অন্যান্য দেশের নেতা-মন্ত্রীরা যে সব সামান্য ভুলের কারণে পদত্যাগ করেছেন

২২৫৭ পঠিত ... ২০:৩৯, আগস্ট ০২, ২০১৮

জাবালে নূর বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা গড়ে তুলেছে তুমুল আন্দোলন, একই সাথে উঠেছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগের জোর দাবি। আর এদিকে নিজের প্রতিক্রিয়ায় দাঁত প্রশস্থ করে হেসেই যেন শাজাহান খানের সাত খুন মাফ! এর আগেও নৌ মন্ত্রী ছাড়াও পদত্যাগ করার জোর দাবি উঠেছিল বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে। অন্যায়, দুর্নীতির অভিযোগেই কখনো আমাদের মন্ত্রী আমলাদের পদত্যাগের কোন উদাহরণ নেই, সেখানে স্রেফ হাসির জন্য পদত্যাগ করে ফেলবেন কেউ তেমনটা ভাবা দুষ্কর।

অথচ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদত্যাগ নিয়ে আছে বৈচিত্র্যময় এবং অদ্ভুত কিছু কাহিনী, যেখানে ‘নকল’ করার দায়ে কিনা পদত্যাগের পথ বেছে নিতে হয়েছিল এক রাষ্ট্রপতিকে। eআরকির অনুসন্ধানী ডেস্ক গবেষণা করে খুঁজে বের করেছে এমনই দশটি অদ্ভুত পদত্যাগের ঘটনা-

১# লর্ড বেইটস

লর্ড বেইটস যে কারণে পদত্যাগ করেছিলেন, তেমনটা করতে গেলে আমাদের দেশে ‘ঠগ বাছতে গাঁ উজার’ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা শুনেছে কেউ? এমন তাজ্জব কাণ্ডটি করেছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড বেইটস। ২০১৮ এর জানুয়ারিতে হাউজ অফ লর্ডসে দাঁড়িয়ে কর্মক্ষেত্রে দেরি হওয়ার কারণে ‘অনুতপ্ত’ বেইটস নিজের পদ ছেড়ে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এমন অদ্ভূতুড়ে পদত্যাগ পত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

২# লাল বাহাদুর শাস্ত্রী

রাজ্য সভায় রেল ও যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নিয়োগ পান ১৯৫২ সালে। কিন্তু ৫৬’তে মাহবুবনগরে রেল দুর্ঘটনায় ১১২ জনের মৃত্যুসংবাদে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু প্রথমে তা প্রত্যাখান করলেও তিন মাস পর তামিল নাড়ুতে ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা, প্রাণ যায় ১৪৪ জনের। এবারে নৈতিক জায়গা থেকেই সরে আসেন শাস্ত্রী, নেহেরুও সে পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেন। অবশ্য এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী লোকটি পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।

৩# জেসন স্পেন্সার

হোমড়া চোমড়া মানুষদের বোকা বানিয়ে ওস্তাদ ব্রিটিশ কমেডি অভিনেতা স্যাশা ব্যারন কোহেন, তার কাছ থেকে নিস্তার পাননি খোদ মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি প্রচারিত মকুমেন্টারি ‘দিস ইস আমেরিকা’য় কোহেনের বিছানো ফাঁদে পা দিয়ে ফেঁসেছেন জর্জিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর জেসন স্পেন্সার। টিভি ক্যামেরায় উচ্চারণ করেছেন নিষিদ্ধ ‘এন’ শব্দ ‘নিগার’, আর প্রদর্শন করেছেন নিজের পশ্চাত! তুমুল বিতর্কে শেষমেশ পদত্যাগ করেও নিন্দা থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না এই সিনেটর।

৪# অ্যাল ফ্র্যাঙ্কেন

২০১৬ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নিপীড়নের দায়ে ফেঁসেছেন অনেক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং রাজনীতিবিদ। মিনোসোটার সিনেটর অ্যাল ফ্র্যাঙ্কেন চলতি বছর নিজের দায়িত্ব ছেড়ে দেন যৌন নিপীড়নের ক্রমাগত অভিযোগে। নিজের পদত্যাগ পত্রে দায়ের আংশিক মেনে নিলেও আঙ্গুল তুলেছেন খোদ ট্রাম্পের দিকে, যার নামে যৌন নিপীড়নের বিভিন্ন অভিযোগ এসে এখন সয়লাব!

৫# চার্লস কেনেডি

মদ্যপানের অভ্যেস এতটাই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল স্কটিশ লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির দলনেতা চার্লস কেনেডির, শেষ মেষ দায় মেনে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন ২০০৬ সালে। স্বীকার করে নেন, বিগত আঠারো মাস ধরে অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে তার অবস্থা ছিল টাল’মাতাল’!

৬# এলিওট স্পিতজার

‘কল গার্ল সার্ভিস’ এর সুযোগ নিয়ে ২০০৮ সালে ফেঁসে গিয়েছিলেন তৎকালীন নিউ ইয়র্কের গভর্নর এলিওট স্পিতজার। তার নামে অভিযোগ ওঠে, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং গভর্নর হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি সে সময় পতিতাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নিজের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য। দায় মাথা পেতে নিয়ে স্পিতজার ২০০৮ সালে সরে আসেন।

৭# এস্তেইয়ে মরিস

নিজের দায়িত্বে নিজেকে ‘অনুপযুক্ত’ মনে করে ইতিহাসে পদত্যাগের ঘটনা রয়েছে- ব্যাপারটি রীতিমত অবিশ্বাসযোগ্য! সমসাময়িক সংস্কৃতি এবং মিডিয়ার সাথে তাল মেলাতে পারেন না- এমন স্বীকারোক্তি করে তৎকালীন ব্রিটিশ সংস্কৃতি, মিডিয়া এবং ক্রীড়া মন্ত্রী এস্তেইয়ে মরিস নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ২০০৫ সালে।

৮# প্যাল স্মিট 

একজন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যখন ‘নকল’ করার অভিযোগ আনা হয়, ব্যাপারটা কী রকম লজ্জাজনক তা বোধহয় হাঙ্গেরির সাবেক রাষ্ট্রপতি প্যাল স্মিট জানেন। নিজের ডক্টরেক্ট ডিগ্রির পেপারে সমাজবিজ্ঞানী ক্লাউস হাইনিম্যানের হুবুহু লেখা পাওয়ার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। এরকম নকলের দায় মাথা পেতে নিয়ে ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে আসেন স্মিট, আর নির্ভেজালভাবে নিজের ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করারও প্রতিশ্রুতি জানান।

৯# অ্যান্ড্রু মিচেল

ব্রিটিশ হাউজ অফ কমন্সের চিফ উইপ অ্যান্ড্রু মিচেলের নামে গুরুতর অভিযোগ আনেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে ‘নিচু শ্রেণীর নির্বোধ’ বলে গালমন্দ করায় মিচেলের নামে মিডিয়ায় শুরু হয় তোলপাড়। ‘প্লেবগেট’ কেলেঙ্কারি হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার কিছুদিনের মাথায় ২০১২ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন মিচেল, যদিও মিচেল অপমানসূচক কথাগুলো বলেছিলেন কিনা, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

১০# ক্লেয়ার পেরি  

বাংলাদেশের রেলওয়েতে ট্রেন দেরি করে স্টেশনে পৌঁছানো এক রোজগেরে ঘটনা। কিন্তু লন্ডনে এমন ঘটনা বার বার হওয়ায় পদত্যাগ করা ছাড়া কোন পথ খোলা ছিল না ২০১৬ সালে তৎকালীন রেল মন্ত্রী ক্লেয়ার পেরির। তিনি বাংলাদেশের রেল মন্ত্রী হলে খুব বেশি ঝামেলা হলেও হয়ত দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হয়ে থেকে যেতে।

২২৫৭ পঠিত ... ২০:৩৯, আগস্ট ০২, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top