নির্বাচন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যখন ভোটকেন্দ্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করলেন

২০৭২ পঠিত ... ২১:৪১, মার্চ ১৮, ২০১৯

নির্বাচন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হাউমাউ করে শিশুর মতো কাঁদতে থাকেন। টিভিতে একের পর এক প্রতিবেদন দেখাচ্ছে; ভোটকেন্দ্র খালি, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারেরা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছে; নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে তরুণ যারা; তারা ধৈর্য্যের তার ছিঁড়ে স্কুলে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে স্কুল ছাত্রদের জন্য রাখা দোলনায় দুলছে; অপেক্ষা ক্লান্ত কয়েকটি কুকুর ঘুমিয়ে আছে ভোট কেন্দ্রের সামনের খাঁ খাঁ দুপুরের মাঠে।

টিভি প্রতিবেদন দেখে প্রচণ্ড প্রতিবেদনায় নির্বাচন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি আর্তনাদ করে বলেন, কুকুরগুলো সরিয়ে নাও; বড্ড লাগছে।

একজন প্রিজাইডিং অফিসার ফোন করে বলেন, স্যার আমি কুকুরগুলোকে অনেক অনুরোধ করেছি; কিন্তু তারা কিছুতেই ভোট কেন্দ্র থেকে সরে না। কুকুরদের মধ্যে একজন জানালো এক বিস্ময়কর তথ্য।

প্রোভিসি বলেন, কী তথ্য বলুন। থেমে গেলেন কেন!

: স্যার আপনি যদি অবিশ্বাস করেন; যদি ভাবেন ভোটারদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমার মাথাটা গেছে। যদি চাকরি চলে যায়!

: নিশ্চিন্তে বলুন, আমাদের কারো চাকরিই কী গিয়েছে! আপনারটাও যাবে না।

: কুকুর বলছে ওরা নাকি জাতিস্মর; তাদের পুনর্জন্ম হয়েছে।

: তাই নাকি! আর কিছু বলেছে!

: বলছে, ওরা নাকি সবাই আগের জন্মে রাত জেগে ভোট দিয়ে ব্যালট পেপার ভর্তি ব্যালট বাক্স তৈরি করেছে, কেউ কেউ দিনে দুপুরে ভোট ডাকাতি করেছে। তাই নাকি কাল রাত থেকে ভোট কেন্দ্রে শুয়ে শুয়ে তোরা বৃষ্টি ও সাহসী ভোটারের প্রার্থনা করছে।

উপাচার্যের কক্ষে হাজির হন একজন সভাসদ। তিনি খোঁজ নিতে এসেছেন, ভোট কেমন চলছে।

প্রোভিসি প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা শেষ করেন দ্রুততার সঙ্গে।

একজন সভাসদ বলেন, একটা দেশ যত সমৃদ্ধ হয়, ভোটারদের ভোট দেবার শতাংশ তত কমে যায়। আমার পরিবার আমেরিকায় থাকে। ওরা তো সব কিছু দেখে আর আমাদের এখানকার সঙ্গে মেলায়। ওখানেও অনেক ডেকে ডেকে ভোট দিতে নিয়ে যেতে হয় ভোটারদের। আপনারা বরং তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভোটকেন্দ্রে কিছু ইভেন্ট করুন। ভোট কেন্দ্রটা হ্যাপেনিং প্লেস না হলে তরুণরা আসবে কেন।

নির্বাচন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এর আগে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের সুকৃতির জন্য রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ কর্তাদের ফোন করে ভোটকেন্দ্রে ইভেন্ট আয়োজনের অনুরোধ জানানোর নির্দেশ দেন প্রোভিসিকে।

প্রোভিসি জিজ্ঞেস করেন, কেমন ইভেন্ট হবে স্যার!

উপাচার্যের মুখ থেকে উত্তর কেড়ে নিয়ে সভাসদ বলেন, আমাদের সাংস্কৃতিক বিপ্লবে গায়ক-গায়িকা, নায়ক-নায়িকা, জাদুকর ও মোটিভেশনাল স্পিকার রয়েছে; রয়েছে নৃত্য শিল্পী ও জোকার; তাদেরকে অনুরোধ করলে দেখবেন এমন মজমা জমিয়ে দেবে যে, ভোটাররা  জোয়ারের মতো হুড়মুড় করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবে।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের অভিজ্ঞান হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্তারা শোবিজের লোকেদের হেলিকপ্টারের করে ভোট কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করে।

এক ভোট কেন্দ্রে একজন গায়িকা গেয়ে ওঠেন-

এতো দিলাম জিডিপি গ্রোথ, এতো উন্নয়ন
ও নিঠুর বন্ধু তোমার পাইলাম না তো মন
ভোট দিতে আসোনাই দেইখা বুকটা ফাইটা যায়।

 

আরেক ভোটকেন্দ্রে একজন নৃত্য শিল্পী গানের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে নাচেন-

আমি তো ভালা না ভালা লইয়া থাইকো
ভোট না দিয়া শত ষড়যন্ত্রের রাক্ষসরে ডাইকো।

আরেকটি ভোটকেন্দ্রে একজন অভিনেতা বলেন, 'বাঘ আসতাছে খবর দিছে আকাশের লাল মেঘ; ঘুমাইয়া থাইকো না ভোটারসকল, ঘনমত হও, আওগাইয়া আসো, জাগো বাহে কুনঠে সবাই।'

জাদুকর জাদু দেখান, একজন প্রার্থীর নাম আর প্রতীক ছাপানো একটা ব্যালট পেপার ভাঁজ করে পকেটে রাখেন; তারপর পকেট ছিঁড়ে দেখান সেখানে ব্যালট পেপার নেই; সেই ব্যালট পেপার পাওয়া যায় ব্যালট বাক্স খুলে।

দর্শক শূণ্যতায় ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে নেতিয়ে পড়তে থাকে শিল্পীরা। কয়েকটি নিঃসঙ্গ টিভি ক্যামেরা ছাড়া আর কারো আগ্রহ নেই ভোট কেন্দ্রের ইভেন্টে।

২০৭২ পঠিত ... ২১:৪১, মার্চ ১৮, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top