না জানার অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে জন স্নো'র

৭৭৯ পঠিত ... ১৬:০২, এপ্রিল ১১, ২০১৯

আসছে ১৪ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময়ে ১৫ এপ্রিল সকাল ৯ টায়) সম্প্রচারিত হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর শেষ সিজন। বিশ্বজুড়ে টিভি সিরিজ দর্শকদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। কীভাবে শেষ হবে এই মহাকাব্য, কে আয়রন থ্রোনে বসবে, আর কোন কোন চরিত্র শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে, তা নিয়ে বিভিন্ন থিওরির শেষ নেই।

আয়রন থ্রোন দখল বা বাঁচা-মরা নিয়ে নয়, eআরকি দলের ভাবনা ঘিরে আছে জন স্নোকে ঘিরে। নাইটওয়াচের লর্ড কমান্ডার, খালিসির প্রেমিক বা আনডেড আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার পরেও তাকে আমরা ‘কিচ্ছু জানে না’ জন স্নো পরিচয়েই চিনি। দ্বিতীয় সিজনের সপ্তম এপিসোডে জন স্নোকে বলা ইগ্রিটের সেই ‘ইউ নো নাথিং জন স্নো’ মন্তব্যটির পর আমাদের প্রথম নজরে আসে তার এই অজ্ঞানতার কথা। কেন তিনি কিছু জানেন না? এত কিছু পেলেও জ্ঞান কেন তার কাছে আজও অধরা? এসব জানতে eআরকি বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে নেমে যান সেভেন কিংডমের মাঠে।

প্রথমে আমরা ছুটে যাই উইন্টারফেলের তুষারশুভ্র রাজ্যে। সেখানে আমরা জন স্নোর বাল্যকাল নিয়ে জানতে গিয়ে আবিষ্কার করি এক মর্মস্পর্শী তথ্য। স্টার্ক ভাইবোনদের সাথে একসাথে বেড়ে উঠলেও, নেড স্টার্কের বৈধ সন্তান না হতে পারার কারণে অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হতে হয় তাকে। উইন্টারফেল পাঠশালায় একসাথে ক্লাস করলেও তার সৎ ভাইবোনেরা তাদের পড়াগুলো বাসায় রাখা ম্যাইস্টার আর সেপ্টাদের কাছে আবার বুঝে নিতো। কিন্তু সৎ মা ক্যাটলিন স্টার্কের বিরাগভাজন হওয়ার কারণে সেই সুযোগ পায়নি জন স্নো। তখন থেকেই তার সেই পিছিয়ে পড়া শুরু।

তার বাল্যকালের এই করুণ ইতিহাসের কথা জেনে eআরকি দল ছুটে যায় জন স্নোর সাথে কথা বলতে। জন তখন খালিসির সাথে গোপন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্যস্ত থাকলেও eআরকির কথা শুনে তিনি বের হয়ে আসেন কথা বলতে। নিজের বৈঠকখানায় নিয়ে তিনি আমাদের সাথে বসেন। শৈশবের দিনগুলির কথা তুলতেই ছল ছল চোখে তিনি আমাদের বলেন, ‘ক্লাসে এতজনের মাঝে বসে সবসময় শিক্ষকদের পড়ানো বুঝতে পারতাম না। আর বাড়ি ফিরে যদি ভাই রব স্টার্কের সাথে বসে ম্যাইস্টারের কাছে না বুঝা পড়াগুলো বুঝতে চাইতাম, তখন ক্যাটলিন পড়ার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিতো। অজ্ঞতার আঁধারেই আমি এক্কা দোক্কা খেলতাম। সব ভালো কোচিং সেন্টার কিংস ল্যান্ডিংয়ে ছিলো বলে কোচিং করার সৌভাগ্যও হয়নি। এভাবেই অর্ধজ্ঞান নিয়ে বড় হয়ে উঠলাম। নিজের উপর চলে এসেছিলো হতাশা। অভিমান করে উইন্টারফেল ছেড়ে চলে গেলাম নাইটস ওয়াচে। সেখানে কিছুদিন পর পরিচয় হয় মুক্তমনা মেয়ে ইগ্রিটের সাথে।’

এ পর্যায়ে আমাদের আপ্যায়ন করতে খালিসি এক বাটি ড্রাগনফ্রুট নিয়ে এলে জন স্নো ইগ্রিটের ব্যাপারে কথা বলা থামিয়ে তার দিকে একটি লাজুক হাসি দেন। খালিসি কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর জন আবার শুরু করেন, ‘ইগ্রিট আমার সাথে কথা বলেই বুঝে গিয়েছিলো, আমার অনেক কিছুতেই বেসিক ক্লিয়ার না। তাই সে আমাকে বলে “ইউ নো নাথিং জন স্নো!” এই কথাটি শোনার পর আমি টের পেলাম, সত্যিই তো আমি কিছু জানি না! কিন্তু আমাকে তো জানতে হবে, শিখতে হবে। এসব নিয়েই ভাবতে থাকলাম। মনের মধ্যে জেগে উঠলো জ্ঞানের তৃষ্ণা। কত কি জানার আছে বাকি! অজ্ঞতা নিয়ে মরেও শান্তি পাইনি। তাই আবার জেগে উঠেছিলাম। জ্ঞান অর্জন করতে সুদূর মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে এসেছি। এক পর্যায়ে আমার দেখা হয় টিরিয়ন ল্যানিস্টার আর লর্ড ভ্যারিসের সাথে। কিংস ল্যান্ডিং থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা খালিসির উপদেষ্টা পদ পেলেও, বসে বসে মাছি ছাড়া তেমন কিছু করার পাচ্ছেন না। এ সুযোগে তাদের আমি একটি প্রস্তাব দিয়েছি। তারা এতে যথেষ্ট উৎসাহও দিয়েছেন।’

কী এই নতুন প্রস্তাবনা? জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন, ‘ভালো কোচিং না থাকায় আমি কিছু না জানা জন স্নো হয়ে বসে আছি। আমাদের উত্তরায় সিটাডেলও নেই, কিংস ল্যান্ডিংয়ের মতো ভালো কোচিং সেন্টারও নেই। টিরিওন, ভ্যারিস দুজনই শিক্ষিত লোক। শোনামাত্র তারা এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। ভেবেছি কোচিংটার নাম রাখবো নর্থস্টার কোচিং সেন্টার। সেখানে পড়াবে সিটাডেলের ভাইয়া স্যামওয়েল টার্লির মতো আরো অনেক তরুণ। আমার মতো যেন আর কোন বালককে জ্ঞানের অভাবে ভুগতে না হয়, আর কেউ যেন লালকেশী কোন নারীর  “ইউ নো নাথিং জন স্নো”র মতো উপহাস শুনতে না হয়, তার জন্যই চালু হবে এই নর্থস্টার কোচিং।’

চলতি শীতকাল থেকেই নর্থস্টার কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী পরিচালক টিরিওন ল্যানিস্টার। তবে আসন্ন যুদ্ধের কারণে কোচিং সেন্টারে পাঠদান কিছুদিন পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছেন নির্বাহী কর্মকর্তা লর্ড ভ্যারিস। তবে তিনি জানিয়েছেন, সিটাডেল ভার্সিটির ভাইয়ারা উইন্টারফেলের দিকে রওনা হয়েছেন।

৭৭৯ পঠিত ... ১৬:০২, এপ্রিল ১১, ২০১৯

Top