নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি প্রশমনে শীঘ্রই মাঠে নামবে 'ফিরে যাও বাবারা' সমাজ

২৫৭৫ পঠিত ... ১৫:২১, মার্চ ২০, ২০১৯

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় যারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছিল, ‘তোমাদের দাবি তোমরা জানিয়েছো; এখন ফিরে যাও বাবারা; বাকিটা আমরা দেখছি।’ তারা আবার নড়েচড়ে বসে সুপ্রভাত পরিবহন জেব্রা ক্রসিং-এ আবরার নামের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিষে মারার পরে। আগেরবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রশমিত করার পর এই ‘ফিরে যাও বাবারা-সমাজ’ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অন্যান্য ইস্যুর জাস্টিফিকেশানে। এখন আবার নিরাপদ সড়ক ইস্যুটি সামনে এসে যাওয়ায় তারা ঠিক কী করবে বুঝে পায়না। অপেক্ষা করতে থাকে প্রশমন কাজে নামার জন্য। 

টিভি টকশো'তে ডাক পড়তে থাকে কিছু প্রশমন বিশেষজ্ঞ ও কিছু সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের। এমনি একটি টকশোতে একজন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, এরকম প্রাণহানি থামাতে প্রথমেই দরকার পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।

প্রশমন বিশেষজ্ঞ উত্তর দেন, আই হেইট পলিটিক্স মার্কা কথা বলবেন না। জীবনের প্রতিটি বিষয়ে রাজনীতি জড়িয়ে আছে; পরিবহন সেক্টর তার বাইরে হবে কেন!

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রতি মাসে চালকদের লাইসেন্সসহ সব কাগজপত্র চেক করা, আটক চালক ও সম্পৃক্ত সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তির ব্যবস্থা, ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালক অপসারণ এগুলো না করলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না।

প্রশমন বিশেষজ্ঞ বেশ খানিকটা অভিমানী হয়ে বলেন, আপনাদের এলিট মেন্টালিটির জন্য আপনারা সব সময় চালকদের দায়ী করেন। অথচ খেয়াল করেন না পথচারীরা কত বেখেয়াল হয়ে রাস্তা পার হন।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তোলেন, নিহত আবরার তো জেব্রা ক্রসিং দিয়েই রাস্তা পার হচ্ছিলো!

প্রশমন বিশেষজ্ঞ বলেন, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে চলবে না; ফুট ওভারব্রিজই একমাত্র সমাধান। আবরারের নামে ফুট ওভারব্রিজ হবে; মেয়র সাহেব তো বলেই দিয়েছেন।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, ফুট ওভারব্রিজ অনেক উঁচু বলে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের উঠতে অসুবিধা হয়। পথচারী তো নানা বয়সেরই থাকে। তাই জেব্রা ক্রসিং লাগবেই। বরং চালককে চিনতে হবে জেব্রা ক্রসিং। শুধু গরু-ছাগল চিনলেই যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হয়; তাহলে জেব্রা ক্রসিং আর মানুষ চেনা তো কঠিন হবেই।

প্রশমন বিশেষজ্ঞ রেগে যান, জনসচেতনতা তৈরির জন্য কোনদিন দু'কথা বললেন না; খালি আছেন নেগেটিভ চিন্তা নিয়ে।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় আন্ডারপাস, স্পিডব্রেকার ও ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে পুরো সড়কই যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়; তাহলে ঠিক কতগুলো ফুট ওভার ব্রিজ বানাবেন বলেন তো। গোটা শহরই তো তখন ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান হয়ে যাবে।

প্রশমন বিশেষজ্ঞ উত্তর দেন, নিহত আবরারের নামে ফুট ওভারব্রিজ তৈরির শুভ উদ্যোগে বাধা দেবেন না প্লিজ।

 

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা দাবি করেছিলো; সড়কে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি (আইনের পরিবর্তন), দায়িত্বে অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট বাসস্টপ ও যাত্রী ছাউনি করা, ছাত্রদের জন্য হাফপাস বা আলাদা বাস চালু করার। তখন তো বেশ বলেছিলেন, ফিরে যাও বাবারা, আমরা দেখছি; তা কতটুকু ফলো আপ করেছেন তার। কটা দাবি পূরণ হয়েছে আজ পর্যন্ত। আজ আবরার-এর মৃত্যুতে আবার হাজির হয়েছেন ফুট ওভার ব্রিজের গপ্পো নিয়ে।

প্রশমন বিশেষজ্ঞ বলেন, আহা আপনি ফুট ওভার ব্রিজের নামকরণ আবরার-এর নামে করার স্পিরিটটাই বুঝতে চাইছেন না।

সড়ক বিশেষজ্ঞ বলেন, শহরের স্থানে স্থানে এমন স্মৃতিসৌধের মতো ফুটওভার ব্রিজ বানাতে থাকেন। একদিন শুধু স্মৃতিসৌধগুলোই থাকবে; মানুষ থাকবে না। যেরকম সড়ক হত্যা চলছে প্রতিদিনই।

প্রশমন বিশেষজ্ঞ বলেন, আপনি বাসায় ফিরে যান প্লিজ। আমরা দেখছি।

২৫৭৫ পঠিত ... ১৫:২১, মার্চ ২০, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top