'ইলেকশনোহসপিটালোসাইটিস' বা 'এরশাদ ডিজঅর্ডার : নির্বাচনবাহিত একটি ভয়াবহ রোগ

১৮৭৪ পঠিত ... ১৯:০১, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

চিকিৎসাবিজ্ঞানে সম্প্রতি সনাক্ত করা হয়েছে নতুন এক রোগ। নির্বাচনবাহিত এই রোগের বৈজ্ঞানিক নাম 'ইলেকশনোহসপিটালোসাইটিস'। তবে প্রথম যে রোগীর মাধ্যমে এই রোগ প্রকাশ পায় তার নামানুসারে একে 'এরশাদ ডিজঅর্ডার' নামেও ডাকা হচ্ছে।

চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত ম্যাগাজিন 'জাপা মেডিকেল' ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে সর্বপ্রথম এই রোগ সম্পর্কে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে। সেখানে এই রোগটি সম্পর্কে সামান্য ধারণা দেয়া হয়। এই রোগে আক্রান্ত প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তি হিসাবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ নামের একজন রাজনৈতিক নেতাকে তারাই সর্বপ্রথম শনাক্ত করে। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এরশাদ সাহেবের ওপর নজর রেখে, এবং তাকে প্রতিবার নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষণ করে এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে। জনসাধারণকে এই ভয়ংকর 'এরশাদ ডিজঅর্ডার' থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে এই রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো!

কারণ

এই রোগ ঠিক কিভাবে একজন মানুষের দেহে বাসা বাঁধে, এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা এখনো পাওয়া যায়নি। বলা চলে, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এই রোগ নিয়ে ধোয়াশার মধ্যে আছেন। তবে কারো কারো মতে মূলত দীর্ঘদিন ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার ফলে একজন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। নির্বাচনবাহিত রোগের সাথে সাথে এই রোগকে নেতাবাহিত রোগও বলা হয়। এই রোগের জীবাণুদের প্রথম পছন্দ কোনো নেতা। এছাড়াও এই রোগের আরো কিছু কারণ হলো, 'জোটের মধ্যে নিজের দলের দাম কমে যাওয়া, স্ত্রীর কথামত দল চলা শুরু হওয়া, সব আসনে একাই নির্বাচন করার আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে আসা, মিডিয়ার যথেষ্ট এটেনশন না পাওয়া এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতারের আশংকা হওয়া, মামলা কিংবা আদালতের হাজিরার ডেট নিকটে চলে আসা ইত্যাদি।

লক্ষণ

এই রোগ শুধুমাত্র রোগীর ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনেই নয়, এমনকি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে। বেশিরভাগ সময়ই সেই প্রভাব হাস্যকর হয়ে ধরা দেয়। কিন্তু কীভাবে বোঝা যাবে একজন নেতা এই ইলেকশনোহসপিটালোসাইটিস রোগে ভুগছেন? এক নজরে নিচের এই লক্ষণগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে নিন-
* একাকীত্বে ভোগা।
* বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া।
* ডাক্তাররা কোনো রোগ ধরতে না পারা।
* সকালে এক কথা এবং বিকালে আরেক কথা বলা।
* আত্মহত্যার ইচ্ছা হওয়া।
* রোগীর মধ্যে নিজের থুতু খাওয়ার ইচ্ছা জাগ্রত হওয়া।
* বারবার দল বদল করা এবং একেক সময় একেক দলের পক্ষে কথা বলা অর্থাৎ ডাক্তারি ভাষায় পল্টিবাজি করা।

উপরের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্তত তিনটি বা তার অধিক লক্ষণ কারো মধ্যে দেখা গেলেই বোঝা যাবে তিনি ইলেকশনোহসপিটালোসাইটিস বা এরশাদ ডিজওর্ডার রোগে ভুগছেন। তখন আর এক মুহুর্ত দেরি না করে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করে মিডিয়ার ফুল এটেনশন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংক্রমণের সময়কাল

এটা সাধারণত প্রতি ৫ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিশেষ একজন ব্যক্তির মধ্যে দেখা যায়। মেয়র বা চেয়ারম্যান, মেম্বার নির্বাচনের এই রোগ খুব সামান্যই মাথাচাড়া দেয়। মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হওয়ার আগের দুই মাস এই রোগের জীবাণু ছড়ানোর জন্য সবচাইতে ভালো সময়।

প্রতিকার

এই রোগের প্রতিকার নেই বললেই চলে। হাসপাতালে ভর্তি করে মিডিয়ার এটেনশন দিলে রোগ কিঞ্চিত উপশম হয়, কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় হয় না। ৫ বছর পর আবারো জাতীয় নির্বাচনের ডেট ঘোষণা দিলে রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তাররা এখন পর্যন্ত এই রোগ নিরাময়ের কোনো উপায় বা চিকিৎসা বের করতে পারেনি। তবে কিছু কিছু চিকিৎসা বিজ্ঞানীর ধারণা, রোগীকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করে দিলে রোগ পুরোপুরি নিরাময় হবে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অসম্ভব। এই চিকিৎসা করাতে গেলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। তাই আমরা ইলেকশনোহসপিটালোসাইটিস রোগের একমাত্র রোগী এরশাদ সাহেবকে সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।

উপসংহার

এই রোগ বড়ই ভয়ংকর রোগ। এটা শুধু রোগীকে না রোগীর দেশের মানুষকেও শেষ করে দেয়। জাতীয় রাজনীতিতে এই রোগ হাস্যরসের সৃষ্টি করে। এই রোগীর আশেপাশের অনেকেই হাসতে হাসতে মারা গেছে বলে মেডিকেল জার্নালের ইতিহাসে খবর পাওয়া যায়। সুতরাং এই রোগ এবং রোগী থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

১৮৭৪ পঠিত ... ১৯:০১, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

কৌতুক

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top