সবচেয়ে কম পরিশ্রমে বেশি টাকা আয় করে ফোর্বসের তালিকায় বাংলাদেশি শ্রমিক

৭৪১ পঠিত ... ১৯:৫০, মে ১৬, ২০১৯

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের আনাচে কানাচে সফল হওয়া নানান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ক্রমেই পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সেইসব সাফল্যের মুকুটে এবার যুক্ত হলো নতুন পালক! ফোর্বসের 'হাইয়েস্ট পেইড অন লোয়েস্ট লেবার' অর্থাৎ সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সর্বাধিক আয় করা ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি এক শ্রমিক। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত বাসভবনের ফ্ল্যাটগুলোতে বালিশ তুলেই তিনি হয়েছেন এই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী।

ওই ভবনের ফ্ল্যাটগুলোতে কেজিখানেক ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি কিংবা জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন নিচ থেকে তুলতেই নাকি খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। এভাবে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ। সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। খবর: দেশ রূপান্তর ডটকম।

খবরটি বাংলাদেশের অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেলেও এড়ায়নি আন্তর্জাতিক মিডিয়া ফোর্বসের ক্যামেরা। খবরটি জানামাত্র তারা এত কম পরিশ্রমে এত বেশি টাকা আয় করা সেই আসবাব-শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করা শ্রমিককে তারা দিয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। জানা গেছে, মোট সাড়ে ৫০০ বালিশ, ২৫টি ওভেন এবং আড়াইশ ইস্ত্রি ফ্ল্যাটে তুলেই তিনি আয় করেছেন প্রায় দশ লাখেরও বেশি টাকা।

এ ব্যাপারে আমরা যোগাযোগ করি এই বিরল অর্জনের অধিকারী সেই শ্রমিকের সঙ্গে। আনন্দিত সেই শ্রমিক হাস্যোজ্জ্বল মুখে জানান, 'এর আগে জীবনে অনেক ইট ভাঙছি, অনেক মাটি কাটছি। রইদে, বৃষ্টিতে খাইট্টা কাজ করতে করতে হাতে দাগ পইড়া গেছে। কিন্তু সারাজীবনে সব কাজ মিইলাও এত পারিশ্রমিক পাই নাই, কয়েকটা বালিশ তুইলা যত টেকা পাইলাম!'

কীভাবে খোঁজ পেলেন এই কাজের, জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এলাকার এক ছোড ভাই কাজটার খোঁজ দিছিলো। সে ওভেন তোলার কাজ পাইছিল, আমারেও বালিশ তোলার কাজ দিছে। তবে এই কাজে এত টেকা, এই ব্যাপারটা আগে আমাদের বলে নাই। পত্রিকায় চার্টটা দেইখাই আমরা জানছি। আগে জানলে আরও কয়েক হাজার বালিশ তুলতাম রে ভাই।'

ফোর্বসের এক সাংবাদিক জানালেন এই ব্যতিক্রমধর্মী তালিকাটি সম্পর্কে, 'মূলত আসবাব কেনা-তোলার এই চার্টটি দেখেই আমাদের এই নতুন তালিকাটি করার কথা মাথায় আসে। এত কম পরিশ্রমেও যে এত টাকা আয় করা সম্ভব, আমরা আগে ভাবিনি। একটা স্বীকৃতি না দিলে হচ্ছিলোই না।'

এ পর্যায়ে ফোর্বসের চাকরি ছেড়ে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে গিয়ে আসবাবপত্র তোলার কাজ নেয়ার একটি সুপ্ত পরিকল্পনার কথাও জানালেন তিনি।

৭৪১ পঠিত ... ১৯:৫০, মে ১৬, ২০১৯

Top