ফেসবুকের সার্ভার ডাউন থাকায় বিয়ে পিছিয়ে দিলো বাংলাদেশের অসংখ্য কাপল

১০০৭ পঠিত ... ১৮:৪৪, মার্চ ১৪, ২০১৯

গতকাল রাতে বিশেষ কারণে সার্ভার ডাউন ছিলো ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামের। এদিকে বাংলাদেশে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহু বিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে গতকাল রাতেই। গভীর রাতে কন্যাপক্ষ পাত্রপক্ষকে আবার কোথাও পাত্রপক্ষ কন্যাপক্ষকে ফোন দিয়ে বলেছেন এই বিয়ে হবে না৷ কারণ হিসাবে তারা ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়াকে। রাজশাহীর এক পাত্র আমাদেরকে জানিয়েছেন, 'ফেসবুকে যদি এক সপ্তাহ ধরে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির ছবিগুলোই আপ্লোড না দিতে পারলাম, তাহলে আর বিয়ে করে কী লাভ!'

 

পুরান ঢাকার পাত্রী নুসরাত মনীষা বলেছেন, 'বিয়ের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো ফেসবুক আর ইন্সটাতে ফটো আপ্লোড। শুধু কি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি? বিয়ের পর প্রথম বাসায় যাওয়া, হানিমুন, বাচ্চা হলে ছবি দেয়া, ম্যারিড স্ট্যাটাসে কত লাভ রিয়্যাক্ট আর অভিনন্দন কমেন্ট। রোমান্টিক পোস্ট একে অন্যকে ট্যাগ করা। যদি ফেসবুক আর ঠিক না হয়? এসবই যদি না দিতে পারলাম তাহলে টাকা খরচ করে বিয়ে করবো কোন যুক্তিতে আপনিই বলেন?'

আমরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি।

ওদিকে রাতে বড় বড় রেস্টুরেন্টগুলো ছিলো একদম ফাকা। ডিনার করতে আসেনি কেউ। এক দম্পতি জানান, 'দুইদিন আগে থেকেই প্ল্যান ছিলো আজ রাতে রেস্টুরেন্টে ডিনার করবো। পরে ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামের সার্ভার ডাউন হওয়ায় প্ল্যান বাদ দেয়া হয়েছে। খাবারের ছবি হ্যাশট্যাগ দিয়ে যদি পোস্ট আর ফুড গ্রুপে রিভিউ না দিতে পারি তবে রেস্টুরেন্টে যাবো কেন? পেট তো বাসায় বসে আলুভর্তা আর ডাউল দিয়েও ভরানো যায়।'

রাতে আরো ক্যান্সেল হয়েছে সাজেক, কক্সবাজার ট্যুর প্লানও। ফেসবুকের সমস্যা কেটে যাওয়ার আগে কেউ আর ভ্রমণে যেতে রাজি হচ্ছে না। এমনকি গত রাতে এক নারীর সিজারের ডেট থাকায় তিনি আর তার স্বামী ডাক্তারকে রিকোয়েস্ট করে ডেলিভারির ডেট দুইদিন পিছিয়ে দিয়েছেন। স্বামী আমাদেরকে বলেন, "বাচ্চা নেয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ফেসবুকে, আলহামদুলিল্লাহ, বাবা হলাম" লিখে পোস্ট করা৷ আশা করি আজ কালকের মধ্যে ফেসবুক ঠিক হয়ে যাবে। আমি আর আমার স্ত্রীও আনন্দের সাথে বাচ্চাকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে পারবো।'

অনির্ভরযোগ্য আরও একটি সূত্রে জানা গেছে, কাল রাতে বহু প্রেম হতে গিয়েও হয়নি৷ প্রপোজ পাওয়ার পর সম্মতি থাকা সত্ত্বেও বহু ছেলে মেয়ে রিজেক্ট করে দিয়েছে ফেসবুকে ইন আ রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেয়া যাবে না বলে। অনেকেই একই কারণে ছেড়েছেন জব অফারও। অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্বেও মুভি না দেখে ঘুমিয়ে গিয়েছেন, অনেকে তো কাটিয়েছেন সারারাত না ঘুমিয়েই। এরকম একজন eআরকিকে জানান, 'যদি গুড নাইট বন্ধুরা লিখে পোস্টই না দিতে পারি, তবে ঘুমিয়ে কী লাভ!'

১০০৭ পঠিত ... ১৮:৪৪, মার্চ ১৪, ২০১৯

Top