জাবিতে চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে দুই ব্যাঙের বর্ণাঢ্য বিয়ের আয়োজন

৬১১ পঠিত ... ২০:৩৭, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

১৩ এপ্রিল অর্থাৎ ৩০ চৈত্র (শনিবার) তারিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে গেল এক অভূতপূর্ব বিয়ের অনুষ্ঠান। নতুন আর পুরনো কলাভবনের দুই ব্যাঙের বিয়ের আগে পানচিনি অনুষ্ঠান হয়ে গেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বছরকে বিদায় জানানো হয়। জাবির শিক্ষার্থীরা গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ব্যাঙের ‘এংগেজমেন্ট’এর মাধ্যমে দিনটিকে পালন করলেন। eআরকির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আন্‌ নাসের নাবিল বিয়ের অনুষ্ঠান ঘুরে এসে জানালেন এই অভিনব আয়োজনের কথা।

পুরাতন কলার ছেলে ব্যাঙের সাথে নতুন কলার মেয়ে ব্যাঙের বিয়ের কথাবার্তা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। অবশেষে গুরুজনদের ইচ্ছায় কনেকে আংটি পরিয়ে বিয়ের কথাবার্তা পাকা হলো শনিবার। হিন্দু রীতিতে এই বিয়ে হবার কথা। তাই সেই রীতি অনুযায়ী পানচিনি অনুষ্ঠানে কনের বাড়িতে কনেকে আংটি পড়িয়ে দেন বরের পিতা নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক। কনের বাড়ি নতুন কলায় এই আয়োজন হয়ে যায়। এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনের বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিয়ার জামানসহ দুই কলা ভবনের শিক্ষার্থীরা। আরও ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

বিকাল তিনটার পর পুরনো কলা থেকে বরপক্ষের নতুন কলাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, বৃষ্টির কারণে বেশ কিছুক্ষণ দেরি হয়ে যায়। এ নিয়ে স্বভাবতই কনেপক্ষ কিছুটা উত্তেজিত ছিল। তা ছাড়াও পুরান কলার লেকে বরের ‘প্লেফ্রগ’ হিসেবে ‘নামডাক’ ছিল বলেই জানা যায়। সেটি নিয়েও অনেক কানাঘুষা চলেছে কনেপক্ষের লোকজনের। পরে বিকাল চারটার পর মুখে রুমাল চাপা দেওয়া বরকে দেখা যায় কনেবাড়িতে প্রবেশ করতে।

পুরান কলার লেকের অগণিত মেয়ে ব্যাঙের মন ভেঙে খানখান হয়ে গেছে, বলছিলেন কনেপক্ষের এক অতিথি। অন্য এক মুরুব্বি বলেন ‘পোলাটা ভালোই, শুধু এ পুকুর ও পুকুর ঘুরে বেড়াত।’ কিছুদিন আগেও নাকি ছেলের প্রেম ছিল সমাজ বিজ্ঞানের এক মেয়ে ব্যাঙের সাথে। এমন গুজবও ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে।

 

আবার কনেকে নিয়েও বেশ কথাবার্তা চলেছে বরপক্ষের মাঝে। জানা গেছে, বিসিএস ক্যাডার ব্যাঙের প্রস্তাব পেয়ে মেয়ে আগের প্রেমিকের সাথে ছয় সপ্তাহের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এর সাথে কনের বাড়ি অর্থাৎ নতুন কলায় অনুষ্ঠানের সময় বিদ্যুৎ ছিল না, খাবারও ছিল না। এসব অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুদ্ধ ছিলেন বরপক্ষের মানুষজন। তবে কমলা রঙের মেয়ে ব্যাঙকে ঘোমটা মাথায় দেখে অনেকেই এসব তিক্ততা ভুলে যান।

 

 

 

এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো হওয়া এই আয়োজনের মূল কাজটি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা। কয়েকশ মানুষকে নিয়ে হয়ে যাওয়া এই ব্যাঙের বিয়েতে ছিল প্রাণবন্ত এক বিতর্ক এবং ঝগড়াও। ঝড়-বৃষ্টিতে কিছুটা ঝামেলা হলেও সামনের আষাঢ় মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিয়েতে এমন ঝামেলা হবে না বলেই জানিয়েছেন কনেপক্ষের গুরুস্থানীয় লোকেরা।

৬১১ পঠিত ... ২০:৩৭, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

Top