। সৌভাগ্য ও সাফল্য শব্দগুলো অভিধান উজাড় করে ব্যবহৃত হয় দেশটির খবরগুলোতে। ভাবা যায়, রাজনীতিকরা ধর্মীয় নেতার কাছে নির্বাচনের আগে তাবিজ নিতে যায়। তাবিজ থাকায় জিতে যায়। গডফাদারেরা তাবিজ পরে বুক ফুলিয়ে ঘোরে। তাবিজের কারণে জীবন যাত্রার মান এতো উন্নত হয়েছে যে, দেশটির রাজধানীটি ফ্রাংকফুর্ট, ব্রাসেলস, বস্টন, বুয়েনস আইরেস-এর চেয়ে এক্সপেনসিভ সিটি। রামা লক্ষ্য করে দেশটিতে আর্জেন্টিনার অনেক ভক্তও আছে। তারা মোটর র‍্যালি করেছে; আর্জেনন্টাইন পতাকার চাঁদোয়া টানিয়ে বেশ প্রার্থনা-সভাও করেছে।

তাবিজ নিয়ে গবেষণা শেষে রামা মেসিকে বলে, 'এই তাবিজ খুবই শক্তিশালী। রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে নেতারা তাবিজ নিতে যান; পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিজম করাতে নেতার মাথা-ঘাড়ে-পিঠে আশীর্বাদ বুলিয়ে দেন ওখানকার এক পোপ। অমনি নেতা নির্বাচনে জিতে যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে; নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে তোমার যেদিন খেলা; ঐদিন ঐদেশে একটা নির্বাচনী খেলা আছে। সেই নির্বাচনের সরকার দলীয় প্রার্থীর পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিজমের ভিডিও দেখলাম। তুমিও এই লাল তাবিজ নিয়ে নেমে পড়ো মেসি। শিওর সাকসেস মনে হচ্ছে।'

মেসি তাবিজটা হাতে নিয়ে বসে থাকে। শরীরের মধ্যে বিদ্যুৎ কম্পন অনুভব করে। হাত পায়ের পেশীগুলো ইনক্রেডিবল হাকের মতো ফুলে
ফুলে ওঠে। রামাকে তুলে ধরে শিশুদের মতো শূণ্যে ছুঁড়ে নাচায়।

ম্যাচের দিন মোজার মধ্যে লাল তাবিজ লুকিয়ে নেমে পড়ে মেসি। নাইজেরিয়ার চারজন করে খেলোয়াড় তাকে ঘিরে রাখে। কিন্তু তাদেরকে খেলনার মতো সরিয়ে দিয়ে মেসি এগিয়ে যায়। কাংক্ষিত গোলটি পাওয়ার পর মেসির ইচ্ছা করে নিজের পায়ের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে মোজার নীচের সৌভাগ্য চিহ্নে চুমু খেতে।

রামা একইসঙ্গে দুটো ম্যাচের দিকে লক্ষ্য রাখছিলো। একদিকে ফুটবল ম্যাচ-অন্যদিকে ইলেকশন ম্যাচ। ইলেকশানে সরকার দলের প্রার্থীর পিকেটাররা বিভিন্ন কেন্দ্রে মেসির মতো গোল দিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিজয় অবশ্যম্ভাবী।

নাইজেরিয়ার ফুটবলার মুসাও তাদের সমুদ্র তীরের লাগোসের এক স্পিরিচুয়াল লিডারের তাবিজ বেঁধেই খেলছে। আবুজা থেকে পলিটিক্যাল লিডাররা সেখানে যায় পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিজম করাতে। এ কারণে ব্যাংক লুট করে, বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করেও দিব্বি দেহ দুলিয়ে ঘোরে। সেজন্যই মুসা গিয়ে নিজের স্পোর্টস ব্যাপ্টিজম করিয়ে নিয়েছে। কিন্তু মেসির তাবিজের চৌম্বক আবেশের কারণে মুসার তাবিজ নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে থাকে বার বার।

ম্যাচ জিতে আনন্দে উন্মাতাল হয়ে মেসি ফোন করে সৌভাগ্যের চিহ্ন প্রদানকারী পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিস্ট স্পিরিচুয়াল হুজুরের কাছে। তিনি ফোন ধরে বলেন, হ্যালো-হ্যালো; কী ইলেকশন জিতছোনি!

মেসি বলে, 'না না ফুটবল ম্যাচ জিতেছি। আমি মেসি।'

তিনি বলেন, 'ঐ একই ব্যাপার। আমার কাছে ইলেকশনও যা; ফুটবলও তা। আল্লাহ তোমার হেফাজত করুন। একটু ছদকায়ে জরিয়া করিয়া দিও মুসা।
মেসি ঠিক করে দেয়, আমার নাম মেসি হুজুর।'

উনি বলেন, 'আমার কাছে যাহা মেসি; উহাই মুসা।'

১৬৯১পঠিত ...১৫:২৭, জুন ৩০, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    
    Top