মঙ্গলে ওয়াসার ১০০ ভাগ সুপেয় পানি খুঁজে পেলো নাসা, বসতি স্থাপন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র

৭২৭ পঠিত ... ১৭:০৯, এপ্রিল ২১, ২০১৯

এই মাত্র কদিন আগেই ব্ল্যাকহোলের ছবি তোলার মাধ্যমে স্থাপিত হলো মানববিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব অগ্রযাত্রার মাইলফলক। সেই রেশ যেতে না যেতেই মানুষের মহাকাশ আবিষ্কারের ইতিহাসে খুলে গেলো নতুন সাফল্যের দুয়ার। মঙ্গলে পানি পাওয়ার খবর তো অনেক পুরোনো, এবার মঙ্গলে পাওয়া গেছে ওয়াসার ১০০ ভাগ সুপেয় পানি! মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে মানব সভ্যতার এই অনুপম সাফল্যের কথা।

নাসার এক কর্মকর্তা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘মহাকাশে ব্ল্যাকহোলের ছবি তোলার পথে আমাদের ফটোগ্রাফার এদিক ওদিক আরও কিছু ছবি তোলেন। এমনই একটি ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের লাল মাটির গর্তে জমে আছে অত্যন্ত বিশুদ্ধ পানি। পানির স্বচ্ছতা, ঘনত্ব, সুপেয়তার পার্সেন্টেজ ও আলোর প্রতিসরণের প্রকৃতি গবেষণা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি ওয়াসার ১০০ ভাগ সুপেয় পানি। চিয়ার্স হিউম্যান, ইটস টাইম ফর এ ট্রিপ টু মঙ্গল!’

এই পর্যায়ে তিনি তার মোবাইলের ক্যামেরায় তোলা মঙ্গলে জমা ওয়াসার পানির একটি সিঙ্গেল ছবি এবং সেই মনোরম টলটলে পানির সাথে তোলা তার একটি সেলফি দেখান।

মঙ্গলে ওয়াসার পানি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মঙ্গলযাত্রার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নাসা। অতিরিক্ত উত্তেজনায় নাম বলতে ভুলে যাওয়া নাসার আরেক কর্মকর্তা দুই গ্লাস পানি খেয়ে জানান, ‘মিনারেল ওয়াটারে আর স্বাদ পাই না। মঙ্গলে গিয়ে ডাইরেক্ট ওয়াসার পানি খাবো। আই এম সো এক্সাইটেড। ভাবতেই জিভে ওয়াসার জল এসে যাচ্ছে।’

হয়তো অতি আনন্দের বশবর্তী হয়েই তিনি এই পর্যায়ে ‘বাড়ি আমার নাসা, পানি খাব ওয়াসা’ টাইপ শিশুতোষ ছড়া কেটে এরপর বলেন, 'ওয়াসার পানি খুব ট্যাস।'

মানুষের আসন্ন মঙ্গল বিজয়ের ইতিহাসে এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আনন্দ চাপা রাখতে পারেননি স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কও। হাতের গ্লাসে থাকা পানীয়ের সঙ্গে হালকা মিনারেল ওয়াটার মিশিয়ে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলে এতদিন পানি পাওয়া গেলেও, পানি ফুটানোর কোনো সিস্টেম পাওয়া যায়নি। কিন্তু ওয়াসার সুপেয় পানি পাওয়ায় এখন সেই সমস্যাও দূর হলো। মঙ্গলে বসতি স্থাপন এখন ওয়াসার সুপেয় পানির মতো সোজা।’

জানালেন তিনি কিছু ওয়াসার পানির মতো স্বচ্ছ পরিকল্পনার কথাও, ‘মঙ্গল থেকে ওয়াসার পানি অন্যান্য গ্রহেও রপ্তানি করা গেলে পুরো মহাবিশ্বেই বসতি স্থাপন করা সম্ভব। মানবসভ্যতা ও বিজ্ঞান একটা জায়গায় আটকে ছিল, আজ সেই সীমাবদ্ধতা ঘুচে গেলো।’

একটু দম নিয়ে হাতে থাকা গ্লাসে চুমুক দিয়ে বাকি অংশ ছুড়ে ফেলে বলেন, ‘ধুর, ওয়াসার পানি ছাড়া তৃপ্তি পাই না। পানি-টানি যা খাওয়ার মঙ্গলে গিয়ে খাবো। মঙ্গলে যাওয়ার তাড়নাটাও যেন এখন বেশি বোধ করছি, রিয়েলি কান্ট ওয়েট।’

বিজ্ঞানীরা স্বপ্ন দেখছেন, সুপেয় ওয়াসার পানির বদৌলতেই মঙ্গলে গড়ে উঠবে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসতি। তবে অন্যরকম ভাবনাও দেখা গেছে কিছু হেটার্স বিজ্ঞানীর মধ্যে। এমন একজন বিজ্ঞানী জানান একটি আশঙ্কার কথা, ‘হতে পারে ওয়াসার সুপেয় পানির আধিক্যের কারণেই মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব গড়ে ওঠেনি।’ ওয়াসার এমডি সাহেবের পানি ফুটিয়ে খাওয়া সংক্রান্ত মন্তব্যকে সমর্থন করে তিনি মঙ্গলে পাওয়া ওয়াসার পানিও ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন।

 

আরও পড়ুন-

৭২৭ পঠিত ... ১৭:০৯, এপ্রিল ২১, ২০১৯

Top