বাংলাদেশি অ্যাভেঞ্জার্স ভক্তদের সাথে দৌড়ে না পেরে এন্ডগেমের টিকিট কিনতে পারেননি উসাইন বোল্ট

৩০৮ পঠিত ... ২০:২৪, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

২৬ এপ্রিল (শুক্রবার) বাংলাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মারভেল ইউনিভার্সের শেষ সুপারহিরো মুভি অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম। আর বাংলাদেশে প্রিমিয়ারের আগের দিন বৃহস্পতিবার সকালে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়। অগ্রিম টিকিটের লাইন এবং হুড়োহুড়ি নিয়ে বিস্তর আলোচনার মাঝে চাপা পড়ে গেছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা।

 

অগ্রিম টিকিট বিক্রির খোঁজ পেয়ে বুধবার দিবাগত রাত থেকেই মারভেল ভক্তরা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সকালে শপিং মলের গেট খুলে দিলে সবার দুর্দান্ত দৌড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পড়ে টিকিট পাননি বিশ্বরেকর্ডধারী স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট। আজ বসুন্ধরা সিটিতে শুধুমাত্র দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার কারণেই তিনি অ্যাভেঞ্জার্সের প্রিমিয়ার শো-এর টিকিট পাননি।

এ খবর জানতে পেরেই এক দৌড়ে ঘটনাস্থলে চলে যায় eআরকি প্রতিনিধি দল। গিয়ে উসাইন বোল্টকে আবিষ্কার করা যায় দৌড়ে পিছিয়ে পড়ায় টিকিট না পাওয়া এক দল মানুষের মাঝে। জানা যায়, টিকিটের দাবিতে তারা সকলে মিলে বোল্টের নেতৃত্বে ঢাকা-জামাইকা ঐক্যজোট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই জোট সৃষ্টি অপচেষ্টার মাঝ থেকে বোল্টকে বের করে এনে প্রথমেই জানতে চাওয়া হলো, পুরো পৃথিবী রেখে তিনি কেন ঢাকায় এসেছেন অ্যাভেঞ্জার্সের প্রিমিয়ার শো দেখতে। প্রশ্নের উত্তরে বোল্ট বলেন, ‘আমি তো ভাবছিলাম, প্রাচ্যের লস অ্যাঞ্জেলস ঢাকায় প্রচুর সিনেমা হল। নিশ্চয়ই এইখানের হলগুলায় ভিড় কম হবে। এইজন্য খিইচ্চা এক দৌড় দিলাম। কিন্তু ঢাকায় তো দেখি সবাই ফ্ল্যাশ!’

এ সময় বোল্ট মারভেলের ফ্যানদের ডিসি কমিকের সুপারহিরোর মতো দৌড়ের বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।

বিশ্বরেকর্ড করা এই দৌড়বিদ কেন পারলেন না সবাইকে ছাড়িয়ে বসুন্ধরার আটতলায় চলে যেতে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা বিব্রত হয়েই বোল্ট বলেন, ‘আমি তো বুঝি নাই আপনেরা এইরকম। আমার বেস্ট ৯.৫৮। কিন্তু এইখানে ১০০ মিটার দৌড়ায়া দেখি ৯৫৮ জন লোক আমার সামনে।’

বাংলাদেশ থেকে কেউ এখনো কেন অলিম্পিকে কোন পদক পায়নি এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন বোল্ট, ‘আমি তো দেখলাম অনেকের বেস্ট টাইমিং ৫ সেকেন্ডেরও নিচে। এতো ভালো দৌড়বিদ আমাদের জামাইকাতেও কখনো আসেনি। অলিম্পিকে ভাগ্যিস অ্যাভেঞ্জার্স দেখায় না। তাইলে আমার আর বিশ্বরেকর্ড হইত না। আপনেরা দৌড়াইতে পারেনও ভাই!’

এখন তিনি কী করবেন? এমন প্রশ্নে বিষণ্ণ মুখে বোল্ট বলেন, ‘ভাবছিলাম এক দৌড়ে অন্য কোথাও যাইয়া প্রিমিয়ার ধরব। কিন্তু গরমে আমার সব শেষ। আজ আমি কোথাও যাব না।’ তাহলে কি বাংলাদেশি দৌড়বিদদের কারণে অ্যাভেঞ্জার্সের শেষ সিনেমাটিও দেখা হবে না উসাইন বোল্টের? এমন প্রসঙ্গে বোল্ট নিশ্চিত করেন, তিনি অ্যাভেঞ্জার্স দেখবেন। এ সময় eআরকি প্রতিবেদকের কাছে এসে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ভাই, কিক্যাস তো বন্ধ পাই! কোনো মিরর কাজ করে না। আপনে একটু পাইরেটস বে থেকে নামায়া দিতে পারবেন সিনেমাটা!’

৩০৮ পঠিত ... ২০:২৪, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

Top