যে ১০টি কারণে লোকাল বাসে করে বাড়ি ফিরলেন কলসিন্দুরের ফুটবলার মেয়েরা

১৮৭৮৪পঠিত ...০০:৩২, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৬


লোকাল বাসে করে বাড়ি ফিরেছেন ইতিহাস গড়া বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব-১৬ দলের কলসিন্দুরের ফুটবলার মেয়েরা। কেন তাদেরকে লোকাল বাসে করে ফিরতে হলো, কেন তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় বাড়ি পাঠানো হলো না সেসব কারণ অনুসন্ধান করে নিচের ফলাফলগুলো পাওয়া গেছে।


ছবি : যমুনা টেলিভিশনের ভিডিও থেকে ধারণকৃত
১. ফুটবলাদের মেয়েদেরকে সম্মান জানিয়ে বাফুফে তাদেরকে বাড়ি ফেরার জন্য বিমানের বিজনেস ক্লাস টিকিটের ব্যাবস্থা করে দেয়। কিন্তু পরে দেখা যায় কলসিন্দুর এলাকায় বিজনেস ক্লাস ল্যান্ড করার যায়গা নাই। এমতাবস্থায় লোকাল বাসে করে ফেরা ছাড়া তাদের আর কোনো গতি ছিলোনা। ল্যান্ড করার যায়গা না থাকলে বাফুফের কী দোষ? ঐটা তো ভূমিমন্ত্রনালয়ের মামলা।

২. ফুটবলার মেয়েদেরকে সম্মান জানাতে তাদের মেট্রো রেলে করে বাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বাফুফে। সিদ্ধান্ত নেয়ার পর জানা যায়, দেশে আসলে এখনো মেট্রোরেল চালু হয়নি। তখন বাফুফে এই ফুটবলাদেরকে ২০ বছর পর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। এদিকে রেলমন্ত্রনালয় ২০ বছরের মধ্যেই কলসিন্দুর এলাকায় মেট্রোরেল চালু করার আশ্বাস দেয়।
আশ্বাসে ফুটবলার মেয়েদের মন না গলায় বাফুফে বাধ্য হয়ে তাদেরকে লোকাল বাসে করে বাড়ি পাঠায়। মেট্রোরেল না থাকলে বাফুফের কী দোষ?

৩. বাফুফে ফুটবলার মেয়েদের জাহাজে করে সম্মানের সহিত বাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহনের পর জানা যায় কলসিন্দুর একটি পাহাড়ি এলাকা, ওখান সাগর নাই, নদীও নাই। এমতাবস্তায় বাফুফে তাদেরকে ১৫ বছর পর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। নৌমন্ত্রনালয় কলসিন্দুর এলাকায় ১৫ বছরের মধ্যে গভীর নদী খননের আশ্বাস দিয়ে ফুটবলারদেরকে ১৫ বছর ফেরার পরমার্শ দেয়। 
আশ্বাসে নারী ফুটবলারদের মন না গলায় বাফুফে বাধ্য হয়ে তাদেরকে লোকাল বাসে করে বাড়ি পাঠায়। ফুটবলাররা ১৫ বছর অপেক্ষা করতে না পারলে বাফুফের কী দোষ?

৪. নারী ফুটবলারদেরকে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি ফেরানোর জন্য সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয় সিদ্ধান্ত নেয় নতুন একটি গাড়ি কেনা হবে। এজন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগসাজশ করে আগামী বাজেটে সড়ক ও যোগাযোগ খাতে আলাদা করে ২০ লাখ টাকা বেশি রাখা হবে। বাজেটের পর বাস কেনার দরপত্র আহ্বান করা হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। বাস কেনার জন্য তিন সচিব বিদেশ যাবেন। সেখান থেকে বাস পছন্দ করে দেশে নিয়ে আসবেন। সে বাসে করে ফুটবলাররা দেশে ফিরবেন।
কিন্তু এই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না ফুটবলাররা। এমতাবস্তায় তাদেরকে লোকাল বাসে করে পাঠানো ছাড়া বাফুফের কোনো গতি ছিল না। একটু অপেক্ষা করতে না পারলে কীভাবে হবে?

৫. কিছুদিন পরেই নারী ফুটবলারদের এসএসসি পরীক্ষা। বাফুফে ধারণা করেছে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় 'জার্নি বাই বাস' রচনাটি চলে আসার সম্ভবনা প্রবল। এসএসসিতে নারী ফুটবলাররা যাতে সফলভাবে রচনাটি লিখে পরীক্ষায় এ প্লাস পেতে পারেন এ কারণে তাদেরকে লোকাল বাসে করে বাড়ি পাঠিয়েছে বাফুফে। শুধু ফুটবল খেলকে তো হবেনা, পরীক্ষাতেও ভালো করতে হবে।

৬. নারী ফুটবলাররা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। বিমানে করে ঘুরাফেরা করেছেন। এই দেশের আলো, বাতাস, মাটি থেকে তারা ছিলেন অনেক দূরে। বাফুফে তাদেরকে আবার দেশের মাটির সাথে পরিচয় করে দিতে চেয়েছে। একারণেই লোকাল বাসে করে ফুটবলারদের বাড়ি পাঠিয়েছে বাফুফে। কবি বলেছেন, 'আমার দেশের মাটির গন্ধে...বাসের ঝাঁকি খেতে খেতে...একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়...'

৭. ফুটবলাররা দেশে ফিরে ক্রীড়া মন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। এ সময় মন্ত্রী আবেগভরা কন্ঠে বলে উঠেন 'সাব্বাশ সাব্বাশ সাব্বাশ'। এর পরই আসলে গন্ডগোলটা লাগে। মন্ত্রীর 'সাব্বাশ'কে ফুটবলাররা শুনেন, 'সব বাস, সব বাস, সব বাস'। একথা শুনে সব ফুটবলার সোজা বাসে উঠে পড়েন। এজন্যই কবি বলেছেন, কথা না শুনলে বিরাট বিপদ।

৮. দেশে ফিরে নারী ফুটবলাররা বাফুফে সভাপতির সাথে দেখা করেন। এসময় ফুটবলাররা বাফুফে সভাপতিকে বলেন ভবিষ্যতে তারা আরো ভালো করবেন। তখন সভাপতি বলে উঠেন, 'ব্যাস ব্যাস ব্যাস... যা করেছো অনেক।'
এই কথা বলার পরেই গন্ডগোলটা সৃষ্টি হয়। সভাপতির 'ব্যাস ব্যাস ব্যাস'কে তারা ধরে নেন 'বাস বাস বাস'। এই ভুল বোঝাবুঝির ফলে তারা সোজা বাসে উঠে
বাড়ি চলে আসেন। এখানে বাফুফেকে দোষ দেয়ার কিছু নেই। এটি ছোট্ট একটি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।

৯. নারী ফুটবলারদের সবাই বাংলাদেশী। একদম পিউর বাংলাদেশী। পিউর বাংলাদেশীদের বাসে করে যেতে সমস্যা কই? 'বাংলাদেশী বংশদ্ভুত' হলে না হয় একটা কথা ছিলো। তখন না হয় তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সহিত বাড়িতে পাঠানো যেতো। তারা 'বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত' না, এটা কি এখন বাফুফের দোষ?

১০. তারা যখন বিদেশে ছিলেন তখনই দেশে 'লোকাল বাস' নামক একটি গান খুব হিট হয়ে যায়। ফুটবল খেলার ফাঁকে ফাঁকে তারা ইউটিউবে মমতাজের 'লোকাল বাস' গানটি শুনতেন এবং উদ্বুদ্ধ হতেন। তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেন যে শিল্পী মমতাজকে সম্মান জানিয়ে দেশে আসলে তারা বিমান টিমানে না চড়ে লোকাল বাসে চড়েই বাড়ি ফিরবেন। এ থেকে বোঝা যায়, এ ঘটনায় বাফুফের আসলে কোনো দোষ নেই, সব দোষ মমতাজের। নীচে এই গানটি দিয়ে দেওয়া হলো--

১৮৭৮৪পঠিত ...০০:৩২, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    Bikroy
    Bdjobs
    rokomari ad
    evolution22
    
    Top