রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের বাংলা প্রশ্নে মিয়া খালিফা ও সানি লিওনের যে অভূতপূর্ব পরিচয় পাওয়া গেলো

৩৯৬৩ পঠিত ... ২০:১১, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে অভূতপূর্ব কিছু প্রশ্নের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রশ্নপত্রটিতে মিয়া ‘কালিফা’ এবং সানি লিওন নামের দুইজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের নিয়ে আলোচনায় ফেসবুকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

ছবি: সারা বাংলা ডটনেট

১৭ এপ্রিল (বুধবার) অনুষ্ঠিত এই বাংলা পরীক্ষায় একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম। সেখানে সম্ভাব্য উত্তর হিসেবে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও ছিল শফিউল চন্দ্র, সুবির চন্দ্র এবং বিশেষভাবে আলোচিত মিয়া কালিফার নাম। অন্য একটি প্রশ্নে ‘আম আঁটির ভেপু’-র রচরিয়াত নাম জিজ্ঞেস করা হয়। সেখানে অপশন হিসেবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ছিল বনফুল, কবীর চৌধুরী এবং সানি লিওনের নাম। কোন এক অজানা কারণে প্রশ্নপত্রের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হতে থাকে এবং সকলেই সানি লিওন ও মিয়া কালিফাকে নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। এমন দুজন অজানা মানুষের নামে হঠাত কেন এতো মাতামাতি তা নিয়ে কৌতূহলী হয়ে পড়ে eআরকি।

eআরকির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পাওয়া যায়, ইতিহাসের পাতায় ঠাই না পাওয়া দুজনের কীর্তি। প্রশ্নে মিয়া কালিফা নামটি থাকলেও ফেসবুক থেকেই আমরা নিশ্চিত হতে পারি, নামটি মিয়া খালিফা। ইন্টারনেটের অলিগলি খুঁজে জানতে পারা যায়, এই নারীর আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট দেশ লেবাননে। লেবাননের এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক দর্জি পরিবারে জন্মগ্রহণ করে খুব অল্প বয়সেই দর্জির কাজ করে সুনাম অর্জন করেন। পারিবারিক সূত্রেই দর্জি অর্থাৎ খালিফা টাইটেল পান তিনি। কিন্তু দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।

আমেরিকার ম্যারিল্যান্ড রাজ্যের মন্টগোমেরি অঞ্চলে বসবাস শুরু করে সেখানেও কাপড় সেলাই চালিয়ে যান। নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে টেইলর হিসবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আমেরিকার বুকে। টেক্সহাব, ফ্যাশনটিউব ইত্যাদি বিশ্বখ্যাত পোশাকনির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে মিয়া খালিফার খ্যাতি আমেরিকা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। এখন অবশ্য এই কাজ থেকে অবসর নিয়ে একান্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কানাডার অন্টারিওতে ভারতীয় বাবা-মায়ের ঘরে ১৯৮১ সালে জন্মান সানি লিওন। তখন নাম ছিল কারেনজিত কৌর ভোহরা। কৈশোরের শুরুতে পরিবারের সাথে চলে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে। মিশিগানে স্কুল জীবন শেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় এসে ডাক্তারি পড়ালেখা শুরু করেন। অল্প দিনের মাঝেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেন একজন সম্ভাবনাময় চোখের ডাক্তার হিসেবে। যোগ দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায়। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

জাতিসংঘের সাথে কাজ করতে আসেন যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ সিয়েরা লিওনে। ছোট্ট দেশটিতে শত বিপদ মাথায় নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করাতে থাকেন। সিয়েরা লিওনের মানুষদের চোখের ছানি দূর করে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে ‘সানি লিওন’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তখন থেকে বিশ্বব্যাপী তিনি এই নামেই পরিচিত। পরবর্তী জীবনে তিনি বাবা-মায়ের দেশ ভারতে ফিরে আসেন এবং সিনেমায় ক্যারিয়ার গড়েন। দৃষ্টির নতুন দিক উন্মোচনের সানি লিওনের কাজকর্মের সেসব ভিডিও আজও বিশ্বজুড়ে মানুষ দেখে থাকে।

এই প্রশ্নপত্রে আরেকটি প্রশ্ন ছিল বিখ্যাত সাহিত্যিক ও জমিদার প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোথায় তা নিয়ে। পাবনা, যশোর কলকাতার পাশাপাশি আরেকটি অপশন ছিল ঢাকার বলদা গার্ডেন। ঢাকা বিষয়ক বিভিন্ন প্রাচীন বই এবং পত্রিকা খুঁজেও বলদা গার্ডেনের অস্তিত্ব না পাওয়ায় এটি নিয়ে পাঠকের আগ্রহ মেটাতে পারছে না বলে eআরকি যারপরনাই দুঃখিত।

৩৯৬৩ পঠিত ... ২০:১১, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

Top