ডাক্তারদের আলোচনা এখন যেমন হয়

১৬৮৯পঠিত ...২১:৪৯, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

মেডিকেলের ক্যাফেটেরিয়ার আড্ডায় বসলেন এক দল ডাক্তার। শুরু হলো আড্ডা-

ডাক্তার নং ১ : ৩৯-এর সার্কুলার কবে দিবে বলে মনে হয়? জানুয়ারিতে না দেয়ার কথা ছিলো!
ডাক্তার নং ২ : সমস্যা নাই। ফেব্রুয়ারিতে দিয়ে দিবে। ২৮ তারিখ সম্ভবত। নিউজ২৪ ডট কমে গতকাল দিয়েছে।
ডাক্তার নং ৩ : আরে নাহ! ২৮ তারিখ না। মার্চের প্রথম সপ্তাহে দিবে। আমি শিউর। স্বাচিপের হাবিব ভাই তো আমার ক্লোজ মানুষ। গত সপ্তাহে চা খাইলাম একসাথে। উনি আগামীকাল সিংগাপুর যাচ্ছেন। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরলেই সার্কুলার।
ডাক্তার নং ৪ : পিএসসির চ্যায়ারম্যান আমার খালুর বন্ধু। উনি বলেছেন দেরী হবে আরো। নির্বাচন নিয়ে সরকার ব্যস্ত। এরকম সময়ে বিসিএস নেয়াটা এত সহজ না। দেশের অবস্থাটা তো বুঝতে হবে রে ভাই।
ডাক্তার নং ৫ : তা, আপনাদের প্রিপারেশনের কী অবস্থা? আমার তো খুব খারাপ। গতকাল শুধু আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী পড়লাম। ইংরেজি সাহিত্যটা পড়ি না অনেকদিন।

ডাক্তার নং ৬ : আমি ফিজিওলোজি পড়ি। ১০০ মার্ক্স তো মেডিকেল থেকে আসবে শুনলাম।
ডাক্তার নং ৭ : ১০০ মার্ক্স মেডিকেল থেকে আসবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী সচিব হচ্ছেন আমার আপন চাচার ভায়রা। উনি বিষয়টা ক্লিয়ার করেছেন। সুতরাং ফিজিওলোজি পড়ার কোনো মানে হয় না।
ডাক্তার নং ৮ : আমি এমপিথ্রি কিনেছি। সাথে কারেন্ট এফেয়ার্স পড়ছি। গতকাল উগান্ডার ইতিহাস পড়লাম। খুব ইম্পোর্টেন্ট। এখান থেকে ২ মার্ক আসবে শিউর।
ডাক্তার নং ৬ : না। উগান্ডার ইতিহাস থেকে ৩ আসবে। আমার ফুপা অ্যাচিভমেন্ট কোচিং-এ ক্লাস নেন। উনি বলেছেন। শিউর।
ডাক্তার নং ৭ : আমি অ্যাশিওরেন্স ডাইজেস্ট পড়ছি। খুব ভালো বই। ৩৮ বিসিএস-এ এসিউরেন্স থেকে ১৮৯টা কমন পড়েছে। আমার ৩৮ ভালো হয়েছে। ৯২টা শিউর দাগাইছি।
ডাক্তার নং ৮ : আমি শুনেছি ৩৮ বিসিএস থেকেই ১০ হাজার ডাক্তার নিয়ে নিবে। ৩৯ আর হবেনা। ৩৯ নিতে হলে অনেক আইন পরিবর্তন করতে হবে। আইন অনেক জটিল জিনিসরে ভাই। আমার বাবা বিচারপতি। আমি জানি এইগুলা চেঞ্জ করা কতো টাফ!
ডাক্তার নং ৯ : আমিও শুনেছি। ৩৮-এ যারা ৯০-এর উপর পাবে তাদের ডাইরেক্ট পোস্টিং। কিন্তু আমার টিকবে মাত্র ৮৭। ইশ! একটুর জন্য হলো না।
ডাক্তার নং ১০ : আমি শুনেছি ৩৯+৪০+৪১+৪২ সব একসাথে হয়ে যাবে। আগামী মাসেই হয়ে যাবে। গতকাল টিভিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর চেহারা দেখে আমার এইটা মনে হইছে।

আলোচনা আগায়। ঘড়ির কাটা ঘুরতে থাকে। ক্যালেন্ডারের পাতা উলটে যায়। বুক শেলফে পড়ে থাকা ডেভিডসন আর হ্যারিসনের উপর ধুলোর আস্তরণ জমে। বাড়তে থাকে পৃথিবীর বয়স। পরের দিন আবার আলোচনা শুরু হয়। একই যায়গায়... একই জায়গা থেকে...। তার পরের দিন আবার...পরের দিন আবার... তার পরের দিন আবার... এবং ... আবার...

১৬৮৯পঠিত ...২১:৪৯, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top