জ্যোতিষ দেওয়ান ম্যাককালামের চেম্বারে ক্রিকেটভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান

২১৭ পঠিত ... ১৫:৫১, জুন ০৩, ২০১৯

বসুন্ধরার দোতলায় জ্যোতিষ দেওয়ান ব্রেন্ডন ম্যাককালামের চেম্বার৷ চেম্বারের সামনেই বড় বড় করে লেখা, ভাগ্য ফেরাতে খাটি নিউজিল্যান্ডের পাথর দেয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে আমরা দেখতে পাই চেম্বারে নেই কোনো দর্শনার্থীর ভীড়। কেউ হাত দেখাতে বা পাথর ক্রয় করতে আসেনি। চেম্বারের মাঝে চুপচাপ মন খারাপ করে বসে আছেন জ্যোতিষ দেওয়ান ম্যাককালাম।

আমাদের সঙবাদদাতাকে তিনি জানান, 'প্রথমদিকে বেশ ভালোই কাস্টমার আসছিলো৷ পরে গতকাল বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে যাওয়ার পর থেকে আর কেউ আসছে না। উপরন্তু দুয়েকজন ফোন দিয়ে ভুয়া ভুয়া বলে ফোন রেখে দিচ্ছে৷ ব্যবসা একদম শেষ বলা যায়।'

এ সময় তাকে প্রতিবেদকের হাত দেখে দিতে বলা হলে তিনি হাত ধরে কিছুক্ষণ পর বলেন, 'ঈদের পরপর আপনি বাবা হবেন।'
'কিন্তু আমি তো বিয়েই করিনি', এটা শোনার পর ম্যাককালাম বলেন, 'আরে ভাই, বাবা হতে কি বিয়ে করা লাগে নাকি! আপনি দেখি কিছুই জানেন না...'

এদিকে ক্রিকেটভোক্তা অধিকার আইনে ম্যাককালামকে ভুয়া ভবিষ্যদ্বাণী দেয়ার অভিযোগে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একটা ভুয়া প্রেডিকশনযুক্ত ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। গতকাল বাংলাদেশ সাউথ আফ্রিকা ম্যাচের পরপর বাংলাদেশি ক্রিকেটভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তিন সদস্যের একটি টিম অভিযানটি চালায়৷

এরপরই চেম্বার বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছেন ম্যাককালাম। তিনি হতাশ কণ্ঠে eআরকিকে জানান, 'ভুল পেশায় নেমেছিলাম। আমার মনে হয় ক্রিকেট খেলাই ভালো ছিলো। জ্যোতিষীর কাজ আমাকে দিয়ে হবে না।'

শীঘ্রই দেশে ফিরে গিয়ে বাবার ব্যবসা দেখাশোনায় সময় দিবেন বলে আমাদেরকে নিশ্চিত করেন জ্যোতিষ দেওয়ান ম্যাককালাম। এ সময় তাকে ফেসবুক পেজের গালিগালাজ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মধ্যমায় নীল পাথর পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

[eআরকি একটি স্যাটায়ার ওয়েবসাইট। এখানে প্রকাশিত খবর বিশ্বাস তো দূরের কথা, অবিশ্বাসও করবেন না।]

২১৭ পঠিত ... ১৫:৫১, জুন ০৩, ২০১৯

Top