ক্রিকেট ছেড়ে আগামী অলিম্পিকে স্প্রিন্টার হিসেবে অংশ নেবেন ইমরান তাহির

১৩৩ পঠিত ... ১৯:০৩, জুন ২৩, ২০১৯

ক্যারিয়ারের অন্তিম সময় অতিক্রম করছেন বর্ষীয়ান দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার ইমরান তাহির। বিশ্বকাপে নিজ দল একেবারেই সুবিধা করতে না পারায় সময়টাও ভালো কাটছে না তাহিরের। তবে ক্রিকেটে সম্ভাবনা আর তেমন না থাকলেও, ইমরান তাহিরের সামনে খুলে গেছে অন্যরকম দুয়ার। ইতিমধ্যে ২০২০ সালের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিতব্য টোকিও অলিম্পিকের জন্য স্প্রিন্টার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে মনোনিত হয়েছেন ইমরান তাহির।

দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে তাহিরের মনোনয়নের খবরকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিশাল প্রতিভাকে চিনতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। দেরিতে হলেও আমরা আনন্দিত যে ক্রিকেটের মাঠে এমন একজন স্প্রিন্টারকে অবশেষে আমরা খুঁজে পেয়েছি। ক্রিকেটের মাঠে উইকেট পাওয়ার পরে তাহির যে বাতাসের গতিতে ছুটতে থাকেন তা যেকোনো দৌড়বিদের জন্যেই ঈর্ষা জাগানিয়া। আমরা আশাবাদী, ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে স্বর্ণপদক জিতবেন তাহির।‘      

এদিকে ইমরান তাহিরের স্প্রিন্টে আসার খবরে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট। বোল্ট বলেন, ‘আমি ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাহিরের ক্ষীপ্রগতি দৌড় দেখে বিস্মিত হয়েছি। ভেবেছি এই লোক ক্রিকেটে কী করছেন? তার আসল প্রতিভা দৌড়ে। তাহিরের দৌড় দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবে জাত দৌড়বিদ হওয়ার জিন তার রক্তে।' 

এদিকে স্পোর্টস জায়ান্ট এ্যাডিডাস ও নাইকি তাহিরকে তাদের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর করার ব্যাপারে সিরিয়াস ভাবনাচিন্তা করছে বলে একটি অবিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের বিশ্বাস কিছুদিনের মধ্যেই কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে তাহিরের পেছনে ছুটতে পারে স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলো। ব্র্যান্ডগুলো এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে আছে বলেও নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

অন্যদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় দার্শনিক স্লাভোয় জিজেক বলেন, ‘আমরা যে পোস্টমডার্ন পৃথিবীতে বাস করি ইমরান তাহির তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। কেবল পোস্টমডার্ন পৃথিবীতেই  ক্রিকেটের ময়দান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে একজন বিশ্বমানের দৌড়বিদ।’ পোস্টমডার্ন ক্যাপিটালিজম আরও অদ্ভুত সব সার্কাস অদূর ভবিষ্যতে দেখাবে বলেও হুশিয়ারি দেন বর্ষিয়ান এই স্লোভেনিয়ান তাত্ত্বিক।     

সর্বশেষ অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে অনুভুতি জানতে চাইলে তাহির eআরকিকে জানান, ‘ভাই, দৌড়ায়ে যে শান্তি পাই তা বলে বোঝানো যাবে না। উইকেট পাওয়ার চেয়েও ডানা মেলার মতো দুই হাত প্রসারিত করে দৌড়ানোয় বেশি তৃপ্তি। ক্রিকেটের মাঠে উইকেট পেয়ে দৌড়াতে গিয়ে একদিন হঠাৎ উপলব্ধি হলো, আমার আসলে প্রতিভা ক্রিকেট নয়, দৌড়ে। তারপর থেকে সুযোগ পেলেই জোরসে দৌড়াই। দক্ষিণ আফ্রিকার অলিম্পিক কমিটিকে ধন্যবাদ দিয়ে তাহির বলেন, তারা শেষ পর্যন্ত প্রতিভাকে মূল্যায়ন করতে পেরেছে বলে আনন্দিত বোধ করছি।’  

অনেক বেশি উইকেট নিয়মিত পেলে আরও আগেই তার দৌড় প্রতিভা সবার নজরে পড়তো বলে বিশ্বাস করেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়ার।

১৩৩ পঠিত ... ১৯:০৩, জুন ২৩, ২০১৯

Top