ঢাকার রাস্তায় গাড়িদের এক মনোরম মত বিনিময় সভা, আলোচনার বিষয় ঢাকার জ্যাম

১১৭ পঠিত ... ১৭:৩৮, মে ২৬, ২০১৯

সচেতনতা বৃদ্ধি, করণীয় নির্ধারণ কিংবা সংকট নিরসন; এমন বিভিন্ন প্রসঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের আমরা দেখে থাকি সভা-সেমিনার করতে। তবে ইন্টারনেটে পাওয়া একটি ছবি থেকে সম্প্রতি জানা গেছে এক ব্যতিক্রমী মত বিনিময় সভার কথা। রাজধানী ঢাকার একটি রাস্তায় গাড়িবন্ধন শেষে এক মত বিনিময় সভায় অংশ নিতে দেখা যায় নানান শ্রেণীর যানবাহনকে। শহরের যানজট এবং তা থেকে উত্তরণের নানান দিক নিয়ে এই সভায় আলোচনা করেন বক্তারা।

ছবি: ফেসবুক থেকে পাওয়া

এই অভিনব সভার খোঁজ পেয়ে eআরকি দল ছুটে চলে ঘটনাস্থলের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় গাড়িবন্ধন শেষে আলোচকরা সবাই বসেছেন (নাকি দাঁড়িয়েছেন?) যানজট নিয়ে কথা বলতে। উপস্থিত একটি কালো সেডান (প্রাইভেট কার) ছিলেন সভার সভাপতি, আর সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেছেন সভার মধ্যমণি একটি সিএনজি অটোরিকশা। সঞ্চালকের আহ্বানে উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন এক পিকআপ ট্রাক। তিনি সভার বেশ কিছু আলোচ্য বিষয় প্রস্তাব করেন। যার মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বিজয় সরণি সিগনাল, রামপুরা, মিরপুর ১০ নাম্বার, আসাদগেট, গুলিস্তানসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সব রাস্তায় পিক আওয়ারে সৃষ্ট জ্যাম থেকে বেরিয়ে আসতে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা। এছাড়াও ছিল, ট্রাফিক জ্যামে লেন মেনে চলার গুরুত্বহীনতা, রাস্তায় সীমাহীন হর্ন বাজানোর গুরুত্ব, জেব্রা ক্রসিংয়ে মানুষ দেখেও না থামার মতো সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

সভায় এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন উপস্থিত গাড়িবৃন্দ। তবে সভাপতির বক্তব্যে রাস্তার লেনের মতোই প্রসঙ্গের বাইরে চলে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা দিন আমরা মাতিয়ে রাখি ঢাকার রাস্তা। অথচ রাতের বেলা ঢাকায় সব বড় বড় ট্রাক-বাস ঢুকে পড়ে আমাদের প্রাণের শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এই বলে তিনি ইঙ্গিত করেন সভায় উপস্থিতি মিনি কাভার্ড ভ্যানের দিকে। উপস্থিত বাকি সদস্যদের তৎপরতায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

ট্রাক, পিক আপ, এবং গাড়িরা ছাড়াও সভায় খুবই অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হয়েছিল কয়েকটি বাইক। তবে তারা কোনো মতামত না দিয়েই গাড়ির চিপাচুপা দিয়ে ঢুকে দ্রুত প্রস্থান করেন।

eআরকি কথা বলেছিল মত বিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীদের সাথে। এক প্রাইভেট কার বলেন, ‘আর বইলেন না ভাই, এতো চেষ্টা করেও এক চান্সে কোনদিন বিজয় সরণির জ্যাম পার হইতে পারলাম না। কারওয়ান বাজারের সিগনালেও খুব ঝামেলা হয়। এইসব ঝামেলা থেকে বাঁচতেই আজকে আমরা সবাই এক হইছি।’ তিনি জানান, প্রতিদিনই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে পিক আওয়ারে তারা এমন আলোচনা সভায় বসেন। কোন রাস্তায় জ্যাম বেশি, কোনো রাস্তায় মোবাইল কোর্ট বসেছে কি না, কোন রাস্তায় পানি জমেছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা হয় এসব সভায়।

এই বিষয়ে এক গাড়ি চালকের সাথে কথা বললে তিনি eআরকিকে বলেন, ‘এই যে দেখেন! খাইয়া দাইয়া কাজকাম নাই, ডেইলি ডেইলি সভাসমিতি। এদের জন্যই তো জ্যাম লাইগা থাকে। আমরা কী করতে পারি… একটা গাড়িও কথা শুনে না। কিছু বললে আবার বলে ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা!’ অবশ্য গাড়ি চালকদের এমন অভিযোগের জবাবে সভাপতি বলেন, ‘গাড়ি হলেও তো আমরা মানুষ! আমাদেরও আছে রাস্তায় নিজের মতো চলার, হর্ন দিয়ে চিত্তবিনোদিত করা। এসব থেকে আমাদের দূরে রেখে আমাদের মানবাধিকার কেড়ে নেবেন না।’

১১৭ পঠিত ... ১৭:৩৮, মে ২৬, ২০১৯

Top