অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে মিরপুরে আসতে আহ্বান জানালেন বিপন্ন মিরপুরবাসীরা

৫০৪১ পঠিত ... ১৫:৩৩, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিদর্শন করতে কক্সবাজারে এসেছেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত হিসেবে ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি এই চার দিনের সফরে এসেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তাদের যাবতীয় দুঃখের কথা তিনি শুনবেন।

বিখ্যাত এই অভিনেত্রীর আগমনে সারা দেশের মানুষের মধ্যেই এক ধরনের চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু মিরপুরবাসীরা এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সরব। নিখিল বৃহত্তর মিরপুর কল্যাণ সংঘ আয়োজন করেছে এক বিশাল মানববন্ধনের। তাদের ‘এক দফা এক দাবি, মিরপুর আসুন এঞ্জেলিনা জোলি’ ব্যানার হাতে দেখা যায় এই মানব বন্ধনে। বাংলাদেশের এত স্থান থাকতে জোলিকে মিরপুরে আনতে মিরপুরবাসীরা কেন এত উৎসাহী? সরেজমিনে খোঁজ নিতে বের হয় eআরকি সেলিব্রিটি গবেষক দল।

মিরপুরে পদার্পণ করতেই সেখানে eআরকিকবৃন্দ নিজেদের আবিষ্কার করেন এক তুমুল ধুলিঝড়ের ভেতর! তারা কি ভুল করে মিরপুর সাড়ে এগারোর বাসে না উঠে সাহারা মরুভুমির গাড়িতে উঠে পড়েছিলেন? 'তবে কি আমরা ভুল পথে এগোলাম' এমন চিন্তা করতে করতেই ধুলোর প্রকোপ খানিকটা স্তিমিত হওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন, এটি কোন মরুর প্রান্তর নয়, মেট্রোরেলের পাশে একটি স্থান। তবে ঢাকাই বেদুইন মিরপুরবাসীরা এই দুর্গম প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছেন হাতে হাত ধরে, শুধুমাত্র জোলির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। বিভিন্ন রকমের উন্নয়নকাজের সাইড ইফেক্ট জনিত খাদাখন্দ পার হয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলো, ‘কেন আপনারা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে মিরপুরের মাটিতে দেখতে চাইছেন? কী তার অপরাধ?’

মুখ থেকে ধুলোজমা মাস্ক খুলে জনৈক মিরপুরবাসী (তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন না, জ্যামে বসে থাকা এক ভুদাই ড্রাইভারের হুদাই বাজানো হর্নের শব্দে তার নাম শোনা যায় নি) আমাদের বলেন, ‘আপনাদের eআরকি তো আমাদের নিয়ে প্রতিদিনই দুই চার কথা লেখেন। সো আপনারা তো জানেনই, আমরা মিরপুরবাসীরা কীসের মধ্যে আছি। মেট্রোরেল, বিপিএল, বাণিজ্য মেলা যেন ত্রিশুল হয়ে বিদ্ধ করছে আমাদের। তার মধ্যে হয় ধূলা, নয়তো জলাবদ্ধতার সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলে আমাদের জীবন। আমরা কী দুঃখী নই? আমাদের কী দুর্দশা নেই? নাকি মিরপুরে থাকি বলে আমরা মানুষ না? জাতিসংঘ থেকে জোলি ম্যাডাম সরাসরি চলে গেলেন কক্সবাজারে। কিন্তু ঢাকার উপর দিয়ে প্লেনে যাওয়ার সময় কী আমাদের দিকে একটুও চোখ পড়ে নি? তিনি কি দেখতে পান নি ধুলার ঘুর্ণিঝড়ের নিচে মেট্রোরেলের কঙ্কাল? একটু সহানূভুতি কি মিরপুরবাসী পেতে পারে না?’

তার আবেগঘন চোখ থেকে দুঁ ফোটা জল গড়িয়ে মাটিতে পড়ার সাথে সাথেই সেখানে এক হাটু পরিমাণ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যায় eআরকি দল।

এরপর মিরপুরবাসীদের সাথে ডিজিটালি যোগাযোগ করা হয়। সেখানে একজন ফেক মিরপুরবাসীর প্রোফাইলের ইনবক্সে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের বলেন, ‘উনার “লারা ক্রফট: টুম্ব রেইডার’” সিনেমায় দেখেছিলাম প্রাচীন নিদর্শনের খোঁজে তিনি ঝাপিয়ে পড়েন নানা দুর্গম এলাকায়। তিনি যদি একবার আমাদের মিরপুরে আসতেন, তবে তিনি নতুন কোন গুপ্তধনের সন্ধানেও লেগে পড়তে পারতেন। এখানে রাস্তাঘাট আগে থেকেই অনেক খানি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। তাই তার কষ্টও কম হতো।’

 

মিরপুর নিয়ে আর পড়ুন-

৫০৪১ পঠিত ... ১৫:৩৩, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top