‘ঘ' ইউনিটে প্রথম হয়ে ইউসিসির মিষ্টি খাওয়াটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভুল : একান্ত সাক্ষাৎকারে বাতাস

১৬১৪ পঠিত ... ১৮:০৩, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

'ঘ' ইউনিটের পরীক্ষা পুনরায় নেয়া হবে এমন খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই উক্ত ইউনিটে প্রথমবার প্রথম স্থান অধিকার করা ছাত্র বাতাস-এর বাসায়। সাক্ষাৎকার নিতে এসেছি শুনে ছেলেটা বিমর্ষ মুখে আমাদের ড্রয়িং রুমে বসতে বলে। দেখেই বুঝলাম সে প্রচন্ড মুষড়ে পড়েছে। আমরা কিছু জিজ্ঞেস করার আগে বাতাসই ম্লান মুখে বলল, 'সবই তো জানেন, তাহলে আবার কী জানতে এসেছেন?'


হাহাকার মেশানো এই প্রশ্ন শুনে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। আসলেই তো, এই ক্রান্তিলগ্নে ছেলেটা কীই বা বলবে!

কোনোমতে নিজেদের সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'পরীক্ষা বাতিলের খবরটা শুনে প্রথমে কী করলে?

'গলায় আঙুল দিয়ে হড়হড় করে বমি করলাম' বাতাস চোয়াল শক্ত করে উত্তর দিলো।

'কেন কেন? বমি করলে কেন? খবরটা শুনে কি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে?'

'না। অসুস্থ হইনি। বমি করে প্রথমে ইউসিসির খাওয়ানো মিষ্টি উগরে দিলাম। ওটা পলিথিনে ভরে রেখে দিয়েছি। সময় পেলে ইউসিসিতে গিয়ে দিয়ে আসবো। '

'মানে? বমি দিয়ে আসবে কেন! '

'দেখুন আমি এখন আর প্রথম স্থানে নেই। তাই ইউসিসির ওই মিষ্টি আমি আর ডিজার্ভ করি না৷ আমি চাই ওটা তারা নতুন কাউকে খাওয়াক।'

'এসব কি অভিমান থেকে বলছ?'

'আসলে ফার্স্ট হয়ে ইউসিসির মিষ্টি খাওয়াটাই ছিলো আমার জীবনের সব চেয়ে বড় ভুল। এটাকে 'রিয়ালাইজেশন' বলতে পারেন। '

'আচ্ছা আচ্ছা৷ অনুধাবন করেছো খুবই ভাল কথা। এখন কী প্লান করছ? আবার নিশ্চয়ই পরীক্ষা দিচ্ছ? '

'পরীক্ষা তো অবশ্যই দিবো। জীবন মানেই পরীক্ষা। তবে এবার প্রথম হলেও আর কোনো মিষ্টি খাবো না।'


'মিষ্টির উপর তোমার অনেক রাগ আর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দেখছি...'

'ক্ষোভ না। এটা প্রতিবাদ। এই দেশে চান্স পেয়ে মিষ্টি খাওয়াটা পাপ।'

'আবার কি নতুন উদ্যোমে পড়াশোনা শুরু করেছো?'

'হ্যা, পড়ছি। অনেক পড়ছি। সারাদিন ফেসবুকে মানুষের স্ট্যাটাস পড়ছি। আমাকে নিয়ে তাদের লেখাগুলো খুব মন দিয়ে পড়ছি।'

এ সময় বাতাসের চোখ ভিজে ওঠে। অশ্রু আড়াল করে বাতাস বলল, 'চান্স পেলে মিষ্টি খাওয়া এবং খাওয়ানো, এই ট্রেডিশনটা হাইকোর্টের মাধ্যমে আমি বাতিল করাতে চাই। শীঘ্রই ঢাবির উপাচার্যের বাসার সামনে অনশনে বসব।'

বাতাসে মন খারাপ সংক্রমিত হল আমাদের মধ্যে। আমরা আর প্রশ্ন করে ছেলেটার মন খারাপ করে দিতে চাইলাম না। বললাম, 'তাহলে বাতাস আজ যাই। তুমি তোমার আন্দোলন শুরু করো। আমরা পাশে আছি।'

'এখনই চলে যাবেন কেন? একটু বসুন। মিষ্টি খেয়ে যান।' বাতাস আমাদের বসতে বলল। এমন সময় বাতাসের আম্মু মিষ্টি দিয়ে গেলেন। বড় বড় রসগোল্লা, তবে কেমন যেন বাসি হয়ে গেছে।

আমরা কিঞ্চিৎ অবাক হলাম। মিষ্টি খেতে খেতে বললাম, 'এটা কিসের মিষ্টি বাতাস?'

বাতাস তার শার্টের হাতায় চোখ মুছে ছলছল চোখে বলল, 'চান্স পাওয়ার পর এই মিষ্টি আমি পাশের বাসার আন্টিদের দিয়েছিলাম। আন্টিরা আজ মিষ্টি ফেরত পাঠিয়েছে।'

কথাটা শুনে আমরা আর মিষ্টি গিলতে পারলাম না। দৌড়ে বাইরে এসে সব মিষ্টি উগড়ে দিলাম।

১৬১৪ পঠিত ... ১৮:০৩, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top