বিশ্বের দেশগুলো কি সত্যিই এখন বাংলাদেশ হতে চায়? একটি সরেজমিন প্রতিবেদন

৩২৩৮ পঠিত ... ২১:৩৭, মার্চ ২৮, ২০১৯

সম্প্রতি একজন সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ বলেছেন, বিশ্বের দেশগুলো এখন আর সুইজারল্যান্ড হতে চায় না; হতে চায় বাংলাদেশ।

পর্যবেক্ষকরা প্রথমে বিস্মিত হলেও; পরে খোদ সুইজারল্যান্ডে সরেজমিন জানতে চেষ্টা করে তথ্যের সত্যতা। সুইস ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষ ব্যাংকার এ সম্পর্কে বলেন, 'আমি বাংলাদেশি ক্লায়েন্ট সংখ্যা দ্রুত বাড়া; প্রতিটি ক্লায়েন্টের একাউন্ট ব্যালেন্স বাড়তে থাকার গতি দেখে নিশ্চিত; বাংলাদেশ ইজ দ্য আল্টিমেট ডেস্টিনেশান অফ অপরচুনিটিজ। এতো বছর সুইস ব্যাংকে মোটা বেতনে চাকরি করেও আজ হতাশা জাগে। কেন যে বাংলাদেশে অভিবাসী হইনি! আমার স্ত্রী পরামর্শ রেখেছে, বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে চাকরি দেখার।'

বৃটেনের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইতিহাসবিদ বলেছেন, 'চোখের সামনে শুধু ইতিহাস ও রূপকথা চর্চা করে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছোট-বড় ইতিহাসবিদদের এই বৃটেনে যে রকম সম্পদবৃদ্ধি ঘটতে দেখেছি; তাতে অনুতাপ হয়; কী করলাম এতোবছর রাণীর ঘানি টেনে। এই ঘানিটা বাংলাদেশে গিয়ে টানলে, আজ লন্ডনে আমার কয়েকটা ভিলা থাকতো।'

আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির এক টপ নচ আইটি বিশেষজ্ঞ বলেন, 'এইখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আছে বিজনেসের ক্ষেত্রে। একটু বুদ্ধি করে বাংলাদেশে গিয়ে কিছু ল্যাপটপ এসেম্বল করে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারলে; আমার নাতি-পুতি পর্যন্ত থাকতো দুধেভাতে। তবে এখনো সুযোগ আছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে নাড়াচাড়া হচ্ছে ওখানে। ভাবছি বাংলাদেশে গিয়ে সহমত ভাই ফাউন্ডেশানে যোগ দেবো। আফটার অল মোটিভেশনাল স্পিকার বা ফরচুন টেলার হিসেবে ঢুকতে পারলেও ফাল হয়ে বের হতে পারবো।'

একই বিষয়ে আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন বলেন, 'আমি তো বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের অবসর-ভাগ্যকে ঈর্ষা করি। এতো কালারফুল লাইফ আমার কিংবা বুশের নেই। ভুল দেশে জন্মে আজ বড্ড কষ্টে আছি।'

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী এর আগে বলেছেন, প্লেন থেকে ঢাকাকে দেখলে লস অ্যাঞ্জেলসের মতো লাগে।

লস অ্যাঞ্জেলসের একজন পর্যটক ঢাকার আকাশ ঘুরে জানিয়েছেন, 'তথ্যমন্ত্রী বলেছেন আকাশ থেকে দেখতে। লস অ্যাঞ্জেলসে ক্রিসমাস ছাড়া তো আলোকসজ্জা হয় না। কিন্তু ঢাকায় বিভিন্ন দিবসে আলোকসজ্জা হয়। ফলে মন্ত্রী কথাটা ভুল বলেননি। ঢাকার মতো ইলেকট্রিসির বাম্পার প্রোডাকশান নিশ্চয়ই লস অ্যাঞ্জেলসে হয় না। ভাবছি ঢাকার ফ্লাইং ক্লাবে ভর্তি হবো। আলোকসজ্জার নেশা আমার কাটে না।'

একজন প্রতিমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'এই যে মন্ত্রী ও সাংসদরা বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ড আর ঢাকাকে লসএঞ্জেলেসের সঙ্গে তুলনা করেন, এটা কী সম্ভব!'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ভালো লাগা হচ্ছে ফ্রেম অফ মাইন্ড। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকি; শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে ঘুরি, অফিসে-সংসদে সর্বত্রই ঠান্ডা বাতাস। আর ইচ্ছা হলেই হেলিকপ্টারে পাখির মতো সারাদেশে ঘুরি। ফলে আমাদের কাছে বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর। কারণ সুইজারল্যান্ডে ভি আইপিদের কোন মর্যাদাই নেই।'

: কিন্তু সাধারণ মানুষের চোখে বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ড নয়; ঢাকাও লসএঞ্জেলেস নয়, তার কী হবে!

: এরা নিশ্চয়ই দেশের শত্রু। থিংক পজিটিভ। আমিও মাত্র পয়ত্রিশ টাকা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম; এখন কঠোর পরিশ্রম করে বিলিয়নপতি। ফ্রেম অফ মাইন্ড চেঞ্জ করুন; জীবনের গেম চেঞ্জ হয়ে যাবে। আপনি সুইডেন-নরওয়েতে খোঁজ নিন; ওখানকার প্রতিষ্ঠিত লোকেরা এসে এখন বাংলাদেশে থাকতে চান।

সুইডেন ও নরওয়েতে সরেজমিন তদন্ত করে দেখা যায় ঘটনা সত্য। জীবনের সব সাধ পূর্ণ হয়ে যাবার পর এক্সিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিস আর ভালো থাকার একঘেয়েমিতে সুইডেন ও নরওয়ের কিছু মানুষ আত্মঘাতি হন। আত্মহননে আগ্রহী একজন সুইডিশ বলেন, 'জানেন তো আকস্মিক মৃত্যুর আনন্দই আলাদা। কিন্তু সুইডেনে সে সুযোগ কোথায়! সড়ক দুর্ঘটনাও তেমন হয় না, রাজনৈতিক হানাহানি নেই, অগ্নিকান্ডে মৃত্যু নেই, নেই গণপিটুনি কিংবা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। একটু মরারও উপায় নেই এদেশে। রোমাঞ্চকর মৃত্যু হাতছানি দিচ্ছে। আমরা এর নাম দিয়েছি ডেথ টুরিজম। ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করেছি। চার্চে নিয়ম করে প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই ভিসাটা হয়ে যাবে কী বলেন!'

৩২৩৮ পঠিত ... ২১:৩৭, মার্চ ২৮, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top