যে ৭টি সম্ভাব্য কারণে জামায়াত ছেড়েছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক

৮৯০ পঠিত ... ১৯:২৩, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯

জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘ তিন দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতাদের প্রধান কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াত নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামায়াত যখন নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে রাজনীতি শুরু করার চিন্তা করছে, তখনই আসে দলটির এই জ্যেষ্ঠ নেতার পদত্যাগের খবর। 

জামায়াতের রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার পেছনে ব্যারিস্টার রাজ্জাক অবশ্য কিছু কারণও উল্লেখ করেছেন। একাত্তরের ভূমিকার জন্য দলটির ক্ষমা না চাওয়া, দলটির নাম পরিবর্তন না করার বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের অনড় অবস্থান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সংস্কার করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু এতদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বাংলাদেশের বিরোধিতা করা দলটির গুরুতপূর্ণ পদে থাকা এই ব্যক্তিটি এদ্দিন পর এসব কারণ নিয়ে সমস্যা বোধ করলেন কেন? নিশ্চয়ই এই পদত্যাগের পেছনে রয়েছে আরও সেনসিটিভ কিছু কারণ। 

চলুন, ভাবতে বসা যাক, ঠিক কী কারণে দীর্ঘ 'ত্রিশ বছর' পর জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্জাক।


১# হুট করে এক রাতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক স্বপ্ন দেখলেন, সাঈদী, নিজামী, গোলাম আযম ওরা মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজ করছে।' তিনি ভয় পেয়ে ঘুম থেকে উঠে যান। ভাবেন, ওরা তো খারাপ। ওরা তো রাজাকার। সেই মুহূর্তেই তিনি ভাবলেন, এই খারাপদের দলে আর এক মুহূর্তও নয়!

২# জামায়াত সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, জামায়াতের নেতারা একাত্তরে মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন, এসব তিনি এতদিন বিশ্বাস করতেন না। আদালতের রায়, সাক্ষ্যপ্রমাণ, কিছুই তিনি বিশ্বাস করেননি। কিন্তু হুট করে তিনি একটা পাথরের গায়ে লেখা দেখতে পান- J+P। তিনি এটা ডিকোড করে বুঝতে পারেন, এখানে জামায়াত + পাকিস্তান লেখা আছে। এরপর আর জামায়াতের সঙ্গে থাকার প্রশ্নই আসে না!

৩# রিলেশনশিপে কেউ সরি না বললে ব্যারিস্টার রাজ্জাক হার্ট হন। তবে সেজন্য তিনি অপরাধী ব্যক্তিকে সময় দেন। বেশি না, সর্বোচ্চ ত্রিশ বছর। ত্রিশ বছরের মধ্যে যদি কেউ সরি না বলে, তাহলে তিনি নিজেই 'আই এম সরি' বলে সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসেন। তাই জামায়াতের সঙ্গে তিনি ব্রেকাপ করেছেন।

৪# ব্যারিস্টার রাজ্জাক গত ত্রিশ বছর ধরে ঘুমে ছিলেন। তাই তার মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধ এসবের হিসাব ছিল না।

৫# তিনি আসলে ছিলেন জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক! এতদিন ধরে দলের লোকদের লাইনে আনার চেষ্টা করেছেন। অনেক বুঝিয়েছেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস এসব পড়ানোর চেষ্টা করেছেন। প্রেমিক-প্রেমিকারা যেমন অ্যাবিউজিভ পার্টনারের নানান গঞ্জনা সহ্য করেও বলে, 'আমি ভেবেছিলাম ও ভালো হয়ে যাবে', তার সাথেও হয়েছে এমন কিছু।

৬# বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাদেরই জেলা বা ফাঁসি হওয়ায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনিয়ে লাইনে আনার আর কাউকে পাচ্ছেন না।

৭# তিনি এতদিন ধরে ভাবতেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিপক্ষে যুদ্ধ করে পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে। সে হিসেবে জামায়াত এবং সেই দলের নেতারা আসলে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ইভেন তিনি ভাবতেন, সিরাজউদদৌলার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব মীর জাফরকে পরাজিত করেছিল ব্রিটিশরা। কিন্তু এক ফেসবুক সেলিব্রেটির স্ট্যাটাস পড়ে তিনি আমাদের সত্যিকারের ইতিহাস জানতে পারেন। এরপরও কি আর জামায়াতে থাকা যায়?


একটি বোনাস কৌতুক

দুই বন্ধু বাসে করে যাচ্ছিল। এক বন্ধুর নাম রাজ্জাক, অন্যজন জামায়াত। হঠাৎ বাসে ডাকাত পড়লো। রাজ্জাক তার বন্ধু জামায়াতকে বললো, 'তুই আমার কাছে যে পাঁচ হাজার টাকা পাইতি, এই যে দিয়া দিলাম। তোর সাথে সব দেনা পাওনা শোধ হয়ে গেলো।'

৮৯০ পঠিত ... ১৯:২৩, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯

আরও

 

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top