অ্যাভেঞ্জার্স এন্ড গেম মুভির টিকিটের জন্য কোটার দাবি জানালেন মিরপুরবাসী

২৭৪ পঠিত ... ১৮:৩০, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

অ্যাভেঞ্জার্সের শেষ পর্ব ‘এন্ড গেম’ বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে মুক্তি পাচ্ছে এ মাসের ২৬ তারিখে। বাংলাদেশেও সুপারহিরো ফ্যানরাও মেতে আছেন এন্ডগেম নিয়ে। এপ্রিলের ২৫ তারিখ থেকে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ছাড়া হবে এর টিকিট। স্পয়লার পাওয়ার ভয়ে আর বড় পর্দায় দেখার আগ্রহের জন্য প্রথম শো’এর টিকেট ম্যানেজ করতেই শুরু হয়ে গেছে জল্পনা কল্পনা। অনেকেই ইতোমধ্যে সকাল সাড়ে নয়টার আগেই টিকেট কেনার জন্য লাইন ধরার প্ল্যান করে ফেলছেন। আশেপাশের ফ্যানদের এমন প্ল্যানিং শুনে মুষড়ে পড়েছেন মিরপুরবাসী অ্যাভেঞ্জার্স ফ্যানরা। কেন তাদের মনে এই বিষন্নতার ঘনঘটা? জানতে মাঠে নামে eআরকি টেসার‍্যাক্ট বাহিনীর সদস্যরা।

থ্যানোসের তুড়িতে চূর্ণ হয়ে যাওয়া স্পাইডারম্যান, ড. স্ট্রেঞ্জ সহ পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যার ধুলা যেন এই মিরপুরেই এসে জড়ো হয়েছে। কিন্তু তাতেও কমেনি শেওড়াপাড়ার জ্যাম। ধুলি ও জ্যামের ঝড় পেরিয়ে মিরপুরে এসে নামার পর eআরকি সদস্যদের একজন ভুল করে তার হাতের মিনারেল ওয়াটারের বোতল থেকে একটু পানি ফেলে দিলে সেখানে মূহুর্তেই জমে যায় হাঁটুপানি। ধুলো ও পানির সাথে ডুয়েল লড়াই করে eআরকিকরা হাজির হয় নিখিল মিরপুর অ্যাভেঞ্জারস ভক্ত সমিতির প্রধান কার্যালয়ে।

নাম প্রকাশে ইচ্ছুক (eআরকিকরা সাথে খাতাকলম না রাখায় নামটি লিখে রাখতে পারেননি) মিরপুরবাসী অ্যাভেঞ্জার্স ফ্যান আমাদের বলেন, ‘আমরা মিরপুরবাসীরা জন্ম থেকেই একটু বেশি ধৈর্যশীল। অপেক্ষাকে ভয় পাই না। তাই এই শেষ অ্যাভেঞ্জারস দেখার জন্য অপেক্ষা করেছি পুরো একটি বছর, বিন্দুমাত্র "রা" করিনি। আমাদের মিরপুরের এই দিনরাত্রিতে খুব একটা সুখের খবর আমরা পাই না। তাই নতুন অ্যাভেঞ্জারস সিনেমা মুক্তির কথা শুনে আমাদের জ্যাম-ধুলা-ট্রল জর্জরিত জীবনে পাই একটুখানি আনন্দের পরশ। যাক, বড় পর্দায় দেখে আসতে পারবো থ্যানোসের সাথে পছন্দের হিরোদের ফাইট।’

ইতিমধ্যে বাতাসে প্রচুর ধুলার উপস্থিতির কারণে প্রবল হাঁচিতে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি কিছুটা বিরতি নিয়ে আবার বলতে শুরু করেন, ‘কাল সকাল থেকে শুরু হবে টিকেট বিক্রি। আর ঢাকার অন্যান্য এলাকা থেকে সবাই কীভাবে লাইনে আগে দাঁড়িয়ে প্রথম দিনের শো দেখা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা মিরপুরে থাকি, তাদের কথা কেউ ভাবছে না। আমরা তো আর সবার মতো করে সকাল সকাল লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কিনতে পারবো না। শ্যাওড়াপাড়া, দশ নাম্বার গোলচত্তর ইত্যাদি মহাকাব্যের মতো দীর্ঘ জ্যাম ঠেলে আমরা লাইন ধরতে ধরতে টিকেট শেষ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি, উত্তরা ও বাড্ডা অ্যাভেঞ্জারস ফ্যান ক্লাব এন্ডগেমের প্রথম শো দেখে এসে আমাদের স্পয়লার দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আজ মিরপুরে থাকি বলে আমাদের এই বঞ্চনা সইতে হবে?’

এ পর্যায়ে আবেগে তার চোখে পানি আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতার ভয়ে তিনি তাড়াতাড়ি তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হন। আরেক 'মিরপুরী অ্যাভেঞ্জারপ্রেমী' আমাদের বলেন, ‘আমাদের মিরপুরে এখনো কোন সিনেপ্লেক্স নেই। নিজেদের এলাকার বাইরে জ্যাম ঠেলে গিয়ে টিকেট কিনতে গিয়ে হতাশ হতে চাই না। তাই আমরা আগের রাতেই লাইন ধরার প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু সবাই মিলে মিরপুর ত্যাগ করতে গেলে মধ্যরাতেও জ্যাম সৃষ্টি হতে পারে। এত সঙ্কট এড়িয়ে আমরা লাইন ধরে টিকেট কিনতে পারবো না নিশ্চিত। সে কারণে আমাদের এক দফা এক দাবি, মিরপুরবাসীদের জন্য অ্যাভেঞ্জারের টিকেটে কোটা রাখা চাই। এতে আমরা জ্যাম ঠেলে যখনই আসি না কেন, আমাদের জন্য বরাদ্দ করা টিকেট যেন আমরা পেতে পারি।’

তবে টিকেট ম্যানেজ করতে পারলেও সময়মতো শো ধরতে পারবেন কি না, তা জানতে চাইলে উপস্থিত মিরপুরবাসীরা ক্ষেপে উঠেন। তারা এই প্রশ্নকে ট্রল মনে করে আমাদের বলেন, ‘মিরপুর নিয়ে ট্রল করতে আসছেন? একবার শুধু মেট্রোরেলটা হয়ে নিক, তখন দেখবো আপনাদের এইসব ট্রল কোথায় যায়।'

২৭৪ পঠিত ... ১৮:৩০, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

Top