কিংস ল্যান্ডিংয়ের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিলেন ড্যানেরিস

২৩০ পঠিত ... ১৯:৫৯, মে ১৩, ২০১৯

গত ১৩ মে সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ওয়েস্টেরসের রাজধানী কিংস ল্যান্ডিং। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু এবং ভবনধ্বসের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন রাণী ড্যানেরিস টারগারিয়ান। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে ২০০ গোল্ড ড্রাগন করে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

‘কিংস ল্যান্ডিং গ্রেট ফায়ার’ আখ্যা পাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও, বেসরকারি হিসেবে অন্তত ৯০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এখনো নিখোঁজ আছেন অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে ছোটবড় অন্তত দেড় হাজার ভবন। রাজপ্রাসাদ রেড কিপসহ আরও অসংখ্য ভবন ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

গত কিছুদিন ধরে ওয়েস্টেরসের রাজধানীতে জরুরী অবস্থা জারি করে রেখেছিলেন অবৈধ রাণী সার্সেই ল্যানিস্টার। সার্সেইকে উৎখাত করতে সিংহাসনের দাবীদার ড্যানেরিস টারগারিয়ানের আদেশে কিংস ল্যান্ডিংয়ের বাইরে অবস্থান নেয় অবশিষ্ট আনসালিড ও ডথরাকি বাহিনী। এই অবস্থায় সার্সেই কিংস ল্যান্ডিংয়ের মেইন গেট খুলে দিলে আশেপাশের দশ গ্রামের বাসিন্দা অবস্থান নেয় রাজধানীতে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যমতে, সকালে জন স্নোর নেতৃত্বে নর্থম্যানদের বড় একটি দল এসে আনসালিডদের সাথে যোগ দিলে যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। যুদ্ধ ঠিকমত শুরু হবার আগেই খালিসি দ্রোগনের পিঠে চড়ে আয়রন ফ্লিট ধ্বংস করে কিংস ল্যান্ডিংয়ের দেয়ালে থাকা সব দৈত্যাকার ক্রসবো ধ্বংস করে দেন। একইসাথে মূল ফটকে নাইট কিংয়ের অনুকরণে একটি বিশাল ভাঙন সৃষ্টি করলে তার পক্ষের সব সৈন্য রাজধানীতে প্রবেশ করে। এরপর খালিসি একটি উঁচু প্রাচীরে তার ড্রাগন নিয়ে বিশ্রাম নিতে বসলে শহরের সবগুলো ঘন্টা বেজে ওঠে এবং যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ভেবে আনন্দিত হন সাধারণ জনগণ। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে খালিসি ঘন্টা শুনেই উড়াল দেন ড্রাগন নিয়ে এবং ড্রাকারিস শুরু করে দেন চারপাশে। কিংস ল্যান্ডিংয়ের এক প্রান্ত থেকে জিগজ্যাগ করে এগিয়ে আসতে থাকেন এবং সমান্তরালে 'ড্রাকারিস' চলতেই থাকে।

অগ্নিকাণ্ড পরিদর্শন করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুদূর কিংস ল্যান্ডিং গিয়ে উপস্থিত হয় eআরকির ৪ সদস্যের এক দুঃসাহসী দল। কিংস ল্যান্ডিংয়ে গিয়ে দেখা যায় অগ্নিকাণ্ড পরবর্তী এক বিভীষিকাময় অবস্থা বিরাজ করছে শহরে। পথে ঘাটে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য মৃতদেহ। অধিকাংশ ঘরবাড়িই ধুলোয় মিশে গেছে। পথিমধ্যেই আমরা আবিষ্কার করি হতভম্ব  টিরিয়ন ল্যানিস্টারকে। তার কাছে অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খালিসির নির্দেশে আমি বের হয়েছি ক্ষতিগ্রস্থদের দেখতে। শত ব্যস্ততার মাঝেও খালিসি এই অগ্নিকাণ্ডের পুরো ঘটনা সার্বক্ষণিক নজরে রাখছেন। আহতদের চিকিৎসার যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সে বিষয়ে তিনি আমাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।’ কিংস ল্যান্ডিং মেডিক্যাল কলেজ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আহতদের চিকিৎসা কোথায় হবে, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান টিরিয়ন।

অসংখ্য নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে আমরা অবশেষে পৌঁছাই ভগ্নপ্রায় রেড কিপে মাদার অফ ড্রাগনের সাথে দেখা করতে। আমাদের দেখেই তিনি হাঁটু ভাঙার আদেশ দেন। এ সময় এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে। হাঁটু ভাঙতে দেরি করায় উত্তেজিত হয়ে খালিসি ড্রাকারিস করে দেন আমাদের এক প্রতিনিধিকে। কিন্তু পেশাদারিত্বের খাতিরে এই ঘটনায় বিচলিত না হয়ে বুকে পাথর বেঁধে আমরা কাজ চালিয়ে যাই। বহুল প্রতীক্ষিত সিংহাসন পাওয়ায় অভিনন্দন জানাই মাদার অফ ড্রাগনকে। বিজয় নিশ্চিত হবার পরেও ড্রাকারিস করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি রেস্ট নিতেই বসছিলাম। কিন্তু ওরা হুট করে বেল বাজাইল। ওরা কী ভাবছে! আমার বেল নাই? বেল শুধু ওদের একলারই আছে? তখন আর মাথা ঠিক রাখতে পারি নাই। দ্রোগনকে ইশারা দিতেই সে উড়ে গেল… তবে আমি আসলে এতটাও জ্বালায়া দিতে চাই নাই। কিন্তু দ্রোগনটা মাঝপথে ব্রেক ফেল করে ফেলল!’ এরপর তিনি স্মিত হেসে তার পূর্বপুরুষের মানসিক অস্থিতিশীলতার কথা মনে করিয়ে দেন।

এরপর সিংহাসন বিজয় উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে তিনি বক্তৃতা রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন পুরো দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে। ব্রাভোস থেকে আগত এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে খালিসি বলেন, ‘যাক, যা গেছে তা যাক! আমি আমার ডথরাকি ও আনসালিডের ছেলেদের শক্ত নির্দেশ দিয়ে রেখেছি সকল সংকটে সাধারণ জনগণের পাশে থাকার। এছাড়াও প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ২০০ গোল্ড ড্রাগন করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছি।’ এ সময় আনসালিড সেনাপতি গ্রে ওয়ার্মকে দেখা যায় সম্মতিসূচক মাথা নাড়তে।

সম্মেলনের সমাপণী ভাষণে খালিসি বলেন, ‘এই দেশ ও এই নগরী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ রাজা রাণীর দখলে ছিল। নগরী হয়ে গিয়েছিল পাপে বোঝাই! আমি এই পাপ থেকে মুক্ত করতে চেয়েছি কিংস ল্যান্ডিংকে। তাই শ্রদ্ধেয় রবি ঠাকুরের গানের কথা মত, অগ্নিস্নানে কিংস ল্যান্ডিং পাড়াকে করেছি পবিত্র।’

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সার্সেই ল্যানিস্টারসহ অন্তত পনেরো হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। সার্সেই ল্যানিস্টারকে মৃত কিংবা জীবিত অবস্থায় ধরিয়ে দিতে পারলে ১৫ হাজার গোল্ড ড্রাগন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। একইসাথে জন স্নোকেও কোথাও দেখতে পাওয়া যায়নি। 

২৩০ পঠিত ... ১৯:৫৯, মে ১৩, ২০১৯

Top