শরৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের এক মিনিটের রম্যগল্প

৩০০ পঠিত ... ১৪:০৪, জুন ২৭, ২০১৯


ভদ্রলোক থমকিয়া দাঁড়াইয়া পড়িলেন।

সন্ধ্যা হইয়া আসিয়াছে।  সূর্য অস্ত গিয়াছে, তবু দিনের আলো নিভে নাই। তিন এই জীর্ণ গলি ধরিয়া চলিতেছিলেন বোধ করি সান্ধ্য ভ্রমণে। যৌবন-পুষ্ট দেহে সাজ-সজ্জার বাহুল্যজাত আভিজাত্য প্রথমে চোখে পড়ে। সুবিন্যাস্ত কেশ, চিক্কণ গালে হালকা প্রসাধনের সুরভি।

চলিতে চলিতে হঠাৎ দাঁড়াইয়া পড়িলেন। পাশের কোনো বাড়ির দ্বিতল হইতে খানিকটা জল আসিয়া পড়িল তার মাথায়। পাঞ্জাবীর গায়েও কিছুটা লাগিয়াছে।

বিরক্তির সীমা রহিল না, যখন আবার তেমনি করিয়া খানিকটা জল আসিয়া গায়ে পড়িল। উপর দিকে তাকাইয়া হাঁক দিলেন, কে ওপর থেকে জল ফেলছেন? রাস্তায় মানুষ চলছে দেখতে পাচ্ছেন না?

কোনো উত্তর না পাওয়ায় আসিয়া দরজার কড়া নাড়িলেন। কিছুক্ষণ কড়া নাড়িবার পর একজন বাহির হইয়া আসিলেন। তরুণী। আটপৌরে একখানি শাড়ি আঁট করিয়া বাঁধা পরনে। সুশ্রী বয়ানে ক্লান্তিজাত মলিনতা। হাতে দুগাছি চুড়ি আছে- কি না আছে, গায়ের জামাটিও নেহাত মামুলী, তবু তাকাইয়া চোখ ফিরান যায় না। দরজা খুলিতেই ভদ্রলোক একটু বিচলিত হইয়া পড়িলেন।

: কাকে চাই আপনার?
: যিনি ওপর থেকে জল ফেলছিলেন তাকে চাই।

তাহার রোষ তখনও নেভে নাই।

তরুণী কিছু না বলিয়া জিজ্ঞাসু-নেত্রে ভদ্রলোকের পানে চাহিলেন।

: এইখানে দিয়ে যাচ্ছিলাম, পর পর দুবার ওপর থেকে জল পড়ল আমার গায়ে। আমি জানতে চাই- তিনি কি চোখে দেখতে পান না?

: আপনার গায়ে পড়েছে? ছি, ছি, মাপ করবেন। আমিই ফেলেছি। একেবারে দেখতে পাইনি।

তরুণী বড়ো লজ্জিত হইয়া পড়িলেন।

আবার বলিতে লাগিলেন, মানে ঘরের কাজ করতে করতে কখন সে জানালা দিয়ে থুথু ফেলেছি খেয়াল নেই। আপনি যেন কিছু মনে করবেন না।

তরুণীর বিপন্নতা দেখিয়া ভদ্রলোক বিচলিত হইলেন।

: এই, মানে আপনি ফেলেছেন! ইয়ে আপনি থুথু ফেলেছেন? না, তাতে কি আছে, আমি ভেবেছিলাম বুঝি জল!

 

[প্রকাশকাল ১৩৫৯। বৈশাখ। লেখাটি কুমারেষ ঘোষ প্রবর্তিত যষ্টি মধু-র  নির্বাচিত সংকলন থেকে সংকলিত ]

৩০০ পঠিত ... ১৪:০৪, জুন ২৭, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top