নিরাপদে রানওয়ে পার হতে ওভারব্রিজ চায় কক্সবাজারবাসী

২০৪ পঠিত ... ১৮:২৩, মে ০৫, ২০১৯

বাংলাদেশের মানুষের টেলিকাইনেসিস ক্ষমতায় বিশ্বাস আছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় রাস্তা পার হতে দেখলে। গতিশীল গাড়িকেও হাতের ইশারায় তারা থামিয়ে দেয়ার বিশ্বাস নিয়ে হাত উঁচিয়ে ধরেন কাল্পনিক সুপারহিরোদের মতো। তবে হাত দেখিয়ে শুধু গাড়ি নয়, একেবারে প্লেন থামানোর প্রচেষ্টার কথাও সম্প্রতি জানা গেছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। রানওয়ে জুড়ে প্লেনের নিয়মিত আনাগোনা থাকলেও এর অনেকাংশেই নেই নিরাপত্তা দেয়ার গাইডওয়াল। ফলে কক্সবাজারবাসী এই রানওয়ে নিয়মিত পার হচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে।

বিমানের ল্যান্ডিংকে অনেকেই একটি নিয়ন্ত্রিত পতন (কন্ট্রোলড ক্র্যাশ) বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু কক্সবাজার এয়ারপোর্টে রানওয়ে পার হওয়ার সময় এলাকাবাসী প্লেনের সামনে এলে থামা তো দূরের কথা, সেটিকে রাস্তার গাড়ির মতো হাত দেখিয়ে থামাবার সিগন্যাল দেন। এছাড়া এই রাস্তা পার হওয়া নিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায় (সুত্র: ডেইলি বাংলাদেশ)।

রানওয়েতে কক্সবাজারবাসীর এমন অবাধ বিচরনের রহস্য জানতে কক্সবাজারে রওনা দেয় eআরকি রাস্তা ও রানওয়ে পারাপার বিশেষজ্ঞরা। রানওয়ে ধরে নির্ভাবনায় পার হওয়ার সময় এমনি এক রানওয়েচারীকে প্রশ্ন করলে প্রথমে আমাদের হাত উঁচিয়ে থামতে বলেন। কিন্তু পেছনে বিমান ল্যান্ড করার বিকট শব্দে আমরা বুঝতে পারি, তিনি আসলে বিমানটিকে থামার সিগন্যাল দিচ্ছেন । এবং আমরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, বিমান তার গতি না কমালেও খানিকটা বায়ে চেপে নিরাপদে রানওয়ে পার হতে দিলেন।

কেন রাস্তা রেখে রানওয়ে পারাপার করছেন, জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন, ‘আরে ভাই, গরমটা কি পড়ছে একবার দেখছেন? এই রোদের মধ্যে ন্যাড়া রাস্তা দিয়ে পার হওয়া যায় নাকি? এর চেয়ে প্লেনের নিচে দিয়া পার হইলে মাথায় একটু ছায়া পাই। আর এই গরমে তো একটা গাছের পাতাও নড়ে না। প্লেন নামার সময় প্রপেলারের বাতাসটা গায়ে লাগে। একটু শান্তি পাই।’

কিন্তু ল্যান্ডিংয়ের সময় প্লেনের সামনে দিয়ে যাওয়া যে বিপজ্জনক, আর হাত-পা-মাথা কোন কিছুই দেখিয়ে এর গতিরোধ করা সম্ভব না, এ কথাটি তাকে বললে তিনি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেখান দিয়া খুশি সেখান দিয়া যাবো। আটকাইতে হইলে বেড়া বানান, দেয়াল বানান। এত নিরাপত্তা নিয়া মাথাব্যাথা করলে একটা ওভারব্রিজ বানায় দেন। ওভারব্রিজ দিয়া রানওয়ে পার হবো, আর মাঝে মধ্যে মন চাইলে প্লেন উঠানামা দেখবো।

এ পর্যন্ত বলে তিনি জানালেন মনে থাকা একটা সুপ্ত ইচ্ছার কথা, ‘ভাই, আমার খুব শখ মহাকাশে যায়া হাত দেখায়া রকেট থামায়া রাস্তা পার হমু। আচ্ছা মহাকাশে কি ওভারব্রিজ আছে?’

 

২০৪ পঠিত ... ১৮:২৩, মে ০৫, ২০১৯

Top