আলো ঝলমল যেই সকালে এক ইউনিকর্ন গোলাপ ফুল খেতে বাগানে নেমে এলো

১৩৯ পঠিত ... ২০:৩৭, মে ১৫, ২০১৯

 

সকালটা সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে। এক ভদ্রলোক প্রাতঃরাশ খেতে খেতে প্লেট থেকে মুখ তুললেন, তাকালেন বাগানের দিকে। দেখলেন একটা ইউনিকর্ন বাগানে গোলাপ ফুল খাচ্ছে; ইউনিকর্নটার গায়ের রঙ সাদা, শিং-এর রঙ সোনালী, নিঃশব্দে গোলাপ ফুলে খেয়ে চলেছে রূপকথার প্রাণীটা।

শোবার ঘরে ঢুকলেন ভদ্রলোক, তার স্ত্রী তখনও ঘুমে। স্ত্রীকে জাগিয়ে ভদ্রলোক বললেন, ‘শুনেছো, আমাদের বাগানে একটা ইউনিকর্ন এসেছে, গোলাপ  ফুল খাচ্ছে।‘

স্ত্রী চোখ মেলে স্বামীর দিকে তাকালেন, নিরুত্তাপ ঘুমজড়ানো গলায় ভদ্রমহিলা বললেন, ‘ইউনিকর্ন হলো পুরাকাহিনীর এক কল্পিত জীব, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।‘

পিছন ফিরে শুয়ে পড়লেন স্ত্রী। আবার ঘুমিয়ে পড়লেন।

শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে আস্তে আস্তে নীচের তলায় নামলেন ভদ্রলোক, তারপর বাগানে ঢুকলেন। ইউনিকর্নটা তখনও সেখানে রয়েছে। একটা টিউলিপ ফুল খাচ্ছে। এক লিলি ফুল তুলে গল্পকথার কল্পিত জীবটির দিকে এগিয়ে গেলেন ভদ্রলোক। বললেন, ‘এই যে ইউনিকর্ন, লিলি ফুল খেয়ে নাও।‘

ইউনিকর্ন এগিয়ে দেওয়া লিলি ফুলটা খেলো।

বাগানে ইউনিকর্নের মতো একটা জীব চরছে। ভদ্রলোক তো খুশিতে একেবারে ডগমগ।আবার উপরতলায় উঠলেন তিনি, স্ত্রীর ঘুম আবার ভাঙিয়ে বললেন, ইউনিকর্ন একটা লিলি ফুল খেলো।‘

ভদ্রমহিলা বিছানায় উঠে বসলেন, ঠাণ্ডা চোখে তাকালেন স্বামীর দিকে, বললেন, 'তুমি একটা আস্ত পাগল, এবার তোমাকে পাগলা গারদে পাঠাবার ব্যবস্থা করছি।'

পাগল, পাগলাগারদ–  এ কথাগুলো ভদ্রলোক কখনোই পছন্দ করেননি, আজকের এই রোদ ঝলমলে সুন্দর সকালে– যখন বাগানে একটা ইউনিকর্ন চরছে, তখন এসব কথা কি শুনতে ভালো লাগে?

এক মুহূর্ত ভাবলেন ভদ্রলোক; বললেন, 'ঠিক আছে, পরে দেখা যাবে।' দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন ভদ্রলোক। বললেন, 'জীবটার কপালের ঠিক মাঝখানে একটা সোনালি শিং।'

স্ত্রীকে এ কথা বলে ইউনিকর্নটাকে দেখবার জন্য ভদ্রলোক আবার বাগানে নেমে এলেন। কিন্তু ইউনিকর্নটা তখন চলে গিয়েছে। গোলাপ বাগিচার মাঝখানে বসলেন ভদ্রলোক। একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়লেন।

স্বামী ঘরের বাইরে যেতেই স্ত্রী বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লেন। ঝটপট সাজপোশাক পরে নিলেন। খুবই উত্তেজিত তিনি। ডায়াল ঘুরিয়ে পুলিশকে ফোন করলেন প্রথমে। তারপর ফোন করলেন এক মানসিক রোগের ডাক্তারকে। একই কথা বললেন দু জায়গায়। বক্তব্য হলো, 'শিগগির চলে আসুন আমাদের বাড়িতে... আমার স্বামী পাগল হয়ে গিয়েছেন। আসবার সময় একটা ‘স্ট্রেইট জ্যাকেট’ নিয়ে আসবেন।'

পুলিশের ক’জন লোক আর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এসে পড়লেন একটু পরেই। বসবার ঘরে চেয়ারে বসে তারা কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকালেন ভদ্রমহিলার দিকে। বললেন, ‘জানেন আমার স্বামী আজ বাগানে একটি ইউনিকর্ন দেখেছেন।' পুলিশের লোকেরা তাকালেন ডাক্তারের দিকে, ডাক্তারের দৃষ্টি আবার পুলিশের দিকে। ‘উনি আমাকে বললেন যে ইউনিকর্নটার কপালের মাঝখানে নাকি একটা সোনালি রঙের শিং।'

মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে ইঙ্গিত পেয়ে পুলিশের লোকেরা চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠল। জাপটে ধরলো মহিলাকে। কিন্তু তাকে বাগে আনা খুব সহজ হলো না। মহিলা সাংঘাতিক লড়লেন কিন্তু এতগুলো লোকের সাথে উনি আর কতক্ষণ লড়তে পারবেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের লোকের কাছে তাকে হার মানতে হলো। যখন তাকে স্ট্রেইট জ্যাকেট** পরানো হচ্ছিলো, তার স্বামী এসে ঘরে ঢুকলেন।

'আপনি কি আপনার স্ত্রীকে এমন কথা বলেছিলেন যে আপনি বাগানে একটা ইউনিকর্ন দেখেছেন?’ ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন।

'মোটেই না', স্বামী উত্তর দিলেন, ‘এমন অসম্ভব কথা বলবোই বা কেন?’ ইউনিকর্ন তো পৌরাণিক কাহিনীর এক কাল্পনিক জীব।‘

‘এটুকুই আমি জানতে চেয়েছিলাম’, ডাক্তার বললেন। পুলিশদের দিকে ফিরে বললেন, ‘হ্যাঁ আপনারা একে নিয়ে যান।‘

তারপর আবার স্বামীর দিকে তাকিয়ে ডাক্তার বললেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত, কিন্তু কী করবো বলুন... আমাকে তো কর্তব্য পালন করতেই হবে।‘

‘কি ব্যাপার?’ প্রশ্ন করলেন স্বামী।

‘আপনার স্ত্রী পাগল হয়ে গিয়েছেন; পাগলামির লক্ষণগুলি পুরোপুরি ফুটে উঠেছে তার কথাবার্তা আর আচার ব্যবহারে; কাজেই পুলিশের লোকেরা ওকে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।'

পুলিশের লোকেরা ভদ্রমহিলাকে নিয়ে গেলেন। মহিলা তীব্র চীৎকার করছিলেন, তীক্ষ্ম আর্তনাদ করছিলেন- অভিশাপ দিচ্ছিলেন ডাক্তার আর পুলিশের লোকেদের। কিন্তু কে শোনে তার আর্তকন্ঠ!

১৩৯ পঠিত ... ২০:৩৭, মে ১৫, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top