আসামীকে গ্রেফতার করার সুবিধার্থে বিএনপিকেই সব ক্রাইম করার অনুরোধ জানালো পুলিশ

২৭৭০ পঠিত ... ১৯:৫০, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

১৭ এপ্রিল (বুধবার) নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ঢুকে মাদকসেবন ও ইভিটিজিংয়ের দায়ে আটক দিদারকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা সুজয়। পুলিশ দিদারকে ছাড়তে অস্বীকার করলে সুজয় ও তার সহযোগীরা ৩ পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। পরে থানার ওসি আক্তার হোসেন এসে সুজয় ও দিদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন দুপুরে এবং বিকালেই তাদের ছেড়ে দেন। হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের নিজেদের লোক দাবি করে ওসি বলেন, 'কালকে এমপি সাব আমেরিকা গেছে। সব নিজেরা নিজেরা। বিএনপি হইতো একটা কথা আছিলো, ব্যবস্থা নিতে পারতাম।' খবর: যুগান্তর।

এ খবরে বিহ্বল হয়ে পড়ে eআরকির ক্রাইম ইউনিট। তারা ছুটে যায় ঘটনাস্থলের দিকে। সেখানে বেশ চাঞ্চল্যকর অবস্থা দেখা যায়। বিএনপি ছাড়া অন্য কোন দলের লোকজনকে কি থানায় আর নিয়ে আসা হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য eআরকিকে বলেন, ‘অবশ্যই আনা হবে! আপনার কেন মনে হচ্ছে আমরা আর কাউকে থানায় আনব না?’ থানার ওসির বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই থানায় আনা হবে। কিন্তু তাকে আটকে রাখা সম্ভব না। ওসি স্যারের কথার বাইরে তো আমরা যেতে পারি না। থানায় যে কেউই এসে চা-সিগারেট খেতে পারবেন। এতে কোন সমস্যা হবে না।’

কিন্তু থানায় ঢুকে পুলিশকেই মারধরের ব্যাপারে জানতে চাইলে অন্য এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘দেখেন, পুলিশের একটা নেগেটিভ ইমেজ দাঁড়াইয়া গেছে। এইভাবে তো চলতে পারে না। তাই একটু আধটু মারধোর খাইতে হয়।’ কিন্তু মারধোরের সাথে ইমেজ পুনরুদ্ধারের কী সম্পর্ক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলা সিনেমায় দেখেন নাই যে, নায়ক ভিলেনের হাতে মাইর খাইলেই নায়িকা তার প্রতি দুর্বল হয়! তাই আমরাও একটু মাইর খাইলাম। এখন যদি ইমেজ উদ্ধার হয়!’

তাহলে কি আইনের হাত এতটাই ছোট যে পুলিশ ভিকটিম হলেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না? এই প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সদস্য জানান, 'সব ক্রাইম বিএনপি করলে এইসব সমস্যা হইত না। দেখতেন সেকেন্ডের মধ্যে অপরাধী গ্রেফতার হয়ে যেত। মারপিট, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, খুন-ধর্ষণ সব ধরনের অপরাধই বিএনপির কর্মীদেরকে করার আহ্বান জানাচ্ছি। অপরাধী অবশ্যই আইনের হাতে ধরা পড়বে। সময় এসেছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি কর্মীদের এগিয়ে আসার।'

এ নিয়ে থানার ওসি আক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অবিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তিনি এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক বিএনপি কর্মীর পুকুর থেকে ইলিশ মাছ চুরির ঘটনায় তদন্তে ব্যস্ত। সেখান থেকে এক ক্ষমতাসীন নেতার ক্ষেত থেকে মূলা চুরির তদন্ত করে তিনি যাবেন এক বিএনপি নেতার সরিষা ক্ষেতে ভূতের উপস্থিতিসহ আরও বেশ কিছু কাজে তিনি ব্যস্ত থাকবেন। ওসির ফিরতে ফিরতে অন্তত দুইদিন লাগবে বলেই জানা যায়।

[eআরকি একটি স্যাটায়ার ওয়েবসাইট। এখানে প্রকাশিত খবর বিশ্বাস তো দূরের কথা, অবিশ্বাসও করবেন না।]

২৭৭০ পঠিত ... ১৯:৫০, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

Top