বাংলিশ ভাষার ব্যকরণ : শিখে নিন ফেসবুকে সঠিক নিয়মে 'বাংলিশ' লেখার নিয়মকানুন

১১৯৪ পঠিত ... ১৮:৩৯, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

বাংলা ও ইংরেজি ভাষার ব্যাকরণ, বানান, উচ্চারণ, নিয়ম, পদ্ধতি, ভুল, সঠিক নিয়ে বহুকিছু লেখা হয়েছে অনলাইন ও অফলাইনের ইতিহাসে। কিন্তু সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটাই লেখা হয়নি, তা হলো বাংলিশ ভাষার ব্যাকরণ কিংবা সহীহ বাংলিশ শিক্ষা, বা ইজি বাংলিশ গ্রামার। যার ফলে অনলাইনে বহু মানুষের চমৎকার সব নাম থাকা সত্বেও নারী পুরুষ নির্বিশেষে তারা সবাই আজ মুরাদ, মাথা ভর্তি সিল্কি চুল থাকা সত্বেও টাকলা। আর এই ভুলটা যে শুধুমাত্র সুশিক্ষার আলোবঞ্চিত লোকেরাই করে তা না, ভুলটা অনেকসময় বহু শিক্ষিত, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার, তন্ময় টাইপ লোকেরাও করে। এর একটাই কারণ, সঠিক কোনো পুস্তক, বা আর্টিকেলের অভাব। একজন হয়তো ইংরেজি ভালো পারে কিন্তু বাংলায় ভুল করে, এর কারণ সে অশিক্ষিত না, এর কারণ সে কখনো বাংলা লেখার সঠিক নিয়মটা পড়েনি, জানেনি, শিখেনি।

 

আজ যারা মুরাদ টাকলা তাদের মাঝে আমাদের ভাই, বোন, বন্ধু, আঙ্কেল, আন্টি, প্রেমিক, প্রেমিকারাও আছে। সুতরাং তাদেরকে সঠিক ব্যাকরণ শিখিয়ে অনলাইনের হেনস্থা থেকে মুক্তি দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আর সেজন্যই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমি সহজভাবে বাংলিশ লেখার কিছু কমন পদ্ধতি বা ট্রিকস আলোচনা করবো। সেটা ফলো করলে আশা করি ৯৮ শতাংশ মুরাদ টাকলার মাথায় চুল গজাবে। তবে চলুন, শুরু করা যাক। 

 

শুরুতেই আমি ধারণা দেবো কোন বাংলা বর্ণ লিখতে গেলে বাংলিশ ভাষায় ঠিক কোন ইংরেজি বর্ণটি ব্যবহৃত হবে সে সম্পর্কে।

আ = a

(মানুষ যে ভুল করে সেটা হলো, তারা তাদের দুর্দান্ত ব্রেইন দিয়ে ভেবে বের করে 'a' অক্ষরটার বাংলা উচ্চারণ যেহেতু 'এ' সেহেতু কোনো বাংলা শব্দে 'এ' থাকলেই বাংলিশে 'a' ঝেড়ে দাও।)

উদাহরণ- ‘একটা’কে লিখে akta, ‘এটা’কে লিখে ata.

না বন্ধুরা, আটা এবং এটা এক জিনিস নয়। সুতরাং বাংলায় কোনো শব্দে 'আ' থাকা মাত্রই চোখ বন্ধ করে বাংলিশে 'a' লিখুন। 

যেমন, আমার হবে amar, আটা হবে ata!

তাহলে ভাবছেন বাংলায় 'এ' থাকলে কি লিখবো? 'a' তো 'আ' নিয়ে গেল!

হ্যাঁ বন্ধুরা, এ = e হবে। বাংলায় এ শব্দটা থাকলেই চুপচাপ e লিখে ফেলুন।

উদাহরণ, এতিম হবে etim, এখানে হবে ekhane.

এবার হয়তো ভাবছেন বাংলা 'ই' এর উচ্চারণ তো ইংলিশে 'e' হয়। তা হোক, সেটা নিয়ে আপনার ভাবা লাগবে না। আপনি বাংলিশে 'e' শুধুমাত্র 'এ' বর্ণের ক্ষেত্রেই লিখবেন।

আর তাহলে 'ই' তে কী লিখব?

হুম আসছি। এবার মুখস্থ করুন।

ই = i

বাংলায় 'ই' বর্ণটা থাকলে বাংলিশে i (আই) লিখুন নিশ্চিন্তে।

উদাহরণ, ইলিশ হবে ilish, ইসলাম হবে islam, ইমান হবে iman!

a, e এবং i এই তিনটা বর্ণই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এগুলোতেই বেশি ভুল করে। এছাড়াও, উ = u হবে, ও = o হবে।

তো আমরা এতোক্ষণে শিখলাম বাংলা ভাষায় কোন বর্ণে বাংলিশে কোন বর্ণ বসবে। মনে রাখবেন, বাংলিশ একটা আলাদা ভাষা। এটাকে ইংরেজি বা বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসরণ করে পড়লে হবে না। বাংলা, ইংরেজি ভুল করলে তাকে বলা হয় অশিক্ষিত, অজ্ঞ, বোকা আর বাংলিশ ভুল করলে তাকে বলা হয় মুরাদ টাকলা।

চলুন আবার এক নজরে দেখে আসি বাংলা কোন বর্ণ বা অক্ষরে বাংলিশ কোন বর্ণ বা অক্ষর বসবে।

* আ = a
* ই = i
* উ = u
* এ = e
* ও = o

এগুলো সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং এগুলোতে মানুষ বেশি ভুল করে বলে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

এছাড়া আরও যেসব বেঁচে যাওয়া স্বরবর্ণ ও সমস্ত ব্যঞ্জনবর্ণের ক্ষেত্রে আপনি বাংলিশে অনুরূপ উচ্চারণের ইংলিশ বর্ণ ব্যবহার করলেই ৯৭% সঠিক হবে। বাকি তিন পার্সেন্ট ভুলকে আপনার পার্টনার স্পেলিং মিসটেক হিসাবে ধরে নিবে। নো টেনশন। তবে আরো যেসব বর্ণের ক্ষেত্রে কমন ভুল হয় তা পরে আলোচনায় আসব।

আমরা এখন জানব শব্দের মাঝে উপরের স্বরবর্ণগুলো বসলে তার উচ্চারণ কেমন হয়। যেমন শব্দের মধ্যে 'ই' আসলে সেটাকে ই-কার দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেমন, মানিক। মান + ইক। কিন্তু বাক্যের মধ্যে ই লেখা যায় না বিধায় ই-কার লিখতে হয়।

এভাবেই আ হয়ে যায় আ-কার, এ হয়ে যায় এ-কার, উ হয়ে যায় উ-কার, ই হয় ই-কার, ও হয় ও-কার।

এখন এখানে বাংলিশের নিয়মটাও সিম্পিল। এতক্ষণ যা লিখেছেন এবারো তাই ই লিখবেন। অর্থ্যাৎ আ এর ক্ষেত্রে যা লিখেছেন আকারের ক্ষেত্রেও তাই লিখবেন। ই এর ক্ষেত্রে যা লিখেছেন হ্রস্ব ই-কারের ক্ষেত্রেও তাই লিখবেন।

এইখানে পাবলিক আবারো আগের মতই মাতব্বরি করে। ভাবে এ-কারের ক্ষেত্রে a বসবে, যেমন- এ এর ক্ষেত্রে a দিত। না বন্ধুরা, আগেরটার মত এটাও ভুল। এ-কারের ক্ষেত্রে e বসবে।

উদাহরণ - আমাকে = amake, যেহেতু ক একার সেহেতু k এর পর e বসবে। amaka হবে না কোনোভাবেই।

তেমনিভাবে,

* এ কার= e উদাহরণ: তোমাকে= tomak 'e'
* আ কার= a উদাহরণ: তোমার= tom 'a' r
* ও কার= o উদাহরণ: সোনা= s 'o' na
* উ কার= u উদাহরণ: তুমি= t 'u' mi
* ই কার= i উদাহরণ: আমি= am 'i'

আশা করব উপরের এই পদ্ধতি ব্যবহার করলেই ৮০ শতাংশ ভুল কমে যাবে বাংলিশ লেখায়। মাথায় গজাবে চুল।

 

এছাড়াও আরো যেসব নিয়ম মেনে লিখতে হবে-

* গ এবং ঘ, ড এবং ঢ, চ এবং ছ, জ এবং ঝ, এগুলো আলাদা আলাদা বর্ণ। সুতরাং বাংলিশেও আলাদাভাবে লিখতে হবে। চ কে c লিখলেন আর ছ কেও c লিখলেন তা কিভাবে হয়? এক্ষেত্রে জাস্ট একটা বাড়তি h যোগ করে দিন।

যেমন-

গ = g আর ঘ = gh
ট = t আর ঠ = th
দ = d আর ধ = dh
জ = j আর ঝ = jh
ক = k আর খ = kh
স = s আর শ = sh
ত = t আর থ = th
ড = ড আর ঢ = dh

* জ এর ক্ষেত্রে j এবং য এর ক্ষেত্রে z লিখতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে এবং দুয়েকটা উল্টাপাল্টা লিখলে সমস্যা নাই।

* শব্দের মধ্যে কোনো একার, ওকার, ইকার, আকার, উকার না থেকে যদি শুধুমাত্র কয়েকটা পূর্ণ বর্ণ নিয়ে শব্দ গঠিত হয় সেক্ষেত্রে প্রতিটা বর্ণের পরে একটা করে o যোগ করতে হবে।

যেমন- বরন = boron, সময় = somoy, কলম = kolom.

এছাড়াও শব্দে একটা বর্ণ একার ওকার ও বাকি বর্ণগুলো একা থাকলে ঐ বর্ণের মাঝেও o দিয়ে দিতে হবে।

যেমন- নিলয় = niloy, বিনয় = binoy.

* য় এর ক্ষেত্রে y লিখতে হবে। i লিখলে হবে না। যেমন, সময় = somoy

* শুধুমাত্র বাংলা শব্দগুলোই ইংরেজি অক্ষরে লেখার সময় এই বাংলিশ ব্যাকরণ ব্যবহৃত হবে। ইংরেজি শব্দ সঠিক বানানেই লিখতে হবে। ইংরেজি শব্দ লেখার জন্য বাংলিশ গ্রামারের কোনো নিয়ম প্রযোজ্য না। যেমন রেজাল্ট কে Result ই লিখতে হবে, rejalt লিখলে সেটা ভুল। বাংলিশের নিয়ম এখানে প্রযোজ্য নয়।

* শর্টকাট লেখা বাংলিশ ব্যাকরণ সমর্থন করে না। tomake শব্দটা লিখতে সময় বাঁচানোর জন্য যারা tmk লিখছেন তারা ঐ বাঁচানো সময়টুকুতে কয়টা আইএলটিএস ক্লিয়ার করেন? vowel এর প্রতি কি এমন শত্রুতা আপনাদের? তারা কি আপনাকে গাছে তুলে মই কেড়ে নিয়েছিল? শব্দ লেখার সময় এদের বাদ দেন কেন?

সুতরাং শর্টকার্টে লেখালেখি বন্ধ হোক আজ থেকে। morning কে mr9 বা chat কে c8 লিখলে এতো ব্যাকরণ শিক্ষার পরও আপনি সেই মুরাদ টাকলা বলেই গণ্য হবেন।

উপসংহার: এই ছিল আজকের শিক্ষা। এইটুকু সেভ করে রেখে নিয়মিত তিন বেলা করে পড়বেন। পড়তে দিন টাকলা বন্ধু- বান্ধবী, আত্মীয়-স্বজন, প্রেমিক-প্রেমিকা, জাস্টফ্রেন্ড সবাইকে। আপনি কি চান না তাদের মাথাতেও চুল গজাক? আশা করব উপরের লেখাটুকু ফলো করলেই ৯০ শতাংশ বাংলিশ ঠিক হয়ে যাবে। তবে পরামর্শ থাকবে বাংলা শব্দ বাংলা অক্ষরে আর ইংরেজি শব্দ ইংরেজি অক্ষরে লেখাই উত্তম। এতে আপনার কুলনেস ড্যুডনেস একদমই কমে যাবে না। আজ এ পর্যন্তই। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর ফলো করতে থাকুন সহীহ বাংলিশ ব্যাকরণ বা সহজ বাংলিশ শিক্ষা।

১১৯৪ পঠিত ... ১৮:৩৯, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

কৌতুক

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top