মীনা যখন দৈত্যের কাছে অনলাইনে নারীদের যৌন হয়রানির সমাধান চাইলো

১৪০৫ পঠিত ... ১৮:৪৬, মার্চ ০৭, ২০১৯

মীনা, মিঠু আর রাজুর কথা আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই। মীনা আর রাজু এখন শহরের ভার্সিটিতে পড়ে। ভার্সিটি থেকে ক্লাস করে এসে ক্লান্ত মীনা দাদীকে বলে, 'দাদী, রাস্তায় মানুষগুলা এমনভাবে তাকায় যেন আমি ভিনগ্রহের কোন এলিয়েন'।

দাদী মীনার মন ভালো করতে তাকে আলাদীনের দৈত্যের গল্প শুনায়।

গল্প শুনতে শুনতে মীনা ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যে মীনা স্বপ্ন দেখে, সে রাজু আর মিঠুকে নিয়ে আলাদীনের জাদুর পাটি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ মীনা দেখতে পেলো নিচে কয়েকটি ছেলে একটি মেয়েকে মাল, জিনিস এসব বলে ডাকছে, উত্যক্ত করছে। আতংকিত হয়ে মীনা জাদুর চেরাগে ঘষা দিল। সাথে সাথেই দৈত্য এসে হাজির...

দৈত্য: মীনা, বলো, তোমার প্রথম ইচ্ছা কী? তুমি কি ডিএসএলআর ওয়ালা বয়ফ্রেন্ড চাও?
মীনা: এসব কী বলো দৈত্য! আমার এসব লাগবে না। আমি চাই আমাদের শহরে কোন মেয়েকে মাল, জিনিস এইসব বলে কেউ ডাকতে পারবে না। যারা এগুলা করে তুমি তাদের গায়েব করে দাও।'
দৈত্য মীনার ইচ্ছা মত শহরে যারা মেয়েদের অশালীন কথা বলে তাদের উধাও করে দিল।

তারপর আরও কিছুদূর সামনে গিয়ে মীনা দেখতে পেল, বাস স্ট্যান্ডে ভিড়ের মধ্যে একটা লোক একজন নারীর গায়ে বারবার হাত দিচ্ছে। মীনা আবার তার চেরাগে ঘষা দিলো...

দৈত্য: মীনা, তোমার সেকেন্ড ইচ্ছা কী? তুমি কি পপুলার হতে চাও? তোমার কি ফেসবুকে লাখ লাখ ফলোয়ার লাগবে?

দৈত্যের কথা শুনে খুশিতে রাজুর চোথ চকচক করে উঠল। কিন্ত মীনা বললো, 'না দৈত্য, আমার এত ফ্যান ফলোয়ার লাইকের দরকার নাই। আমি চাই আমাদের শহরের কোন পুরুষ নারীদেরকে যৌন হয়রানি করবে না। যারা এগুলা করে তুমি তাদের গায়েব কইরা দাও।'

দৈত্য মীনার ইচ্ছামতো শহরে যেসব মানুষ বিভিন্ন সময়ে নারীদের যৌন হয়রানি করে, সবাইকে উধাও করে দিলো।

মীনা আর রাজু তাদের জাদুর পাটিতে করে শহরে আরও ঘুরতে লাগলো। সে সময় মীনার মেসেঞ্জারে হঠাৎ একটা মেসেজ আসলো। মীনা মেসেজ খুলতেই দেখলো একটা ছেলে তাকে পাঠিয়েছে, 'kanke mage hegab koe'। মীনা আবার তার জাদুর চেরাগে ঘষা দিলো...

দৈত্য: বলো মীনা, তোমার শেষ ইচ্ছা কী। তুমি কি কোনো সুদর্শন পয়সাওয়ালাকে বিয়ে করতে চাও?
মীনা: না না দৈত্য, আমি চাই ইন্টারনেটেও কেউ মেয়েদের যৌন হয়রানি করতে পারবে না, আজেবাজে খারাপ মেসেজ, খারাপ কমেন্ট করতে পারবে না। যারা ইন্টারনেটে মেয়েদেরকে উত্যক্ত করে, তুমি তাদেরকেও তুলে নিয়ে যাও ।

'তোমার হুকুমই আমার আদেশ' বলে দৈত্য হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। মীনা চমকে উঠলো... শুধু দৈত্য কই, পাশ থেকে যে রাজুও হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে!

মীনা ভয় পেয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়লো। দৌড়ে গেলো রাজুর বিছানার পাশে। ওই তো, রাজু আছে, ঘুমাচ্ছে বিছানায়।

মীনা বাকি রাতটা এই স্বপ্ন নিয়েই ভাবলো। সকালে স্বপ্নের কথা বললো দাদী, মা ও বাবাকে। মীনার দাদী বললেন, 'যারা এইসব করে, তাদের গায়েব কইরা দেয়া কোনো সমাধান না। তাদেরকে বুঝাইতে হইব।'

মীনার বাবা বললেন, 'মেয়েদের ফেসবুক প্রোফাইল লক করতে না বলে আমাদের ছেলেদের ফেসবুক চালানো শেখানো দরকার। মেয়েদেরকে অনলাইন বা ফেসবুকেও আজেবাজে কথা বলে উত্যক্ত করা যে অন্যায় এবং যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে, তা আমাদের ছেলেদেরকে বোঝাতে হবে। তাদের সাথে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে হবে। নারীদের সম্পর্কে তাদের যদি এমন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে উঠে থাকে সেটা বদলানোর চেষ্টা করতে হবে।'

মীনার মা বললো, 'আসো, আমরা সবাই মিলে রাজুকে বুঝাই।'

মিঠু পাশ থেকে শিস বাজিয়ে উঠলো, 'আমরা বন্ধুরা তিনটা ইচ্ছা পূরণ করবো, তোমরাও আসো তোমরাও আসো সাহায্য করতে আসো...'।

লেখা: রায়হান আমিন

 

আরো পড়ুন:

১৪০৫ পঠিত ... ১৮:৪৬, মার্চ ০৭, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top