অনলাইন মার্কেটপ্লেসে হুট করে রিকশা কেনাবেচার হিড়িক

৯৮ পঠিত ... ১৭:০৩, মে ০৬, ২০১৯

বর্তমান সময়ে কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের একটা বড় অংশ নির্ভর করে থাকেন অনলাইন শপিংয়ের উপর। নতুন-পুরনো যেকোনো রকম পণ্যই খুঁজে পায় যায় বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে। কিন্তু হঠাৎ করেই এই অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে আজ (৬ মে) দুপুর থেকেই ঢোকা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। হুট করেই অসংখ্য মানুষ একটি নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে সাইটগুলোতে ভিড় করায় অন্যরা কেউ কিছু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ এসেছে।

 

কৌতূহলোদ্দীপক এই খবরটির সূত্র সন্ধান করতে গিয়ে eআরকি আবিষ্কার করেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। আচমকাই আজ দুপুরের পর থেকে অনলাইনে রিকশা বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। মোবাইল, কম্পিউটার থেকে শুরু করে গাড়ি, বাড়ি, সাইকেল এমনকি আলু-পেঁয়াজ-পটল সবই বিক্রি হলেও, অনলাইনে রিকশা বিক্রির কথা কখনো শোনা যায় নি। তাই এমন খবরে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ঘটনার কারণ জানতে এসএসসি রেজাল্টের সাথে এই রিকশা বিক্রির এক অদ্ভুত পরাবাস্তব যোগসূত্র খুঁজে পায় eআরকি।

আজ দুপুরে প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ২১ লাখ ২৭ হাজার পরীক্ষার্থীর মাঝে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। আর জিপিএ পাঁচ অর্থাৎ এ প্লাস পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন পরীক্ষার্থী। এই ফলাফল প্রকাশিত হবার পরপরই প্রতিশ্রুতি রক্ষার হিড়িক পড়ে যায় দেশজুড়ে। জানা যায়, প্রত্যাশিত রেজাল্ট না করলে রিকশা কিনে দেওয়ার যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন অভিভাবকরা সেটির প্রতিফলনই এই রিকশা শপিং।

সন্তানকে রিকশা কিনে দিচ্ছেন এমন এক অভিভাবকের সাথে কথা বললে তিনি আমাদের জানান, ‘আমি আমার ছেলেটারে বলছিলাম পরীক্ষায় ভালো না করলে রিকশা কিনে দিব। যদি না কিনে দিলে ছেলেটার মন খারাপ হয়! তাই কীক্রয় ডটকম থেকে অনেক কষ্টে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড রিকশা যোগাড় করলাম।’ রিকশার মতো জিনিসও অনলাইন থেকে কেন কিনছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অন্য এক অভিভাবক বলেন, ‘আমি যদি অনলাইনে গাড়ি কিনতাম তাইলে কি এইসব কথা বলতে পারতেন? রিকশা প্যাডেল মেরে চালাতে হয় দেখে এটা অনলাইনে কেনা যাবে না? আপনাদের মতো পুঁজিবাদী বুর্জোয়া শ্রেণীর জন্যই কোন পেশা আজ সম্মান পায় না। এই পৃথিবী থেকে...’ এমন পর্যায়ে ‘পেটি বুর্জোয়া’ খেতাবে ভূষিত eআরকি প্রতিনিধি কোনরকমে সেই স্থান ত্যাগ করে।

 

আরেকজন জানান, 'ভাই রিকশা কিনতেও তো রিকশা ভাড়া দিয়ে দোকান পর্যন্ত যাইতে হবে। রিকশা ভাড়া যে চড়া, অযথা বাড়তি খরচ, কেন করবেন?' 

রিকশা পেয়ে এসএসসিতে খারাপ করা পরীক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারছে না। কেউ কেউ আবার হতাশ অন্য এক কারণে। এমনই এক হতাশ পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আব্বা বলছিল সিএনজি কিনে দিবে। কিন্তু ইংরেজিতে আমি অনেক কম নাম্বার পাইছি। তাই আব্বা সিএনজি কিনে দেয় নাই!’ অন্য এক পরীক্ষার্থী হতাশ রেজাল্টের পাঁচ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও রিকশা না পাওয়ায়। জানা গেছে বাজারে নতুন-পুরনো সব রিকশাই বিক্রি হয়ে গেছে। অবিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ী রিকশার মজুদ করে তা চড়া দামে বিক্রির পায়তারা করছে।

তবে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে মার্কেটপ্লেসগুলোতে। এমন এক প্রতিষ্ঠান নারাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা eআরকিকে বলেন, ‘আমাদের কাছে রিকশার যা স্টক ছিল তা চল্লিশ মিনিটের মাঝেই শেষ। এখনো একের পর এক অর্ডার আসছে। আমরা অবশ্য অর্ডারগুলো নিচ্ছি। নতুন রিকশা যদি না পাওয়া যায় তাহলে সাবান পাঠিয়ে দিব বলে ভাবছি।’ অন্যদিকে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রিকশাচালকদের। তারা শঙ্কিত রাস্তায় এত নতুন রিকশাচালকের আগমনে ভাড়া পড়ে যেতে পারে। তবে এই চাহিদার বাজারে নিজের রিকশাটিই প্রায় তিন চার গুণ দামে বিক্রি করে দিবেন বলে ভাবছেন, এমনটিও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

৯৮ পঠিত ... ১৭:০৩, মে ০৬, ২০১৯

Top