শাজাহান খানের পর আরও যারা বিভিন্ন কমিটির প্রধান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন

৬০৯৪ পঠিত ... ১৭:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

মাদক বিরোধী অভিযানে আজীবন মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল রাজনীতিক বদির পৌরোহিত্যে বদির ভাইসহ মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের খবরটি হিমেল বাতাসের স্পর্শে সবার প্রাণ জুড়িয়ে দেয় যেন।

আত্মসমর্পণের সময় বদির ভাইদের জমা দেয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। এগুলো একশনধর্মী চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে খেলনা পিস্তল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে; চলচ্চিত্র পরিচালকদের অনেকেই আশায় বুক বাঁধে।

আনন্দের খবর যখন আসে; তখন বানের জলের মতো হুল্লোড় করে আসে। সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে জীবন বাঁচানো  আন্দোলনের পৌরহিত্যে শামিল হলেন রাজনীতিক শাজাহান খান। মিস্টার খান নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সারাজীবন সাধনা করেছেন। সুতরাং তার চেয়ে যোগ্য মানুষ এ ক্ষেত্রে বিরল। যোগ্য মানুষটি যোগ্য কাজের দায়িত্ব পাওয়ায় আনন্দের সীমা-পরিসীমা নাই।

সচেতন নাগরিক সমাজ আলাপ-আলোচনা করে; এমন আরো অনেক যোগ্য মানুষ, যারা পরশ পাথরের মত; তারা এক একটি সমস্যা সমাধানের বনমালি হতে পারেন। যেমন কৃতি উদ্যোক্তা সালমান এফ রহমান। উনি শেয়ার বাজারটিকে সন্তানের অধিক ভালোবাসেন। তাই উনার পৌরহিত্যেই শেয়ার বাজারের ডাকাতি বন্ধ করা সম্ভব; এমন আশায় বুক বাঁধেন অনেকে।

আর আছেন শামীম ওসমান; যিনি সারাটি জীবন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গান্ধীজীর অহিংস মন্ত্র নিয়ে সোচ্চার থেকেছেন। তাকে রোল মডেল করে দেশব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী মোটিভেশনাল সভা যেন সময়ের দাবি। কেউ কেউ অভিমত রাখেন, শামীম ওসমান একজন ভাষাবিদ। উনি শিশুদের শালীন ভাষা ও শিষ্টাচার শেখানোরও যোগ্যতা রাখেন।

এটাই হয়, সৃষ্টিকর্তা যাকে গুন দেন; অকুন্ঠভাবে দেন। একই মানুষের এতো গুন যে তা বলে শেষ করার নয়। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন, রাজনীতিক ন ওসমান শালীন ভাষার নান্দনিক এক ভাষ্যকার। সুতরাং শিশুদের শালীন ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের নেতৃত্ব উনিই দিতে পারেন।

সমস্যা হচ্ছে সেলিম ওসমানও বহুগুনে গুনান্বিত। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে উনার যে অনিবার্য অবদান; তাতে সংখ্যালঘু রক্ষা কমিটির পৌরোহিত্যে উনার চেয়ে যোগ্য লোক কোথায়।

সমাজ পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, আমাদের সমাজটি গুনী মানুষের হীরের খনির মতো। এখানে গুনী মানুষ গিজগিজ করছে; ট্যালেন্ট হান্টিং করে যোগ্য মানুষকে যোগ্য কাজের দায়িত্ব দিলেই রাতারাতি সব সমস্যার জাদুকরি সমাধান এসে যাবে।

যেমন সংখ্যালঘু রক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে ফরিদপুরের প্রবাদপ্রতিম রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অমল আলোকবর্তিকা খন্দকার মোশাররফ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মন্দ্র আলোয় স্নাত করতে পারেন এই ব-দ্বীপটিকে।

ব্যাংক-সেক্টরের তহবিল ভক্ষণ ও বিদেশে টাকা পাচার ঠেকাতে ফার্মার্স ব্যাংকের সফল উদ্যোক্তা ও রাজনীতিক মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে সভাপতি করে 'ব্যাংক বাঁচাও' আন্দোলনের সূচনা করা গেলে; খুব সহজেই ব্যাংকগুলো ফলে-ফুলে ভরে উঠতে পারে।

হেলমেটের যত্রতত্র ব্যবহার অথচ আসল কাজের সময়; মানে মোটর বাইক চালানোর সময় হেলমেট একেবারেই পরতে চায় না বিপথগামী তরুণেরা। 'জায়গামতো হেলমেট পরুন' সামাজিক আন্দোলনে আলোর দিশারী হতে পারেন তরুণ রাজনীতিক পলক। কারণ তরুণ প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় মানুষ তিনি; উনিই হতে পারেন 'হেলমেটগ্রহ আন্দোলনে'র নায়ক।

একুশে বইমেলার ইতিহাসে এই প্রথম বইমেলা প্রাঙ্গনে গাড়ি নিয়ে হাজির হয়েছেন তরুণ রাজনীতিক মুরাদ। ব্যাগে করে; হাতে করে আর কটা বই-ই বা কিনে বাড়ি ফিরতে পারে পাঠকেরা। তাই মুরাদ চেয়েছেন পুরো গাড়ির ডিজ্ঞি ভরে বই কিনতে। গ্রন্থের প্রতি এতো অনুরাগ যার; তাকে বইপড়া আন্দোলনের নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া সময়ের দাবি।

এতো উজ্জ্বল নক্ষত্র হাতের কাছে রেখে হীরা ফেলে কাঁচ তুলে কেবল সমস্যা সমস্যা বলে চেঁচায় নাগরিক সমাজ। দেশপ্রেম না থাকলে যা হয় আর কি।

নতুন পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, অনেক শিক্ষিত তরুণ ইচ্ছা করে বেকার থাকে। উনার এ কথা শোনার পর সন্দেহ জাগে; এই যে যারা মুখপোড়া; সরকারের ভালো কাজ একদম দেখতে পায় না; তারা ইচ্ছে করে বেকার থেকে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। নতুন পরিকল্পনা মন্ত্রীর নেতৃত্বে "শখ করে বেকার থাকাদের কাজে ধরে আনো" আন্দোলনের সূচনা করে নিষ্ক্রিয় হাতগুলোকে করে তোলা যায় কর্মীর হাতিয়ার।

আর এই যে যারা ঢাকা শহরের এতো উন্নতির পরেও; বিশ্বের নিকৃষ্ট ট্রাফিকের শহর হিসেবে একে ধিক্কার জানাচ্ছে; তাদের দেখার চোখের মোটিভেশান দরকার। রাজনীতিক হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে 'আকাশ থেকে দেখা ঢাকা যেন লস এঞ্জেলেস' আন্দোলনের মাধ্যমে ঢাকা শহরের কোন সমস্যাকে সমস্যা মনে না হওয়ার 'থিংক পজিটিভ' মন্ত্রটি তরুণদের মনে জারিত করা সম্ভব।

সবশেষে আসে প্রবল পরিতাপের বিষয়। যে অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উত্থান; সে মূল্যবোধ অবহেলিত আজ; অনুশীলিত নয় প্রত্যাশিত মাত্রায়। তাই অসাম্প্রদায়িকতার হেফাজতে আলেম শাফির নেতৃত্বে 'অসাম্প্রদায়িকতার আলো জ্বালো হৃদয়ে' শীর্ষক শোকরানা মেহেফিলের আয়োজন করে অনায়াসে এই চিন্তার রোশনাই চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। আমরা আশাবাদী হতে পারি, আলো আসবেই।

৬০৯৪ পঠিত ... ১৭:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top