আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ছাত্রলীগের নতুন শাখা 'অভিমানী লীগ'

১৪২৮পঠিত ...২১:৫৮, এপ্রিল ৩০, ২০১৮

ছাত্রলীগের একাংশের নাম বদলে 'অভিমান লীগ' রাখা এখন সময়ের দাবি।

অভিমানী প্রেমিকারা যতোটা অভিমান নিয়ে ফেইসবুকে লগইন করেন ঠিক ততোটা অভিমান নিয়ে ফেসবুকে আসেন অভিমানী ছাত্রলীগ নেতারা।

প্রেমিকারা সারাদিন বান্ধবীর সাথে টইটই করে ঘুরে রাত ১১.৩০ মিনিটে হঠাৎ করে স্ট্যাটাস দেন - 'আমি চলে যাচ্ছি। তুমি ভালো থেকো।'
মোটামুটি কাছাকাছি সময়ে কাছাকাছি পরিমান অভিমান নিয়ে ১৭ বছর বয়েসী নেতা ফেসবুকে লিখেন - 'সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালাম। ভালো থেকো, তারুণ্যের প্রথম প্রেম 'ছাত্রলীগ'।'

ঘড়ির কাটা যখন রাত ১২টার ঘর অতিক্রম করে তখন শুরু হয় অভিমানী প্রেমিকাদের অভিমানের দ্বিতীয় পর্ব। 
'হার্ট ব্রোকেন' ইমোটিকন দিয়ে তারা লিখেন 'তুমি সুখে থেকো। যদি কখনো দরকার পড়ে আমাকে ডেকো। আমি তোমার অপেক্ষায় আছি। অপেক্ষাতেই থাকবো।'
অপেক্ষায় থাকার আশ্বাস দেন অভিমানী নেতারাও। তারা লিখেন 'হাইব্রিডদের নিয়ে ভালো থেকো, প্রিয় সংগঠন। যদি কখনো দুঃসময় আসে আমাকে ডেকো। রাজপথের মিছিলে মিশে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা থাকলো।'

যখন ফেসবুক ছিলো না তখন মফস্বলের অভিমানী প্রেমিকারা অংক খাতার তৃতীয় পাতায় গোলগোল অক্ষরে লিখতেন - 'যখন তোমার কেউ ছিলো না তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি।'

অতীতের কথা মনে করিয়ে দেন নেতারাও। ১৯৯৭ সালে পৃথিবীতে আসা তরুন অদৃশ্য প্রাপককে উদ্দেশ্য করে লিখেন, 'ভুলে গেছেন ২০০৫/০৬ সালের অন্ধকার দিনগুলো কথা? রাজপথে আমরাই ছিলাম। মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়েছি আমরাই। আর কমিটিতে আজ আমরা নেই!'

কোনো অভিযোগ রাখেন না প্রেমিকারা। তারা বলেন, 'কোনো অভিযোগ নেই। এটাই হয়তো আমার পাওনা ছিলো।'
অভিযোগ রাখেন না নেতারাও। তারা লিখেন, 'কোনো অভিযোগ নেই। ত্যাগের প্রতিদান এটাই হয়, জানতাম।'

অভিমানী প্রেমিকাদের কেউ কেউ নিঃশব্দ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন - 'তোমাকে আমার মতো আর কেউ এতটা ভালোবাসবে না।'
পরোক্ষভাবে বলে দেন, তাকে ছাড়া প্রেমিকের জীবন একদম অন্ধকার হয়ে যাবে।

অভিমানী নেতাদের কেউ কেউ-ও ছুড়ে দেন ওপেন চ্যালেঞ্জ। সুনারগঞ্জ ছাত্রলীগের উপকমিটিতে পদ না পাওয়ায় অভিমানী তরুন স্ট্যাটাস দিয়ে বুঝিয়ে দেন তাকে আহ্বায়ক পদে না রাখার খেসারত আওয়ামীলীগকে দিতে হবে কঠিনভাবে। ইনিয়ে বিনিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখে দেন, তিনি যেহেতু নেই সেহেতু আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি আর কেউ ঠেকাতে পারবে না। এবং তাকে আহ্বায়ক পদ না দিলে ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের আর ক্ষমতায় আসারও আর কোনো চান্স টান্স নেই।

... ক্লান্ত লাগে... বড় ক্লান্ত লাগে এত এত অভিমান দেখে।

ইচ্ছে করে গাল টিপে দিয়ে আসি। না, অন্যের অভিমানী প্রেমিকার না। ছাত্রলীগের অভিমানী ভাইটার।

১৪২৮পঠিত ...২১:৫৮, এপ্রিল ৩০, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    
    Top