ঢাবি ক্যাম্পাসে হয়ে গেলো জাতীয়তাবাদী আদুভাইদলের রিইউনিয়ন, ক্যাম্পাসজুড়ে নস্টালজিক পরিবেশ

২৫৮৭ পঠিত ... ২১:০৬, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

সুদীর্ঘ ২৯ বছর পর আসছে মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এই উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেশ কিছুদিন ধরেই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এ উৎসবে একটু দেরিতে হলেও যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিশেষ সংগঠন জাতীয়তাবাদী আদুভাইদল। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসের ছেলেরা বুড়ো হয়ে ক্যাম্পাসে ফেরায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে। ঢাবি ক্যাম্পাসে বইছে রিইউনিয়নের ঝড়ো হাওয়া।

৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৯ বছর মিছিল করতে দেখা যায় প্রাক্তন ছাত্রদল এবং বর্তমান আদুভাইদলের সদস্যদের। এটি ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত মিছিল নাকি রিইউনিয়নের আগাম মিছিল সে বিষয়ে এখনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তবে আদুভাইদলের একজন নেতা পুরো বিষয়টিকে রিইউনিয়ন দাবি করে eআরকিকে বলেন, ‘অনেকদিন আসা হয় না। সেই দুই যুগ আগে ছাত্র ছিলাম। এখন মাঝেমধ্যে ছেলেমেয়েরা ভার্সিটি ঘুরতে আসতে চায়। কিন্তু সময় পাওয়াই যায় না রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে। তাই ভাবলাম, সব বন্ধুদের নিয়ে একটা রিইউনিয়ন করেই ফেলি।’ রিইউনিয়ন নিয়ে উচ্ছ্বসিত আরেক নেতা বলেন ‘কতদিন ধরে এই রিইউনিয়নের স্বপ্ন বুকে নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি, সে খবর পুলিশ ভাইয়েরা, থুক্কু, ভাতিজারা জানে।’

এত বছর পর আবেগপ্রবণ হতেও দেখা যায় কোন কোন নেতাকে। আদুভাইদলের মিছিলে যোগ দেওয়া এক প্রবীণ নেতা আফসোস করে বলেন ‘আজ যদি আমার চাচা বেঁচে থাকতেন, তিনিও ডাকসু নির্বাচনে দাঁড়াতে পারতেন।’

অন্যদিকে আদুভাইদলের এই মিছিলকে ঘিরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। টিএসসির একাধিক চায়ের দোকানির সাথে আদুভাইদলের নেতাদের দেখা যায় বাকি রাখা চায়ের বিলের টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি করতে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিএসসির প্রখ্যাত চা বিক্রেতা স্বপন মামা আদুভাইদের প্রতি ভর্ৎসনা করে eআরকিকের বলেন ‘ম্যালাদিন আগে তারা যখন ছাত্র ছিল, তখন তারা চা বিড়ি খাইয়া টাকা না দিয়াই চইলা যাইত। এতোদিন পর তাগোরে পাইছি। টাকা দিল না।’ অবশ্য তারা বয়সের ভারেই সব ভুলে গেছেন বলে ধারণা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

বর্তমানে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত দলগুলোতে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, এতদিন পর আদুভাইদলের ক্যাম্পাসে ফিরে আসাটা রাজনীতির মাঠকে করে তুলবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। কারো কারো ধারণা, আদুভাইদলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসাটা ডাকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থিতার বয়সসীমা উঠিয়ে ফেলার যে দাবি তারা করেছেন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বয়সের ভারসাম্য ভেঙে দেয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা।

তবে ক্যাম্পাসে আগত নবীন শিক্ষার্থীদের অনেককেই বেশ ভীত দেখা গেছে। কলা ভবনের সামনে আতংকিত এক শিক্ষার্থী eআরকিকে প্রতিনিধিকে বলেন ‘আমি শুনেছিলাম ভার্সিটিতে উঠলে আর প্যারা নাই। এখন তো দেখি সহমত ভাইদের সাথে আংকেলরাও প্যারা দিতে চলে আসছেন।’ অনেক ছাত্রই মিছিলে তাদের মামা-চাচাদের দেখে হতভম্ব, বিস্মিত ও অভিভূত হয়ে পড়েছে বলে কিছু অবিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২৫৮৭ পঠিত ... ২১:০৬, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top