একটি সরকারি ক্যামেরা আনতে তিন বীরের বিদেশ যাত্রা : দোয়া কামনা

৮২৫২৭পঠিত ...১৫:০৩, জুলাই ২১, ২০১৬


একটি সরকারি ক্যামেরা আনতে বিদেশে যাচ্ছেন তিনজন সাহসী ভাই। এই গুনী ভাইরা হলেন তথ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রেস) জনাব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জনাব মুহা শিপলু জামান। 
এক ক্যামেরা কিনতে তিনজনের বিদেশ যাওয়ার সরকারি ভ্রমণপত্রের একাংশ


এই ঘটনাকে দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে একটি বিপ্লব হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, একটি ক্যামেরার জন্য তিনটি ভাই যাওয়ায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ভাই ২৫ তারিখ ভোরে জার্মানির উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করবেন। ২৬ তারিখ দুপুরের দিকে তারা জার্মানীর রাজধানী বার্লিনে পৌছাবেন। ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে তারা ক্যামেরাটি হাতে নিয়ে ছবি তুলবেন। একজন তুলবেন মেইন ক্যামেরা দিয়ে, একজন তুলবেন ফন্ট ক্যামেরায় সেলফি আরেকজন করবেন প্রিজমা।

সূত্র জানিয়েছে, এই তিনটি ছবি রাতের খাওয়ার পর ফেইসবুকে আপলোড করা হবে। ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর তিনটি ছবির লাইক গোনা হবে। লাইকের সংখ্যা এবং লাইকদাতের নাম জার্মানি থেকে ডাকযোগে ফিরতি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী কার্যদিবসে তথ্য মন্ত্রনালয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় একযোগে লাইক এবং লাইকদাতাদের পরিচয় খতিয়ে দেখবে। ফলাফল সন্তোষনক হলে সংসদীয় কমিটির বিশেষ বৈঠকে ক্যামেরাটি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

ক্যামেরা কেনার জন্য সরকারি ভ্রমণপত্রের বাকি অংশ
এদিকে ক্যামেরা কেনার ব্যাপারে দেশের বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা মতামত ব্যাক্ত করেছেন। সাবেক এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, 'ক্যামেরাটি আনার জন্য একটি যুদ্ধ বিমান, দুইটি ট্যাংকসহ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ পদাতিক বাহিনী যেতে পারতো!'

সাবেক এক আমলা তার মতামত ব্যাক্ত করে বলেন, 'ক্যামেরাটি আনার জন্য বিশেষ একটি জাহাজ কেনার দরপত্র আহবান করা যেতো। তথ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৭৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল জার্মানি যেতে পারতো! ঐ দলে ক্যামেরার লেন্স দেখার জন্য থাকতে পারতেন ১৪ জন ব্যবসায়ী, চার্জার দেখার জন্য ৫ জন কবি, ক্যামেরার ব্যাগ দেখার জন্য ১৪ জন প্রতিমন্ত্রী, ট্রাইপড দেখার জন্য ১১ জন সম্পাদক, ক্যামেরার ব্যাটারি দেখার জন্য ১০ জন প্রকৌশলী, টাইমার দেখার জন্য ১২ জন যুবলীগ কর্মী।' তিনি আরও বলেন, 'এসব কিছুই না করে ক্যামেরাটি আনতে যাচ্ছেন মাত্র তিনটি সাহসী ভাই। তাদেরকে অভিনন্দন।'

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুলের হয়ে ছড়া-কবিতাদুটো লিখেছেন আরিফ আর হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, 'তিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা। এজন্যই বলা হয় ত্রিকাল, ত্রিভূবন ত্রিসত্যি। বিয়ের সময় কবুল বলতে হয় তিনবার। তালাকও দিতে হয় তিনবার। পৃথিবীতে রঙ তিনটি। তিন-এ আছে আমি, তুমি এবং আমরা।' তিনি বলেন, 'এ কারণেই আসলে ক্যামেরা আনার জন্য তিনজন যাওয়া। দেশের গণিত খাতে এটি একটি বিপ্লব বলে আমার মনে হচ্ছে।'

ইতোমধ্যে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলো তিন বীরের স্মরণে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করার কথা ভাবছে। 

সব ঠিকঠাক থাকলে এই মাসের শেষের দিকে ক্যামেরাটি নিয়ে দেশে পদার্পন করবেন তিনটি ভাই। জানা গেছে দেশে ফিরলে ক্যামেরা ও ক্যামেরাবাহী ভাইদেরকে সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ, মহানগর তাতীলীগসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

৮২৫২৭পঠিত ...১৫:০৩, জুলাই ২১, ২০১৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    রম্য

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    Bikroy
    Bdjobs
    rokomari ad
    
    Top