জ্যোতিষী লিটন দেওয়ানের কাছ থেকে পাঁচ আঙুলের পাথর নিয়ে ঠকে গেছেন থানোস

১৭৩ পঠিত ... ২২:৫২, মে ৩০, ২০১৯

ভাগ্য পরিবর্তনের নামে মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযগে বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত লিটন দেওয়ান চিশতীর ‘শেষ দর্শন আজমেরী জেমস হাউজ’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গত ২৯ মে (বুধবার) চালানো এক অভিযানে এই জরিমানা করা হয়। এ সময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা দোকানের লোকজনকে বলেন ‘আপনারা তো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেন। আমরা যে জরিমানা করতে আসব, সেটা আপনারা জানতেন না? আপনারা কেন নিজেদের ভাগ্য বদলান নি?’ খবর: সারা বাংলা ডটনেট।

এই খবরটি প্রকাশের পর থেকেই আলোচনায় চলে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দোকানির প্রতি ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্যটি কেন্দ্র করেই সকলের আলোচনা চলতে থাকে। অনেককেই লিটন দেওয়ানের এই ভাগ্য পরিবর্তনের নামে প্রতারণা নিয়ে অভিযোগ করতে দেখা যায়। এর মাঝে খবর হয়ে এসেছে, ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা করতে যাচ্ছেন টাইটান উপগ্রহের কৃতি সন্তান থানোস। এভেঞ্জার্স এন্ডগেম-এ তার ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের পিছনে লিটন দেওয়ানের দেওয়া পাথরই দায়ী, এমন অভিযোগ করেছেন তিনি।

আজ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নগরী ঢাকার কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এক সময়ের পরাক্রমশালী এই ভিনগ্রহীকে। উল্লেখ্য ঐ ভবনটিতেই অবস্থিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়। খবর পেয়েই eআরকির একটি চৌকস প্রতিনিধি দল চলে যায় কারওয়ান বাজারে। সেখানে গিয়ে একটি জটলার মাঝে লম্বা টাক মাথার ভদ্রলোককে দেখে এগিয়ে যাই সেদিকে। কাছে গিয়ে দেখা যায় একদল তরুণের সাথে কথা বলছেন থানোস। ভগ্নপ্রায় স্বাস্থ্য, চোয়াল ভেঙে গেছে, চোখের চারদিকে কালি পড়ে তাকে যেন চেনাই যায় না আর।

আমরা কথা বলতে চাই তার সাথে। eআরকির নাম শুনে তিনি সানন্দে কথা বলতে রাজি হন। বাংলাদেশে কেন এসেছেন জানতে চাইলে থানোস বলেন, ‘আমি আসছি মামলা করতে। সেইদিন অনলাইনে দেখলাম লিটন দেওয়ানরে জরিমানা করছে। তখনই মনে হইল আমারও উচিত ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা করা। আমাকে সে বলছিল, কোন এভেঞ্জার্স আমাকে খুঁজে পাবে না। কিন্তু ঐ হারাম*দা টনি স্টার্কের দল আমাকে হেনস্তা করল! লিটন দেওয়ানের শাস্তি নিশ্চিত না করে আমি বাংলাদেশ থেকে যাব না।’

ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বুঝেনই তো পাথরে আমার অনেক আগ্রহ। আমি মিশন শুরু করার আগে থেকেই লিটন দেওয়ান চিশতীর দরবারে আসতাম। তার কাছেই আমি সবগুলা ইনফিনিটি স্টোন চাইছিলাম শুরুতে। কিন্তু তার কাছে পাথরগুলা ছিল না। সে আমাকে অন্য একটা পাথর দিয়ে বলছিল যে, সেইটার ক্ষমতাতেই নাকি আমি সব পাথর পাব। আমি সব পাথর পাইলাম। তারপর আবার একবার আসছিলাম বেঁচে থাকা এভেঞ্জার্সদের কাছ থেকে কোন বিপদ আছে নাকি তার ভবিষ্যৎবাণী জানতে। লিটন দেওয়ান তখন বলে যে, আমার কোন বিপদ আর নাই। অথচ দেখেন, এন্ডগেমে আমার সাথে কী করল এইটা?’ টাইম মেশিন চক্রান্তে তার এতদিনের সাধের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়ার ভবিষ্যৎবাণী লিটন দেওয়ান জানাতে পারেন নি বলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন থানোস।

কিন্তু এতদিন ধরে তিনি কেন আসেন নি এমন প্রশ্নের জবাবে থানোস বলেন, ‘আমি ছিলাম অন্য একটা রিয়ালিটিতে। টনি স্টার্ক মরে গেছে কিন্তু শুনছি আরিয়া স্টার্ক নাকি নাইট কিংকে মেরে ফেলছে। তাই আসতে একটু ভয় হচ্ছিল। পরে শুনলাম সে নাকি অভিযানে গেছে। তাই চলে আসার সাহস পেলাম।’

১৭৩ পঠিত ... ২২:৫২, মে ৩০, ২০১৯

Top