দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী তারা মিয়া যেভাবে পুলিশকে আক্রমণ করলো

১৬৯৭৮ পঠিত ... ২০:১৪, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

সুনামগঞ্জের অধিবাসী শারীরিক প্রতিবন্ধী তারা মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গত ২৮ ডিসেম্বর পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছেন। গত ২২ জানুয়ারি ঢাকার হাইকোর্টে জামিনের আশায় আসা তারা মিয়াকে আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায় (সূত্র: ডেইলি স্টার)। অতঃপর ২৪ জানুয়ারি তার ছয় সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট।

ছবি: ডেইলি স্টারের সৌজন্যে

জন্মগতভাবেই তার ডান হাতটি অস্বাভাবিক চিকন, নাড়াতেই কষ্ট হয়। কিছু ধরতে বা কাজ করতে পারেন না ডান হাত দিয়ে। বাম হাত তুলনামূলকভাবে লম্বা এবং বাঁকানো। খুব কষ্ট করে বাম হাত দিয়ে খেতে হয়। এই তারা মিয়াই চাপাতি, হকিস্টিক ও লোহার রড হাতে নিয়ে আক্রমণ করেছেন পুলিশের ওপর! ভিক্ষা করে জীবনযাপন করা তারা মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ এমন অভিযোগ এনে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থাৎ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে বিকাল ৪টার পর মল্লিকপুর বাজারে এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ৫২ জনকে আসামী করে মামলা
করেছে পুলিশ। তারা মিয়া সেই ৫২ জনের একজন।

কিন্তু কীভাবে এই শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটি পুলিশের উপর দুর্ধর্ষ হামলা চালালেন? আমরা তাই ভাবার চেষ্টা করেছিলাম 'দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী' তারা মিয়ার সেই পেছনের গল্পটি!

পুরো সুনামগঞ্জ কাপে দুধর্ষ সন্ত্রাসী তারা মিয়া ওরফে চাপাতি তারার আতঙ্কে। বিষাক্ত সাপ ব্লাক মাম্বা আর হিংস্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পরেই পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ঙ্কর প্রাণী হিসাবে বিবেচিত হয় চাপাতি বা হকিস্টিক হাতে তারা মিয়ার নাম। তার মূল অস্ত্র মূলত চাপাতি, হকিস্টিক আর লোহার বড় রড। এর যেকোনো এক হাতে থাকলেই তারা মিয়া একাই একশ। মুহুর্তের মধ্যে দশ বিশজনকে শেষ করে ফেলতে পারে। তার আক্রমণ এতটাই ভয়ঙ্কর যে ভয়ে থাকে খোদ পুলিশ বাহিনীও। পুলিশ বাহিনী জানে, তারা মিয়া একবার এক হাতে চাপাতি বা রড নিয়ে মাঠে নামলে তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্রও
কোনো কাজে লাগবে না।

এই তারা মিয়ার ভয়ে এলাকার মানুষ রাতে ঘুমাতে পারত না। রাস্তায় বের হতে পারত না। পারত না অফিস আদালতে যেতে। কিন্তু জনগণ ছিলো অসহায়। তাদের কিছুই করার ছিলো না। তারা মিয়ার হকিস্টিক ধরা একটা হাতের কাছেই জিম্মি ছিলো পুরো সুনামগঞ্জবাসী। তারা শুধু প্রার্থনা করে যাচ্ছিল, এমন কোনো মানুষের যে তাদেরকে রক্ষা করবে তারা মিয়ার নিষ্ঠুর হাত থেকে।

কিন্তু তামিল সিনেমার মত কোনো নায়ক আসেনি তাদেরকে তারা মিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে। এগিয়ে এসেছে সেই পুরাতন পুলিশ বাহিনীই। নির্বাচনের দুইদিন আগে তারা মিয়া যখন চাপাতি আর হকিস্টিক নিয়ে গাড়িভর্তি পুলিশের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে সবাইকে একদম মেরে আহত করে দেয়, তখন টনক নড়ে প্রশাসনের। এবার কিছু একটা করতেই হবে। এবার মামলা দেয়া হয় তারা মিয়ার নামে।

ব্যস, তাতেই জব্দ হয়ে যায় এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী! সে এখন আর মানুষকে আক্রমণ করার সময় পায় না। তার দিন কাটে জামিনের আশায় উচ্চ আদালতের সামনে হাটাহাটি করে। শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে সুনামগঞ্জের জনগণ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ২৪ জানুয়ারি পুলিশের ওপর সেই ভয়ংকর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুনামগঞ্জের তারা মিয়াকে ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সুনামগঞ্জের মানুষ আবারও আতংকে আছে! শঙ্কা ও ভয়ে আজ রাতেও হয়তো ওই এলাকার মানুষের রাত কাটবে বিনিদ্র... কি জানি কি হয়... এই বুঝি হকিস্টিক রড নিয়ে চলে এলো দুর্ধর্ষ তারা মিয়া...

১৬৯৭৮ পঠিত ... ২০:১৪, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top