বাংলাদেশ-অজি ঐক্যজোটের দাপটে বিশ্বকাপে ব্রেক্সিটের আশংকা

২৯৩ পঠিত ... ২৩:১৯, জুন ২৫, ২০১৯

ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর লর্ডসে অনুষ্ঠিত মিনি অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। বিপুল পরিমাণ টাইগার সমর্থনকে পুঁজি করে ইউরোপীয় সিংহদের হারিয়ে তাদের সেমিফাইনালই অনিশ্চিত করে দিয়েছে ক্যাঙারুরা। এতে করে বাংলাদেশসহ শ্রীলংকা এবং পাকিস্তানেরও সেমিফাইনালের আশা বেঁচে থাকল। 

পয়েন্ট টেবিলের জটিল সমীকরণে পরে বাংলাদেশের এখন তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে অন্য ম্যাচগুলোর দিকে। এর মাঝে আজকের ম্যাচটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ইংল্যান্ডকে জিততেই হতো আজকের ম্যাচ। অন্যদিকে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ইংল্যান্ডকে হারতেই হতো। তাই সমগ্র বাংলাদেশ পাঁচ টনের সমর্থন ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রতি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাহাড়সমান রান করেও তাদেরই এত সমর্থন পেয়ে কেমন বোধ করেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে সেই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড ওয়ার্নার একটু লজ্জা পেয়েই বলেন, ‘ক্রিকেটে তো একটু আকটু এসব হয়ই! তবে টাইগারদের মনে যাতে কোন ক্ষোভ না থাকে, তাই আমরা ম্যাচটি জিতেছি। আশা করি, তারা সেসব দিন ভুলে যাবে।’

উপমহাদেশ থেকে অগাধ সমর্থন পাওয়া সম্পর্কে অজি ক্যাপ্টেন অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই ভালো। তবে আজ বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান এমনকি ভারতেরও আকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে আমরা অপেক্ষাকৃত কম রান করেও জিতে গেছি।’ আড়াই কোটি জনসংখ্যার দেশের হয়ে খেলতে নেমে প্রায় ১৭০ কোটি মানুষের সমর্থনে চাপ অনুভব করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চাপ তো একটু ছিলই। দেখলেনই তো, মিডল অর্ডার কী করে ভেঙে পড়ল সেই চাপে! তবে সেই চাপে পড়েই তো ইংল্যান্ড আজকে ডুবে গেল। এখন বাকি দলগুলো তাদের পুরোপুরি ডুবিয়ে দিতে পারে কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।’

অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপ্টেন ফিঞ্চ সেঞ্চুরির মাধ্যমে দলের রানের মূল ভিত গড়ে দিলেও অন্য একজন কেড়ে নিয়েছেন সকল আলো। সেভেন কিংডমে যেমন স্টার্ক পরিবারের জয়জয়কার, তেমনি ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও একের পর এক ছোবল হেনে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছেন আরেক স্টার্ক। মিচের স্টার্কের ইয়োর্কারের বিষে আকাশী জার্সির ইংল্যান্ড হয়ে গেছে আরও নীল। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে আরেকবার জয়ের আশা দেখানো বেন স্টোকস এই ম্যাচে আউট হয়ে যান ৮৯ রানে। দলকে জেতাতে না পারা কিংবা সেঞ্চুরি মিসের ঘটনায় আফসোস আছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি শ্রীলংকা ম্যাচের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আজকে অন্তত অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাকিদের আসা যাওয়া দেখতে হয়নি।  শ্রীলংকার ম্যাচে যা হয়েছিল, সেই দুঃস্বপ্ন আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে।’ 

ম্যাচটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি সমর্থকরাও। এক বাংলাদেশি সমর্থক বলেন, ‘ক্যাঙারুদের অবস্থা তো আর আগের মতো নাই। সিংহদের হারাইতে তাই এখন টাইগারদের সাহায্য লাগে। তাই আমরা হুংকার দিলাম। দেখলেনই তো কী হইল! আমাদের মোটোই ছিল, খেলবে ক্যাঙারু জিতবে টাইগার!’ তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ-অজি ঐক্যজোটের কাছেই হেরে গিয়েছে ইংল্যান্ড। 

লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে নেমে সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে আরেকটি শতরানের ওপেনিং পার্টনারশিপ করেন ফিঞ্চ-ওয়ার্নার। ফিফটি করে ওয়ার্নার আউট হয়ে গেলেও ফিঞ্চ তুলে নেন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শতক। তবে সেঞ্চুরির পরের বলেই আউট হয়ে গেলে অজি শিবিরে যেন শুরু হয় আসা যাওয়ার মিছিল। অবশেষে নানা ভুলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২৮৫ রানে। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের ইংল্যান্ডের কাছে এই রান মামুলিই হবার কথা ছিল। কিন্তু স্টার্ক আর বেরেন্ডফের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই ধ্বসে পড়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ। মাঝে স্টোকস-বাটলার জুটি আশা দেখালেও, বাটলার আউট হয়ে গেলে হুমকির মুখে পড়ে ইংলিশ বিজয়। পরে স্টার্কের বিষাক্ত ইয়োর্কারে স্টোকস আউট হয়ে গেলে, বাকি উইকেট এই দুজনই ভাগাভাগি করে নিয়ে ৫ ওভার আগেই শেষ করে দেন ইংলিশ ইনিংস!

২৯৩ পঠিত ... ২৩:১৯, জুন ২৫, ২০১৯

Top