জরিমানা এড়াতে জ্যোতিষরাজ লিটন দেওয়ানকে গ্রীন এমারাল্ড পাথর পরতে বললেন জনৈক অনুসারী

১৪৩ পঠিত ... ২০:৫১, মে ৩০, ২০১৯

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের লিফট যারা ব্যবহার করেছেন, তাদের কাছে জ্যোতিষ লিটন দেওয়ান অবশ্যই এক পরিচিত মুখ। লিফটের টিভিতে ভাগ্য জানা ও পরিবর্তনের জন্য ‘শেষ দর্শন আজমেরি জেমস’ এক অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হলেও, নিজেদের ভাগ্য গুনতেই ভুল করে ফেলেছেন তারা।

গত ২৯ মে বুধবার বিকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চালানো এক অভিযানে এই প্রতিষ্ঠানটিকে করা হয় ৫০০০০ টাকা জরিমানা। ভাগ্য বদলানোর পাথরের দাম প্রদর্শন না করায় তাদের এই জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই পাথর রপ্তানির কাগজপত্র এবং কীভাবে এই পাথর দিয়ে ভাগ্য বদলায়, তার ব্যাখ্যাও জানতে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও তাদের দোকানে অভিযান চালানো হবে- ভাগ্য বলার ব্যবসায় থেকে এই ব্যাপারটি আগে টের না পাওয়ার জন্য মৃদু ভর্ৎসনাও করেছে ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

জ্যোতিষবিদ্যায় শীর্ষস্থানীয় লিটন দেওয়ান, যার ভাগ্য গণনার সুনাম দেশব্যাপী (অন্তত বসুন্ধরা সিটির লিফটে), তিনি কেন এত বড় ঘটনার আগাম আভাস পান নি? জানতে সরেজমিনে বেরিয়ে পড়েন eআরকির দুর্ভাগা দলের সদস্যরা।

বসুন্ধরা সিটিতে পৌঁছে eআরকির সদস্যরা সরাসরি চলে যায় শেষ দর্শন আজমেরি জেমসের দোকানে। সেখানে ঢুকেই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার লিটন দেওয়ানকে দেখা যায় একটি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর নিয়ে নানা রকম হিসাব নিকাশ করতে। তিনি আমাদের উপস্থিতিতে খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পরলেও তিনি তৎক্ষণাৎ সামলে নিয়ে বলেন, ‘আমি আগেই টের পেয়েছিলাম আপনারা এখানে eআরকি করতে আসবেন। আমি সিরিয়াস মানুষ, eআরকি করা পছন্দ করি না বলে বিশেষ কোন আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখিনি।’

ভোক্তা অধিদপ্তরের এই অভিযান কেন টের পান নি, তা জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন ‘আপনাদের ভাগ্য বদলাতে বদলাতে নিজেদের ভাগ্যে টান পড়ে গেছে। আসলে ভাগ্য গণনা করতে আমরা যে ক্যালকুলেটরটা ব্যবহার করি, সেটিতে বেশ কিছুদিন ধরেই ঝামেলা চলছে। অন্যদের ভাগ্য ঠিকঠাকই দেখায়, কিন্তু নিজের ভাগ্য দিলেই সেখানে syntax error আসে।’

কিন্তু এর আগে বসুন্ধরা সিটিতে দুই-দুবার আগুন লাগার ঘটনাতেও তো আপনি আগাম কোনো সতর্কবার্তা দিতে পারেননি, তখনো কি এমন ইরর দেখাচ্ছিল? এমন প্রশ্নে লিটন দেওয়ান বলেন, ‘না না, সেরকম নয়। তখন ক্যালকুলেটরের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছিলো। দুবারই কীভাবে যে এমন হলো…’

এ সময় আমাদের প্রতিবেদক ‘বলুন তো আপনাকে আর কতক্ষণ eআরকির সাথে কথা বলতে হবে?’ এমন প্রশ্ন করলে দেওয়ান সাহেব ক্যালকুলেটরে হিসাব করে তা তাকে দেখিয়ে বলেন, ‘এইযে, দেখছেন, সিনট্যাক্স ইরর দেখায়। কী যে ঝামেলা হইলো…’

ঠিক সে সময় সেখানে এক রাগান্বিত ভদ্রলোক প্রবেশ করেন। তার কাছে কী বিষয় তা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এক মাস আগে এক মামলায় জেতার জন্য এই এমারেল্ড পাথরটা নিছিলাম। এই লোক বলছিলো এই এক পাথর পরলেই কেস-মামলা সব সলভ হয়ে যাবে। এই বিশ্বাসে গা ছাড়া দিয়ে বসে এখন আমি মামলায় হাইরা গেছি। আমার সব শ্যাষ...’

এই পর্যায়ে তিনি পাথরটি মাটিতে ছুড়ে মেরে বলেন, ‘নে ব্যাটা, এই পাথর তুই-ই হাতে দিয়া এইবার তোর জরিমানা মাফ করা।’

জ্যোতিষী না হলেও আসন্ন উত্তপ্ত পরিস্থিতি টের পেয়ে আমাদের প্রতিবেদক দ্রুত চেম্বার ছেড়ে ছুটে পালিয়ে যান!

১৪৩ পঠিত ... ২০:৫১, মে ৩০, ২০১৯

Top