ইতালীয় বণিককন্যা যে বুদ্ধির জোরে নিজে বাঁচলো, বাবাকেও বাঁচালো

৯৬ পঠিত ... ২২:৩৯, মে ২৯, ২০১৯

অলংকরণ: তাভাস্কা
কোন এক শহরে এক বনিক তার মেয়েকে নিয়ে বাস করতো। খুব মন্দা যাচ্ছিলো বেচারার ব্যবসায়ে। এক মহাজনের কাছে ধারে অর্থ নিতে নিতে সুদে আসলে এমন হল দেনার পরিমান, কোনভাবেই তা শোধ করার সামর্থ্য রইলো না তার। মহাজনের মনটা ছিলো রাতের অন্ধকারের মতো কালো। নিজের স্বার্থ ছাড়া সে কিছুই বুঝতো না।

একদিন সে বনিককে বলল, দ্রুত সব ঋন শোধ করতে হবে, না হয় জেলে যেতে হবে। তবে একটি শর্তেই বনিককে দায়মুক্ত করতে পারে সে। তার সুন্দরী মেয়েটিকে বিয়ে দিতে হবে তার সাথে। 

কিন্তু এমন লোককে কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হলো না মেয়েটি। আবার বাবা আজীবন জেলে থাকবে, তাও মেনে নেয়া সম্ভব না তার পক্ষে। 

এদিকে মহাজন তখন তাকে অন্যভাবে ফাঁসানোর বুদ্ধি করলো। দুটি ছোট পাথর এনে রাখলো সে মেয়েটির সামনে। একটি সাদা, অন্যটি কালো। বলল, 'ঝুলির ভেতরে থাকবে দুটি পাথর। চোখ বন্ধ করে বেছে নেবে যে কোন একটি। সাদা পাথর তুললে তুমি আর তোমার বাবা, দুজনেই মুক্ত। আর কালো পাথর তুললে তুমি হবে আমার স্ত্রী, আর তোমার বাবারও থাকবেনা কোন দায়।‘ মেয়েটিকে বাধ্য করতে বেশ কিছু লোকজনকেও সাক্ষী বানালো সে।

মেয়েটির ছিল দারুণ বুদ্ধি ও তীক্ষ্ন চোখ। সে দেখলো, মহাজন কৌশলে দুটি কালো পাথর পুরে দিয়েছে ঝুলিতে। যাতে কোনভাবেই মেয়েটি না করতে পারে। ঘৃনায় রি রি করে উঠলো সে। তবু নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রন হারালো না সে। দেখলো, তার হাতে উপায় আছে কী কী!

১. চুপচাপ একটি পাথর তুলে নেয়া, আর সেই মহাজনকে বিয়ে করা। যেটা সে চাইছে না। 
২. সবাইকে জানিয়ে দেয়া। তাতেও লাভ নেই, সে বেঁচে গেলেও বাবাকে যেতেই হবে জেলে। 

কী করা যায়, কী করা যায়!

তখনই সে সমস্যা থেকেই সমাধানের সম্ভাবনা দেখতে পেলো। হাত দিলো সে ঝুলিতে, তুলে আনলো একটি পাথর। কালো পাথর। কিন্তু দেখতে দিলোনা কাউকে। বের করতে করতেই সে কৌশলে পাথরটা ফেলে দিলো ধুলোমাটির মাঝে। হায় হায় করে ছুটে এলো সবাই, খোঁজার ছলে মেয়েটিই সে পাথর পুঁতে দিলো ধুলোবালি আর মাটিতে গভীরে যেন কেউ আর খুঁজে না পায়।

সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলো মেয়েটি। তারপর নরম গলায় বললো, ‘একটি পাথর না হয় হারিয়েছে, আরেকটি তো রয়েছেই ঝুলিতে। সেটি পরখ করুন সবাই। সেটি দেখলেই তো বোঝা যাবে, কোন পাথরটি হারিয়েছে।'

তাই তো! উপুড় করা হলো ঝুলি, আর টুক করে গড়িয়ে পড়লো দ্বিতীয় কালো পাথরটি। সবাই খুব বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে একমত হলো, মেয়েটি তবে সাদা পাথরই তুলেছিলো।

মহাজনের মুখ সব হারানোর শোকে ফ্যাকাশে হয়ে উঠলো। আর জালিয়াতি ধরা পড়ার ভয়ে টু শব্দটিও করলো না। 

এদিকে মুচকি হেসে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো মেয়েটি। সে অবস্থাতেই তারা খুশি মনে বাড়ি ফিরে গেল।

[অজানা ইতালিয়ান লেখকের গল্প থেকে অনুদিত।]

৯৬ পঠিত ... ২২:৩৯, মে ২৯, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top