শ্রোডিঞ্জারের ব্যালট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন

২০০৬ পঠিত ... ২০:২৩, মার্চ ১০, ২০১৯

দেশের সকল নির্বাচনে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে তার ব্যতিক্রম হতে চলেছে। স্বচ্ছ নির্বাচন নিয়ে যখন ঢাবির বেশিরভাগ ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করছে তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে নির্বাচন করার প্রায় সব আয়োজন চূড়ান্ত করে ফেলেছে। (খবর: ডেইলি স্টার)

দীর্ঘ ২৯ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাওয়া ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতি সচেতন মহলে আগ্রহ ছিল সবসময়ই। তবে সর্বশেষ অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের অভিনব খবরে রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাড়া পড়ে গেছে পদার্থবিজ্ঞানী মহলেও। পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় শাখা কোয়ান্টাম ফিজিক্সের রথী-মহারথীরা পাশ্চাত্যের হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড থেকে প্রতীক্ষা নিয়ে তাকিয়ে আছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের দিকে।

পাশ্চাত্যের অক্সফোর্ডের একজন কোয়ান্টাম ফিজিক্স বিজ্ঞানীর সাথে কথা বললে তিনি এ ব্যাপারে তাদের আগ্রহের ব্যাপারটি আমাদের বুঝিয়ে বলেন। তিনি eআরকিকে বলেন ‘বাক্সের ভিতর কী আছে এবং কোন অবস্থায় আছে সেটা বাক্স না খোলা পর্যন্ত আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন না। ব্যালট পেপার যে কখন তার কণাধর্ম প্রদর্শন করবে আর কখন তরঙ্গ, সে বিষয়ে আপনি কখনোই নিশ্চিত অবস্থানে আসতে পারবেন না। তাই বাক্সের ভেতর ব্যালট পেপার কোন অবস্থায় থাকবে, আদৌ থাকবে কি না, তা নিয়েই আমাদের আগ্রহ।’ তিনি eআরকিকে আরও বলেন ‘ঢাকা ভার্সিটির ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের উচিত খুব কাছ থেকে এই ব্যালট বাক্সগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা। এ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সামনের দিনে একটি নোবেল এনে দিলেও অবাক হব না।’

এদিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান ‘শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট হলে বাক্স খোলার আগ পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত হতে পারবে না বাক্সের ভেতর কী আছে। এভাবে তারা কোয়ান্টাম ফিজিক্সের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।’ কিন্তু বাক্সের ভিতরটা দেখা না গেলে তো বোঝাও যাবে না বাক্স আগে থেকেই ভর্তি ছিল কি না, এ ব্যাপারে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘এটাই তো আসল খেলা। বাক্সে একই সাথে ব্যালট থাকবে আবার থাকবেও না। থাকা ও না থাকার এই সহাবস্থানের ব্যাপারেই আমরা জোর দিচ্ছি। আর পদ্ধতির নাম আমরা দিয়েছি শ্রোডিঞ্জারের ব্যালট পদ্ধতি।’

এ ব্যাপারে বিগত এক দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাশালী একটি ছাত্রসংগঠনের এক নেতা জানান ‘দেখুন, অনেকের মাথায় একই সাথে হেলমেট থাকে আবার থাকেও না। তেমনি হাতে কখনো রড থাকে আবার কখনো থাকে না। আবার কখন যে রড তার কণাধর্ম ত্যাগ করে হাতুড়িতে রূপান্তরিত হয়, সে বিষয়েও কোন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। এগুলো সবই অবজার্ভারের উপর নির্ভর করে। ক্যামেরায় হয়ত ছবি আসে হেলমেট-রডসহ কিন্তু আমি চোখে এসব দেখি না। ব্যালটের ব্যাপারটাও এমন। যে যেভাবে দেখতে চায়!’

একাধিক পদার্থবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলে শ্রোডিঞ্জারের ব্যালট পদ্ধতি বিষয়টি সম্পর্কে যা জানা গেছে তা হলো, শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল পরীক্ষার মতো এই পদ্ধতিতেও পর্যবেক্ষক থাকবেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। পর্যবেক্ষক বাক্স খোলার আগ পর্যন্ত সেখানে কোনো ব্যালট একইসাথে থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। আবার ব্যালট পেপার থাকলেও কোন প্রার্থী ভোট পেয়েছেন সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাবে না বাক্স খোলার আগ পর্যন্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের ক্রস চিহ্নটি কণা এবং তরঙ্গ ধর্মের মাঝে পুরোটা সময়ই বদলাতে থাকবে। এই পদ্ধতির মজার ব্যাপারটা হলো, পর্যবেক্ষক কোন রাজনৈতিক দলের তার উপর ডিপেন্ড করছে বাক্সে ব্যালট কি আগে থেকে ভরা ছিল নাকি ছিল না।' 

বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসে শ্রোডিঞ্জার ব্যালট পদ্ধতিতে হওয়া প্রথম নির্বাচন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানী শ্রোডিঞ্জারের কাল্পনিক বিড়ালটিও। অনেকক্ষণ গম্ভীর মুখে বসে থেকে তিনি লাফ দিয়ে একটি মাছি ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, 'ম্যাও... ম্যাউউউউ...' (অর্থ: বাক্সে যা খুশি থাকুক, এই বদখত বাক্সে আমাকে অন্তত ঢুকতে হচ্ছে না তাই ভালো)।

২০০৬ পঠিত ... ২০:২৩, মার্চ ১০, ২০১৯

Top