বরপক্ষকে ওয়াসার পানির শরবত দেয়ায় ভেঙে গেলো বিয়ে, দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিয়েবাড়িতে ভাঙচুর

৫০৭ পঠিত ... ২১:০০, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

[eআরকি একটি স্যাটায়ার ওয়েবসাইট। এখানে প্রকাশিত যেকোনো খবর বিশ্বাস করা তো দূরের কথা, অবিশ্বাসও করবেন না!]

 

বরপক্ষকে ওয়াসার পানির শরবত খেতে দেওয়ায় ভেঙে গেল বিয়ে। আজ রাজধানীর জুরাইনের ওয়াসা লেনে ফাহিম (২৮) ও মীমের (২৬) বিয়ের আসরে শরবত নিয়ে আপত্তি তুলে বরপক্ষ বিয়ে ভেঙে চলে যেতে চাইলে তা নিয়ে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে জুরাইন এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঢাকা ওয়াসায় প্রকৌশলী হিসেবে যুক্ত হওয়া ফাহিম এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করা মীমের বিয়ের কথা ছিল আজ। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের শেষে এই বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়। সম্প্রতি ফাহিম ওয়াসায় চাকরি পাওয়ার পর দুই পক্ষই তোড়জোড় শুরু করে বিয়ের জন্য। অবশেষে ২৩ এপ্রিল ধার্য করা হয় বিয়ের তারিখ।

পাত্রের মামা জানায়, দুইজনের মাঝেই গত ছয় মাসে ভালো বোঝাপড়া হয়েছিল। তাই আর তারা ছেলের চাকরি পাওয়ার পর আর দেরি করেনি। কিন্তু বিয়ের দিন মিরপুর থেকে বরযাত্রী এসে পৌঁছালেই সব বিড়ম্বনার শুরু হয়। বরপক্ষকে গেটে আটকানো হলে রীতি অনুযায়ী শরবত দিয়ে আপ্যায়ন করে চাঁদা দাবি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা চাইছিল, তাতেও আমরা কিছু মনে করি নাই। কিন্তু যখন শরবত দেখলাম, তখনই আমাদের ছেলে বুঝতে পারল এইটা ওয়াসার পানির শরবত। সে তো ব্রিলিয়ান্ট ইঞ্জিনিয়ার। এইসব বুঝতে তার দেরি হয় নাই। এরপর কীভাবে আমরা এই ফ্যামিলির সাথে সম্বন্ধ করি।’ তিনি জানান, তাদের সন্দেহ মেয়ের সাবেক প্রেমিকের সাথে এখনো তার যোগাযোগ আছে, সেই এমন কাজ করেছে।

অন্যদিকে পাত্রীর চাচা এই অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘কয়দিন আগেই না ওয়াসার এমডি বলছে তাদের পানি সুপেয়! আমরা জুরাইনের মানুষরা এমনিতেই ওয়াসার পানি দিয়া শরবত বানানোর জন্য বিখ্যাত। তারা যখন পাত্রী দেখতে আসছিল তখনো তো এই পানি দিয়েই শরবত দিছিলাম। ছেলের মা তো শরবত খাইয়া বলছিল, খুব ট্যাশ। এখন এইসব বলে কেন?’ তিনি বরং পাল্টা অভিযোগ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘ছেলে মনে হয় আগের প্রেমিকারে বিয়া করতে চায়। এইজন্য সে এখন এইসব নাটক করতেছে।’

আবার অন্য একটি অবিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাত্রপক্ষের অভিযোগের স্বপক্ষে জানা গেছে, মীমের প্রাক্তন প্রেমিক প্রতিশোধের জের ধরে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। প্রাক্তন প্রেমিক জানতেন যে, ওয়াসায় কাজ করা কেউই এমডির মতই ওয়াসার পানি দিয়ে বানানো শরবত পান করেন না।

শরবত কেলেংকারির এক পর্যায়ে পাত্রীপক্ষের এক মুরুব্বির কথার জের ধরে দুই পক্ষের মাঝে বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে পরবর্তী সময়ে কেউ আর আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি। কনেপক্ষের নামে ওয়াসার পানির শরবত খাইয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে বিশেষ পুলিশি প্রটেকশনে তাদের মিরপুর ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়। ফেরার পথে জুরাইনের অলিতে গলিতে সব বাড়ির ছাদ-জানালা-বারান্দা থেকে ‘শেম শেম’ ধ্বনি শোনা যায়।

 

আরও পড়ুন-

৫০৭ পঠিত ... ২১:০০, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

Top