জীবনানন্দ দাশ যদি এই ছবিটি ফেসবুকে আপ করতেন তাহলে কী ধরণের কমেন্ট আসত

২৬৯০১পঠিত ...১০:৪৩, আগস্ট ১০, ২০১৬


নিচের ছবিটি জীবনানন্দ দাশের। তার আমলে যদি ফেসবুক থাকত বা তিনি যদি ফেসবুকের আমলের হতেন, তাহলে কী কী কমেন্ট পড়ত তিনি এই ছবিটি আপলোড করার পর চলুন বাস্তবতার নিরিখে দেখি--


১. চুল পড়তে-পড়তে ভাইয়ার মাথা যে স্টেডিয়াম হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে খেয়াল আছে? শুধু পোয়েম লিখলে হবে? নিজের টেক কেয়ার করতে হবে না?

২. ভাই, আপনি তো স্ট্যাটাস দিছিলেন— 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে।' আমি তো সারাটা দিন ধানসিঁড়ির তীরে আপনার লাইগা ওয়েটাইলাম। আসলেন না ক্যা? ভুয়া স্ট্যাটাস দেন ক্যা, মিয়া ফাউল!

৩. 'ফৌটো'টা আপনি নিশ্চয়ই 'ফৌন' থেকে তুলে 'আপলৌড' করেছেন। অ্যাম আই রাইট? তবে আপনি একজন 'পৌপুলার' 'কৌবি'। আপনার 'স্ট্যেইটাসের' সাথে এমন ফৌটো যায় না। আমি আমার ডিএসএলারে আপনার কিছু 'ভালৌ' ফৌটো তুলে দিতে পারি।

৪. ২ নং কমেন্টের সূত্র ধরে বলছি— জীবন বাবু এই বাংলায় আবার ফিরে আসতে চেয়েছেন 'হয়তো মানুষ নয়, শঙ্খচিল-শালিকের বেশে।' কিন্তু মানুষ হয়ে মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীর বেশ ধারণ করা খোদাদ্রোহের শামিল। আশরাফুল মাখলুকাত হিশেবে জন্মাবার জন্য যেখানে আপনার উচিত শোকর করা, সেখানে আপনি চেয়েছেন পশুপাখির বেশ ধারণ করতে! এটা শেরেক। জাহান্নামের আগুন থেকে পানাহ্ চাইলে জলদি তওবা করুন, আলোর পথে আসুন!

৫. ভাই, পাঞ্জাবিটা জোস হইছে, কলার থাকলে আরো ভালো লাগত। একটা কথা, ভাই; কিছু মনে করবেন না, ভাই— কবি হইতে গেলে পাঞ্জাবি পরাই লাগে? পাঞ্জাবি না পরলে কবি হওয়া যায় না? আরেকটা কথা, ভাই—আপনার মধ্যে কবিত্বের চেয়ে ফুটানিই বেশি দেখি!

৬. ৪ নাম্বার কমেন্টকারীরে বলি— তুই একটা আবাল, তুই তোর বাপের শুক্রাণুর অপচয়। সরকার নেটের দাম কমাইছে বইলা তোর মতো ছাগুরা এই নেটে ল্যাদাবার সুযোগ পাচ্ছে! দাদা, ব্লক হিম!

৭. দিন-দিন তো শুকিয়ে হাড় হচ্ছেন! কবিদের এত শুঁটকি হলে চলে? বেশি-বেশি খাবেন, আরো মোটা হতে হবে। মোটা হলে আপনাকে আরো সুন্দর লাগবে।

৮. দিন-দিন তো খোদার খাসি হয়ে যাচ্ছিস! কবিদের এত মোটা হলে চলে? কোন গুদামের চাল খাস? আরেকটু মোটা হইলে তো ফাইট্টা যাবি রে, হারামি!

৯. আজকালকার পোলাপান দু-চাইর লাইন লেইখাই নিজেরে কবি দাবি করে, নিজেরে আলাওল-মধুসূদন ভাবে! এই জীবন-বান্দররে আমি তিন বছর ধরে ফলো করি। এর থেকে এক লাইন, ওর থেকে দেড় লাইন কপি কইরা সে আজকাল ফেবু সেলিব্রিটি হইছে! যত্তসব বালপাকনা! আমার রিকু তিন মাস ধইরা ঝুলায়ে রাখছে! যা রে আবাল, তোরে ব্লক মারলাম!

১০. আপনি সুন্দর, সুন্দর আপনার কবিতারাও। অল্প কদিনেই ভক্ত হয়ে গেছি। আপনার এবং আপনার কবিতার। আমাকে বন্ধুতালিকায় নিয়ে নিলে ভালো লাগবে। শুভ কামনা রেখে গেলাম। সত্যম সুন্দরম!

১১. এইসব ফুল-ফল, লতা-পাতা, বাল-ছাল নিয়া আর কত লিখবেন! এবার একটু দেশের পরিস্থিতি নিয়া লেখেন। এই যে সরকার বিএনপির এত নেতাকর্মীরে জেলে ঢুকায়া রাখছে, মিটিং করতে দেয় না— এগুলা নিয়া লিখছেন কখনও? কবিরা খালি ছাল-বাকল নিয়া লেখে? দেশ নিয়া লেখে না? তা লিখবেন ক্যান! এই অবৈধ সরকাররে ৫ই জানুয়ারি যে ৫% লোক ভোট দিছিল, তারা তো আপনারই মতো মালু। রেন্ডিয়ার ভিসা করে রাখেন। বিএনপি আসুক, পালাবার জায়গা পাবেন না!

১২. কী রে বরিশাইল্লা! ডাইলে লবণ দেছো, না দেবা? (প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড, জাস্ট কিডিং)

১৩. ৯ নং কমেন্টকারীকে বলছি— ব্যবহারে বংশের পরিচয়। এভাবে বংশপরিচয় উন্মোচন করে না গেলে হতো না? আপনি নিজে কখনও জীবন দার মতো ঐ দুই-এক লাইন লিখতে পেরেছেন? আপনি একজন প্যাথেটিক লুজার। জীবন দা, এসব কীটদের কথায় মন খারাপ করবেন না। চালিয়ে যান, পাশে আছি।

১৪. কক গা মনার কোথা বোলা। গেবন দা, আপনের কক দোটো খোব সোন্দর। ঐ ককে গ্যানো গাদু আসা। আকাবারা প্রামা পোড়া গালাম!

১৫. আপনি লিখেছেন— 'সুরঞ্জনা, ঐখানে যেয়ো নাকি তুমি।' আপনার কাছ থেকে এটা কিছুতেই আশা করিনি! একজন নারী কই যাবেন না-যাবেন, এটা তার স্বাধীনতা। এমনকি তিনি কোন যুবকের সাথে কথা বলবেন না-বলবেন, কী করবেন না-করবেন; সেটাও তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনার কবিতা ও আপনি প্রচণ্ড নারীবিদ্বেষী। পুরুষতন্ত্রের ধ্বজাধারী এমন এক রক্ষণশীল কী করে এতদিন আমার ফ্রেন্ড লিস্টে ছিল, ভাবতেই আমার ঘেন্না লাগছে! আপনাকে আনফ্রেন্ড করতে বাধ্য হচ্ছি।


১৬. ব্রো, আপনি প্যাঁচা নিয়া এত পোয়েম লেখেন কেন? প্যাঁচা নিয়া লিখতে-লিখতে আপনার চেহারা যে প্যাঁচার মতো হইয়া যাইতেছে, জানেন?

১৭. 'সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়!' তারা আবার কথা কয় ক্যামনে? এই লাইনটা লেখার সময়ে গাঞ্জা একটু বেশি টানছিলা? শালা গাঞ্জুট্টি!

১৮. মনে হচ্ছে ছবিটি ক্রপ করা। পাশে ভাবি ছিল নাকি? পুরো ছবি দেখতে চাই, হুউম!

১৯. ভাই, ক্যামনে পারেন? ক্যামনে এত ভালো লেখেন! মাথা নষ্ট, ম্যান! দিন-দিন আপনার বনলতার পাঙ্খা হইয়া যাইতেছি! বনলতার সাথে আপনার একটা সেলফি দেখতে চাই।

২০. মেসেজ দিলে আপনি এত ভাব নেন কেন, জানতে পারি? পোয়েম আপনি একাই লেখেন? ছোটবেলায় পোয়েম আমিও লিখতাম, এখন ছেড়ে দিছি। সামনে এসএসসি পরীক্ষা বলে লিখছি না। নইলে আপনাকে শিখিয়ে ছাড়তাম পোয়েম কত প্রকার ও কী কী!

২১. কী মামা! তুমি নাকি খালি অন্ধকারে বনলতার মুখোমুখি বসো? বনলতা নাকি তোমারে দুই দণ্ড শান্তি দিছে? দুই দণ্ড শান্তি কারা দেয়,তা কি আমরা বুঝি না? বনলতার রেট কত? ধরা খাইয়া গেলা, মামা! বনলতার সাথে তোমার সব স্ক্রিন শট আর ভিডিও এখন আমার হাতে। তোমার সেলিব্রিটিগিরি আজকেই ছুটাইতেছি। জাস্ট ওয়েট!

২২. পড়ে না চোখের প্লক; অ্যাড মেহ্, আই অ্যাম ব্লক!

২৩. ব্রো, আমার জিএফকে নিয়ে একটা পোয়েম লিখে দেবেন?

২৪. কবি-কবি ভাব, কবিতার অভাব। মনে রাখবেন— সবাই কবি না, কেউ-কেউ কবি!

২৫. আপনার মা কুসুমকুমারী দাশ লিখেছিলেন— 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে? কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' বুকে হাত দিয়ে বলুন তো— আপনি কাজে কতটা বড় হয়েছেন? মায়ের কাব্যপ্রতিভার ছিটেফোঁটাও পেয়েছেন? মায়ের নাম বেচে আর কত দিন খাবেন? আপনার মায়ের ওপর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি— আর কত দিন 'কুসুমকুমারীর ছেলে' হয়ে থাকবেন? এবার 'কায়কাউসের ছেলে' হয়ে দেখান! দয়া করে এমন কিছু লিখুন, যাতে 'সাইয়েদ জামিল পুরস্কার' পান।

২৬. আপনি কি ঘরে বসে ১ মিনিটে ১০০০ টাকা আয় করতে চান? তাহলে এখনই এই পেজে লাইক দিন।

২৬৯০১পঠিত ...১০:৪৩, আগস্ট ১০, ২০১৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    স্যাটায়ার

    Bikroy
    Bdjobs
    rokomari ad
    evolution22
    
    Top