চিত্তবিনোদনের অভাবই হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ (১৬+)

৬৭৯৩পঠিত ...১৪:১০, আগস্ট ১২, ২০১৬


স্কুলজীবনে সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের একটি অসামাজিক অনুচ্ছেদ আমাদের কাছে বারমুডা ত্রিভুজের মতো রহস্যাবৃত ছিল। অনুচ্ছেদটি জনসংখ্যা-বৃদ্ধির কারণ-সংক্রান্ত। ঐ অনুচ্ছেদে লেখা ছিল— জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ 'চিত্তবিনোদনের অভাব'। তেরো বছর আগে বারো বছর বয়সী আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না— চিত্তবিনোদনের অভাব কীভাবে জনসংখ্যা বাড়া-কমার সাথে সম্পৃক্ত! পরীক্ষার খাতায় ব্যাপারটা লিখতাম ঠিকই, কিন্তু লিখতাম না বুঝেই।

গরমে সবই আইসক্রিমের মতো গলে গলে যায়। অলঙকরণ : তুলি
বরগুনা জিলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে তৎকালে সামাজিক বিজ্ঞান পড়াতেন মওলানা জালালউদ্দিন। কাঁচা-পাকা শ্মশ্রুমণ্ডিত এই মওলানা সাহেব একটি ব্যক্তিগত বেত বহন করতেন। চিকন তেলতেলে সেই বেতটি অন্য শিক্ষকদেরকে তিনি ব্যবহার করতে দিতেন না, তালাবদ্ধ করে রাখতেন ড্রয়ারে। সেই বেতের আঘাত একবার যে সয়েছে, পৃথিবীর আর কোনো আঘাতই তার কাছে আঘাত বলে ভবিষ্যতে পরিগণিত হবে না। এক সহপাঠী বুকে সাহস বেঁধে কাঁপতে-কাঁপতে জিজ্ঞেসই করে ফেলল— 'স্যার, চিত্তবিনোদনের অভাব কীভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে?' শ্রেণিকক্ষে তখন পিনপতন নীরবতা। সহপাঠীটি তৎমুহূর্তে যেন গোটা ক্লাসেরই মুখপাত্র, ওর উত্থাপিত প্রশ্নটি যেন তখন ক্লাসের প্রত্যেকেরই প্রাণের প্রশ্ন। কেউ একজন যখন জিজ্ঞেস করেই ফেলেছে, তখন আজ একটা এসপার-ওসপার হয়েই যাবে। সবাই যখন এ ওর মুখপানে শুকনো দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে, তখন মওলানা জালালউদ্দিন তার চিকন বেত্রদণ্ডটি ঊর্ধ্বে তুলে চোখ রক্তবর্ণ করে জবাব দিলেন— 'হারামজাদা, এটা তোর বাপের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস কর!'

সে যাত্রায় আমাদের জানা হয়নি প্রশ্নটির জবাব, তবু গোটা স্কুলজীবনেই পরীক্ষার খাতায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিশেবে নীল কালিতে দাগিয়ে লিখে এসেছি 'চিত্তবিনোদনের অভাব'। দেশে এখন চিত্তবিনোদনের অভাব তো নেইই, বরং আমাদের দেশে এখন চিত্তবিনোদন উদ্বৃত্তও থাকে। ফেসবুক নামক জুকারবার্গীয় বিনোদনব্যবস্থায় মানুষ এখন দিবানিশি এতই মগ্ন যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নগ্ন হবার কথাই মনে থাকে না।

বর্ষাকালে বাংলাদেশে বেবি বুম বা শিশুবিস্ফোরণ ঘটে। ঐ ঋতুতে বাংলার ঘরে-ঘরে অজস্র কচিকাঁচার জন্ম হয়। কারণে এই বঙ্গীয় জনপদের অধিকাংশ কচিকাঁচার পিতা-মাতারা শীতকালেই বীজতলায় চারা রোপণ করে থাকেন। যে শিশুটির বীজ শীতে রোপণ করা হয়েছে, তার জন্ম বর্ষায়ই হবার কথা। এই জনপদে শীতে কম সংখ্যক শিশু জন্মে; কারণ গ্রীষ্মের দাবদাহে যেখানে নিজের আঙুলের মাঝে নিজের আঙুল ঢোকানোই দুঃসহ, সেখানে শিশুবীজ রোপণের চিন্তা করাও দুঃসাধ্য! বারো মাস এহেন তাপপ্রবাহ থাকলে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিঃসন্দেহে কমে আসবে। বছরের ছয়টা ঋতুকেই গ্রীষ্মকাল হিসেবে ঘোষণা করাকে জনসংখ্যা-বৃদ্ধি রোধ করার উপায় বলে পরীক্ষায় খাতায় লেখা যেতে পারে!

এই নারকীয় গরমের মধ্যেও তোমরা যারা বিয়ে করছ, বাসর করছ, আদিম নাচন নাচছ; মূলত তাদের কথা ভেবেই এই লেখাটির অবতারণা। তোমরা ক্যামনে পারো, ম্যান? তোমাদের পা ছুঁয়ে সালাম করতে ইচ্ছে করছে! তোমাদের কাছ থেকে প্রজন্মের বহু কিছু শেখার আছে। তোমাদের কাছ থেকে শেখার আছে কীভাবে গরমকে ছুটিতে পাঠাতে হয়, কীভাবে শরীরে এসি লাগাতে হয়।

চিত্তকে যাহা বিনোদিত করে তাহাই চিত্তবিনোদন। অলংকরণ : সংগৃহীত
কক্সবাজারগামী বাসে পাশাপাশি দুই যাত্রী যাচ্ছিলেন। আলাপের এক পর্যায়ে ডানের যাত্রী শুধোলেন, 'তা ভাই, কক্সবাজার যাচ্ছেন কেন? বেড়াতে? না ব্যবসায়িক কাজে?' বাঁয়ের যাত্রী বললেন, 'হানিমুনে।' চোখ ছানাবড়া করে ডানের যাত্রী বললেন, 'মানে? তাহলে ভাবি কোথায়?' জবাবে বাঁয়ের যাত্রী যা বললেন; তা দাঁড়িয়ে শোনা যায় না, বসে শোনা যায় না, শুয়ে শোনা যায় না! তিনি বললেন, 'দেশে দ্রব্যমূল্যের যা অবস্থা, তাতে দুজন একত্রে হানিমুনে যাওয়া সম্ভব না। তাই হানিমুনে আপাতত একা যাচ্ছি, পরে হাতে পয়সা-কড়ি এলে ও ওর মতো করে হানিমুন করে নেবে!'

আমার জনৈক ব্যাংকার বন্ধুর বিয়ে সন্নিকটে, বাড়ি থেকে ওকে বিয়ে করানো হচ্ছে। বিয়েতে ও নিমরাজি। কনেকেও ওর পছন্দ, কনেরও ওকে পছন্দ; সমস্যা অন্যত্র। বাবা-মাকে ও কী করে বলবে— এই গরমে বিয়ে করা মানে বহুল আরাধ্য বাসরকে বেঘোরে বরবাদ করা? তবু এই গরমেই ওর বিয়ে। করণীয়র ব্যাপারে ও পরামর্শ চাইল। ওকে বলে দিয়েছি বাসর আপাতত আলাদা খাটে করতে আর উপর্যুক্ত কৌতুকের মতো হানিমুনে আপাতত একা যেতে। গরম কমে এলে এক খাটে পরে আবার বাসর করা যাবে, যাওয়া যাবে একসাথে হানিমুনেও। এই বৃক্ষশূন্য দেশে এই বৃক্কজ্বালানো গরমে বন্ধুটিকে এ ছাড়া আর কী পরামর্শই বা দিতে পারতাম?

৬৭৯৩পঠিত ...১৪:১০, আগস্ট ১২, ২০১৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    Bikroy
    Bdjobs
    rokomari ad
    
    Top