ঢাকা-রাজশাহী নতুন ট্রেন 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এ করেই নাটোর যেতে চান জীবনানন্দ দাশ

৬৬৯ পঠিত ... ২০:১৬, এপ্রিল ১০, ২০১৯

রাজশাহী-ঢাকা নতুন বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেনের নাম রাখা হচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। বুধবার নতুন ট্রেনের এ নামটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে রেল মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে

খবরটি শুনতেই আমাদের মনে পড়ে যায় বনলতাভক্ত কবির কথা। বুঝতেই তো পারছেন, জীবনবাবু! নাটোরগামী নতুন এই ট্রেন চালু হওয়ার খবর তার কান পর্যন্ত গেছে তো? ভাবতে ভাবতে ফেসবুকে তার ফেক প্রোফাইল স্টক করতে গিয়ে দেখা গেলো, কিছুক্ষণ আগেই কমলাপুর রেলস্টেশনে চেক ইন দিয়েছেন তিনি। তাই একেবারেই বিলম্ব না করে আমরা ট্রাম, ট্রাক বা বাস সবধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়ে পৌঁছে যাই কমলাপুরে।

স্টেশনে ঢুকতেই আমাদের চোখে পড়ে, প্লাটফর্মের উপর উদাস মুখে হাঁটাহাঁটি করছেন জীবনানন্দ দাশ। আমরা কাছে এগিয়ে যেতেই তিনি বিরক্ত মুখে বললেন, 'পহেলা বৈশাখে বনলতায় করে নাটোর যাবো ভেবেছিলাম। এরা নাকি আরও পরে ট্রেন চালু করবে। এবারও মনে হয় নাটোর পর্যন্ত হেঁটেই যাওয়া লাগবে।'

এই ট্রেন কি আদৌ নাটোর যায়, খোঁজ নিয়েছেন? এমন প্রশ্ন শুনে জীবনবাবু কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে বলেন, 'বনলতা এক্সপ্রেসকে যদি নাটোর না যায়, ব্যাপারটা ঠিক নক্ষত্রের মৃত্যুর মতোই করুণ। নক্ষত্রকেও একদিন মরে যেতে হয়, হয় নাকি?'

নাটোর পর্যন্ত বাসে করে গেলে সমস্যা কী, এমন প্রশ্ন করলে কবি গম্ভীর হয়ে বলেন, 'তোমাদের শহরের বাসচালকরা তো একেবারে কলকাতার ট্রামচালকদের মতো! সড়ক দুর্ঘটনায় একবার মরেছি, আবার মরতে চাই না। হেঁটে চলে যাওয়াই ভালো।'

হাজার বছর ধরে আপনি হাঁটছেন, আর কত? উত্তরে কবি বললেন, 'বনলতার অপেক্ষাতেই তো এত বছর ধরে হেঁটেছি! এখন বনলতায়, আই মিন বনলতা এক্সপ্রেসে চড়বো। এই বয়সে এত বেশি হাঁটাহাঁটি সহ্য হয় না। বনলতায় চড়েই দুই পা-কে দু দন্ড শান্তি দিতে চাই!'

পহেলা বৈশাখের প্ল্যান কী? কবি এই প্রশ্ন শুনে সাময়িক উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, 'বনলতার জন্য অনলাইন থেকে একটা বৈশাখের শাড়ি কিনেছি। আমার জন্য আমার কবিতা-টবিতা লেখা একটা পাঞ্জাবি কিনলাম। বেঁচে থাকতে নিজের লেখা কোথাও তেমন প্রকাশ হতে দেখতাম না তো, এখন এখানে ওখানে দেখলে ভালো লাগে।'

'বনলতা ভাবিকে বইলেন জিগাইছিলাম', এমন ফ্রেন্ডলি কথায় কবি আবারও বিরক্ত হয়ে 'কী কথা তাহার সাথে? তার সাথে?' এমন প্রশ্ন করলে আমরা দ্রুত বিদায় নিই।

৬৬৯ পঠিত ... ২০:১৬, এপ্রিল ১০, ২০১৯

Top