চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে শহরের মধ্যেই আবিষ্কৃত হলো নতুন এক ঝর্ণা

৪৮০ পঠিত ... ২২:২২, জুন ১৫, ২০১৯

পাহাড়ঘেরা ও সবুজে আবৃত জেলা চট্টগ্রামে আবিষ্কৃত হলো একেবারে নতুন একটি ঝর্ণা। সুবিশাল জেলা চট্টগ্রামের কোন পাহাড়ের গায়ে নয়, খোদ বন্দরনগরীতেই আবিষ্কৃত হয়েছে ঝর্ণাটি। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চট্টগ্রামবাসীদের চোখে পড়ে নগরের বুকে জেগে ওঠা এ ব্যতিক্রমধর্মী ঝর্ণা, তবে আজ আষাঢ়ের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম নগরী পেরিয়ে ফেসবুকবাসীরাও এই ঝর্ণাটি আবিষ্কার করেন।

ছোটবড় অসংখ্য ঝর্ণা লুকিয়ে আছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ের আনাচে কানাচে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য পর্যটক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যান এসব ঝর্ণা দেখতে। ট্রেক করে কিংবা দীর্ঘপথ হেঁটে এসব ঝর্ণা দেখে, ঝর্ণার পানিতে নিজেকে সিক্ত করে মুগ্ধ হন তারা। সেই চট্টগ্রামে আষাঢ়ের প্রথম দিনে, বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে শহরের মাঝেই আবিষ্কৃত হলো একটি ঝর্ণা, যা সাড়া জাগিয়েছে পুরো দেশব্যাপী।

ঝর্ণার খোঁজ পেয়ে eআরকির পর্যটক দল ছুটে যায় চট্টগ্রামে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় ফুড়ে যেমন বেরিয়ে আসে সুশীতল ঝর্ণাধারা, তেমনি নাসিরাবাদেও মুরাদপুর ফ্লাইওভারের ইট-পাথর ফুড়ে নেমে আসছে অবিরাম জলস্রোত। অসংখ্য পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা যায় নব্য আবিষ্কৃত ঝর্ণাটিতে। আবিষ্কারের প্রথম দিনেই শহরের নানান প্রান্ত থেকে ঝর্ণাটি দেখতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শহুরে পর্যটকরা। উচ্ছ্বসিত এক পর্যটক eআরকিকে বলেন, ‘আগে চট্টগ্রাম শহরে আসলে আপনি পেতেন একদিকে সমুদ্র আর একদিকে পাহাড়। আর এখন আমাদের শহরের মাঝেই আপনি খুঁজে পাবেন সুদৃশ্য এই ঝর্ণাটি। চট্টগ্রামের মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত।’  

অন্য এক পর্যটক বলেন, ‘সীতাকুণ্ড, মীরসরাইতে অনেকবার গেছি ঝর্ণা দেখতে। এখন আর কোথাও যেতে হবে না। ঘর থেকে বের হয়েই ঝর্ণার দেখা পাব, ভাবতেই ভালো লাগছে।’ অন্য এক চট্টলাবাসী এটিকে জলপ্রপাত বলে দাবি করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নগরী। বর্ষাকালে আমাদের শহর হয়ে যায় একটা সুবিশাল সুইমিংপুল। আর এখন এর সাথে যোগ হলো এই জলপ্রপাত। এটিকে ঝর্ণা বলে, এর মাহাত্ম ছোট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন অপপ্রচার রুখে দিতে হবে।’

তবে এমন একটি দাবিও উঠেছে যে, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকার কারণেই মুরাদপুর ফ্লাইওভারের পুডিং সরে গিয়ে মুষলধারে বৃষ্টিতে পানি পড়ছে সেই ফাঁক গলে। তবে এমন অভিযোগের কথা পুরোপুরি উড়িয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বর্ষায় ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারে আমরা উড়ন্ত নদী দেখেছিলাম। তাই আমাদের মনে হয়েছে এই ফ্লাইওভারেও একটি ঝর্ণা নির্মাণের। শুধুমাত্র ঢাকাবাসীই বৃষ্টিতে বিনোদিত হবে আর আমরা বিমর্ষ মুখে বসে থাকব, এমনটা কেন ভাবছেন? এটি আমাদের মাস্টারপ্ল্যানেই ছিল। ঝর্ণার জলধারা দেখলেই সেটি বুঝতে পারবেন।’

৪৮০ পঠিত ... ২২:২২, জুন ১৫, ২০১৯

Top