পাথর ওপরে ওঠাতে এমন খরচ হলে কখনোই পিরামিড বানাতে পারতাম না : ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস

২২৯৫ পঠিত ... ১৭:২৬, মে ১৬, ২০১৯

সুঁই টানার জন্য হাতি ভাড়া করার মতো ঘটনা ঘটেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য সেখানে নির্মিত ভবনে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ক্ষেত্রে ঘটেছে অস্বাভাবিক এ ঘটনা। কেজিখানেক ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি কিংবা জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতেই নাকি খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। এভাবে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ। সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। খবর: দেশ রূপান্তর ডটকম।

এই খবরটি দেখেই নড়েচড়ে বসেছেন প্রাচীন মিশরের শক্তিশালী ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস। মৃত্যুর পর থেকে আজ অব্দি পিরামিডের ভেতর শুয়ে-বসে ফেসবুকিং করেই কাটছিল তার সময়। কিন্তু অনলাইনে আসবাব তোলার খরচের এই তালিকা দেখে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। মৃত ফারাওদের একটি বিশেষ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট 'ডেডবুক' এ তিনি ওই চার্টটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, 'ভাগ্যিস আমাদের সময় শ্রমিকরা পাথর ওপরে তুলতে এই স্কেলে টাকা নিত না! তাহলে কখনোই হয়তো পিরামিড বানাতে পারতাম না।'

সেই ছবি দেখে তুতেনখামেনসহ আরও কিছু বিখ্যাত ফারাওরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় রামেসিস আরও বলেন, 'আমাদের সময়ে শ্রমিকরা কতই না ভালো ছিল! পাথর তুলতে টাকা-পয়সা, স্বর্ণমুদ্রা এসবও তারা চাইত না। চাবুকের বাড়ি কয়েকটা কম দেয়া হলেও খুশি থাকত। ভাগ্যিস এই সময়ে বাংলাদেশে জন্মাইনি।'

পুরো পিরামিড নির্মাণের বাজেটের চাইতে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের এই ভবনের ফ্ল্যাটে বালিশ তুলতেই বেশি টাকা খরচ হয়েছে, এমনটা উপলব্ধি করে তিনি বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বলেন, 'আসবাবপত্র তোলার জন্য আমাদের শ্রমিকদের নিয়োগ দিলেও পারতেন। এখন তো আর পিরামিড বানানো হয় না, ওরাও বেকার বসে আছে। অল্প টাকা পয়সা দিলে ফার্নিচার তুলে দেয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক কেন্দ্রটাও বানিয়ে দিত।' এ পর্যায়ে তিনি অন্যান্য ফারাওদের উদ্দেশে 'কী বলেন ভাই ঠিক না বেঠিক' প্রশ্ন ছুড়ে দিলে সকলেই 'ঠিক' লিখে কমেন্ট করেন।

এই পোস্টে পিরামিডের এক নির্মাণশ্রমিক এসে 'হে মহান ফারাও, আজ মনে পড়ে সেই দিনের কথা, যেদিন দুই মণ ওজনের এক পাথর দুই মিনিটে দুইশ মিটার তুলতে পারার পারিশ্রমিক হিসেবে পঁচিশটা চাবুকের বাড়ি খেয়েছিলাম' লিখে কমেন্ট করলে তিনি প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় কিছু গালাগাল দিয়ে তাকে ব্লক করে দেন।

২২৯৫ পঠিত ... ১৭:২৬, মে ১৬, ২০১৯

Top