বসদের যত্রতত্র হিসুর সুবিধার্থে তৈরি হলো নতুন পদ 'হিসু এন্ড টিস্যু সেক্রেটারি'

২৬৮ পঠিত ... ২০:২২, মে ০৬, ২০১৯

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি অদ্ভুত ছবি ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। ছবিটিতে দেখা যায়, এক ভদ্রলোক কোন এক রাস্তার পাশে একটি জলাশয়ের ধারে দাঁড়িয়ে জলবিয়োগ করছেন। বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের কাছে এই দৃশ্যটি খুব একটা অচেনা না হলেও, সেই ভদ্রলোকের পিছনেই আরেক ভদ্রলোককে দেখতে পাওয়া গেছে হাতে টিস্যু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। তাহলে কি পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি একজন হিসু এন্ড টিস্যু সেক্রেটারি? আকালের বাজারে কি এসেছে নতুন পেশা? ঘটনাটির সুলুক সন্ধান করতে মাঠে নেমেছিল eআরকির বিশেষ এক সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধানী দল।



প্রথমেই আমরা ছুটে চলে যাই জলাশয়ের ধারে দাঁড়িয়ে জলবিয়োগ করা সেই ভদ্রলোকের কাছে। তার সাথে যোগাযোগের আগেই আমাদের দেখা হয়ে যায় তার সহকারীর সাথে, যিনি সেই ছবিতে ছিলেন। তাকে সামনে পেয়ে উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি eআরকি প্রতিনিধি। উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভেঙে যাবার আগেই টিস্যু বাড়িয়ে দিলেন তিনি। সেই টিস্যুতে কপালের ঘাম মুছে জানতে চাওয়া হল, তিনি সত্যিই হিসু এন্ড টিস্যু সেক্রেটারি কি না। সহাস্যে তিনি জানালেন, ‘ইয়েস! অফকোর্স! আমি বসের সাথে আছি সাত বছর ধরে!’

তার কাছে এই ব্যতিক্রমী পেশায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি eআরকিকে বলেন, ‘আমি আসলে ছিলাম বসের সেক্রেটারি। তিন বছর ঐ পোস্টেই ছিলাম। অনেকদিন ধরে কোন প্রমোশন হচ্ছে না। আমি আর স্যাটিসফাই ছিলাম না। একেবারেই ইনসেনটিভ পাচ্ছিলাম না কাজ করার! বসও প্রমোশনের ব্যাপারে কিছুই বলছিলেন না।’ তখনই কি তিনি স্বেচ্ছায় এমন একটা পোস্ট সৃষ্টি করলেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘না! কর্পোরেট লাইফে নতুন পোস্ট ক্রিয়েট করা অনেক কঠিন। সেসব অবশ্য আপনারা বুঝবেন না। আপনারা তো পারেন শুধু ফেসবুক পোস্ট বানাতে। যাক সেসব কথা! ঐ সময় বসের ধরা পড়ল ডায়বেটিস। ব্যস! আমার কপাল খুলে গেল!’

কৌতূহলী eআরকি প্রতিনিধির কৌতূহল মেটাতে তিনি বলতে থাকেন, ‘বস প্রচুর জার্নি করেন। ডায়বেটিস হবার পর বস আমাকে অফার করেন তার একান্ত সেক্রেটারির পোস্টটি। আমিও আর না বলিনি। নতুন একটা ফিল্ড। কতশত অপরচুনিটি!’ কিন্তু এমন একটি ব্যতিক্রমী কাজে জড়িয়ে ভবিষ্যতে কি পেশাগত সংকটে পড়তে হবে না? এমন প্রশ্ন শুনে তা হেসে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘না! আমাদের বস এনাফ হাইজিন মেনটেন করেন। রোগ জীবাণুর কোন ঝামেলাই নেই। আর ছোটবেলা থেকেই আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি! আমি এই পেশায় প্রথম হলেও এখন অনেকেই এই সেক্টরে আসছে। যা একটি শুভলক্ষণ!’ সেক্রেটারির সাথে কথা বলে মুগ্ধ eআরকি প্রতিনিধির সুযোগ হয়নি বসের সাথে কথা বলার।

তবে তার শেষ কথার সত্যতা পাওয়া গেছে ক্যারিয়ার কাউন্সিলরদের কাছ থেকে। তেমনই এক ক্যারিয়ারগুরুর কাছে, যিনি কিনা একজন মোটিভিশনাল স্পিকার হিসাবেও জনপ্রিয়, এই পেশা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি eআরকিকে বলেন, ‘এই পেশায় চ্যালেঞ্জ আছে। হাইজিনের কিছু ব্যাপারও মাথায় রাখতে হয়। তবে একবার এখানে নিজেকে কোপ আপ করাতে পারলে আর কোন চিন্তা নেই। সিক্স ডিজিট স্যালারি কোন ব্যাপারই না!’

আজকাল অসংখ্য তরুণ এই পেশায় আগ্রহী হচ্ছেন বলেও জানালেন তিনি। প্রতিটি বসই যদি নিজের সঙ্গে একজন করে হলেও টিস্যু এন্ড হিসু সেক্রেটারি রাখেন, তাহলেই বেকারত্বের হার অর্ধেকে নেমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২৬৮ পঠিত ... ২০:২২, মে ০৬, ২০১৯

Top